অন্তহীন সমস্যায় শ্রীবরদী হাসপাতাল

sherpurশাকিল মুরাদ, শেরপুর প্রতিনিধি : স্বাধীনতার পর থেকে এ হাসপাতালের ভবন, টেকনিক্যাল যন্ত্রপাতি, ওষুধের বরাদ্দসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বেড়েছে। কিন্তু রয়েছে অন্তহীন সমস্যা। নানা কারনে বাড়েনি স্বাস্থ্য সেবার মান। ডাক্তার, চিকিৎসা , নার্স ও ওয়ার্ডবয় সংকট। ঔষধ স্বল্পতা ও শব্দ দূষণসহ অন্তহীন  সমস্যার মধ্যদিয়ে চলছে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এসব সমস্যায় ভুক্তভোগী উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষ। সেবা নিতে আসা অনেক রোগী হতাশাগ্রস্থ হয়ে যাচ্ছে শেরপুর সদর হাসপাতাল বা ময়মনসিংহে। কেউ থাকেন  চিকিৎসা বাণিজ্যে আসা শুক্রবারের ডাক্তারের অপেক্ষায়। আর দরিদ্ররা থাকেন চিকিৎসা সেবার বাইরে। সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে  ও অভিযোগে প্রেক্ষিতে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা যায়, শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৯৬৬ সালে প্রায় তিন একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। ৩১ শয্যার এ হাসপাতালটি বর্তমানে চার কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ছোট বড় চারটি ভবন নির্মানের মধ্য দিয়ে ৫০ শয্যায় উন্নীতের কাজ শেষ।  উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ডাক্তারের নয়টি পদ থাকলেও কর্মকর্তাসহ মাত্র দুই জন ডাক্তার দিয়ে দীর্ঘ চার পাচঁ বছর যাবত চলছে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এক দশক যাবত রয়েছে  চারজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও একজন আবাসিক ডাক্তারের পদ শূন্য। এ ছাড়াও শূন্য রয়েছে সাত জন ডাক্তার, ১০ জন চিকিৎসা সহকারী, তিন জন নার্স, দুই জন ওয়ার্ডবয় ও একজন নৈশ প্রহরীর পদ। চেম্বার ও ফার্নিচার সংকট চরমে।
অপরদিকে রানী শিমূল ইউনিয়নে উপজেলার একমাত্র ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মিত হয়  ১৯৯২ সালে। কিন্তু এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আজো কোনো ডাক্তার যায়নি।  উপজেলা সদর হাসপাতালের মূল ভবনসহ পুরনো আবাসিক ভবনগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্লাস্টার খসে পড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আবাসিক ভবনগুলিও খালি পড়ে আছে। তাছাড়া কম টাকা ভাড়া দিয়ে বাইরে আরো ভালো বাসা নিয়ে থাকা যায় বলে জানালেন হাসপাতালের  হিসাব রক্ষক বিল্লাল হোসেন। নির্ধারিত বাসস্ট্যান্ড থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালের প্রধান গেইট সংলগ্ন রাস্তাটাকেই বাসস্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করছে ভটবটি ও অটো চালকরা। এতে  ভটভটি, বাস, ট্রাকসহ  অন্যান্য যানবাহনের  ভিড় লেগেই থাকে হাসপাতারে সামনে। গাড়ির শব্দ, হর্ণ, কালো ধোঁয়া আর মানুষের ভিড়ের কারণে হাসপাতালের পরিবেশ যেমন বিপন্ন, তেমনি রোগীদের অবস্থাও করুণ। হাসপাতালের করিডোর, কম্পাউনেডর পরিত্যাক্ত স্থানগুলো  দিনের বেলা বিনোদন কেন্দ্র আর সন্ধ্যা নামলেই মাদকাসক্তদের পদচারনা লক্ষ্য করা যায়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এফএম কামরুজ্জামান জানান, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়টি কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। একবার রেজুলেশন হয়েছে, তবু আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কেন হস্তক্ষেপ করছেনা, বিষয়টি অজ্ঞাত।

প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে অনেক রোগীর আগমন ঘটছে। তাদের সেবা দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় জনবল ও ঔষধ সরবরাহ না থাকায় অনেকেই চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এফএম কামরুজ্জামান বার্তা টুয়েন্টিফোরকে জানান, বিভিন্ন সাব সেন্টারের ছয় জন সহকারী সার্জন এবং ১০ ইউনিয়নের ১০ জন চিকিৎসা সহকারী সহ ১২ জন চিকিৎসা সহকারী দিয়ে তিনি হাসপাতালের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে সাড়ে তিনশত রোগীর আগমন ঘটে এ হাসপাতালে। ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা থাকে গড়ে ২৫ থেকে ২৮ জন। এতো অল্প জনবল দিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা করতে গিয়ে কখনো তিনি নিজেই অসুস্থ্য হয়ে পড়েন বলে জানালেন তিনি। চিকিৎসা নিতে আসা ধাতুয়ার শহিনা (২৪), কলাকান্দার আমের আলী (৪০), মরিচাপাড়ার ছালেহা খাতুন (২০)সহ ২৫/৩০জন রোগী জানান, তাদেরকে ঔষধ বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়েছে। ভর্তিকৃত রোগী ভায়াডাঙ্গার কাজলী (৩৫), ফতেপুরের রিয়াজুল হক(৬৫)জানান, তাদের ঔষধ হাসপাতাল থেকে কিছুই দেয় না। সব বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহকৃত ঔষধ নিতান্ত অপ্রতুল। রোগীদের মধ্যে সাধ্য মতো ঔষধ বিতরণ করা হয়। ভর্তিকৃত রোগীদের ্ঔষধ বিতরণের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়। উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের চিকিৎসার ভরসারস্থল এই হাসপাতালের সার্বিক সংকট নিরসনে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ জরুরী বলে মনে করেন সচেতনমহল।