দলীয় কোন্দলে খুন অস্ত্র দেয় জাহিদ গুলি করে আবিদ

24971_f1বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরামকে দলীয় কোন্দলের কারণেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুর রহমান ওরফে জাহিদ চৌধুরী ও ৫নং ওয়ার্ড কমিশনার আবদুল্লা হিল মাহমুদ শিবুল’র নেতৃত্বে এ কিলিং মিশন বাস্তবায়ন করা হয়। একরামকে সরাসরি গুলি করে আবিদ। আবিদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিল জাহিদ চৌধুরী। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ৩ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর আবিদ পেয়েছে বিপুল অর্থ। আর তার সহযোগীরা প্রত্যেকে ১ লাখ করে টাকা পেয়েছে। হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল কয়েকটি উপ-গ্রুপ। একেক গ্রুপ একেক ধরনের দায়িত্ব পালন করেছে। আবিদের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা সবাই ছিল অস্ত্রধারী। তাদের কাজ ছিল গুলি করা। রুটি সোহেলের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা রাম দা, কিরিচ, চাপাতি দিয়ে সবাইকে কুপিয়ে জখম করে। কাওসারের নেতৃত্বে অপর একটি গ্রুপ গাড়িতে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর আগে বাসার সামনে থেকে অনুসরণ করে আরেক দল। হত্যাকাণ্ডের আগের দিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয় সালাম কমিউনিটি সেন্টারে সবার সঙ্গে বৈঠক করে জাহিদ চৌধুরী। শুক্রবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে একরাম হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়া আবিদসহ ৭ জনকে আটক করে র‌্যাব। পরে তাদের দেয়া তথ্য মতে, র‌্যাব ৭-এর অপর একটি দল ফেনী থেকে জাহিদ হোসেন নামে আরেক কিলারকে আটক করে। গতকাল দুপুরে র‌্যাব সদর দপ্তরে তাদের সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান এসব তথ্য জানান। তবে সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্র জানায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর বিষয়ে গোপন একটি তথ্য ফাঁস করে দিয়েছিল একরাম। এ কারণে একরামের ওপর ক্ষুব্ধ হন নিজাম হাজারী। এ কারণে নিজাম হাজারী তার ডান হাত শিবলুকে একরামকে সরিয়ে দেয়ার দায়িত্ব দেন। শিবলু ও জাহিদ চৌধুরী মিলে পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, ফেনীর নির্মম ও আলোচিত এ ঘটনার পর খুনিদের শনাক্ত করতে র‌্যাব কাজ শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও লোকজনের মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওদৃশ্য দেখে প্রাথমিকভাবে খুনিদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে শুক্রবার রাতে বুসন্ধরা আবাসিক এলাকার বি-ব্লকের ৫ নম্বর সড়কের ১৩৯ নম্বর বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে কিলিং মিশনে অংশ নেয়া আবিদুল ইসলাম আবিদ (২৩), জাহিদুল ইসলাম ওরফে সৈকত (২২), চৌধুরী নাফিজ উদ্দিন ওরফে অনিক (২০), কাজী শানান মাহমুদ (২৩), সাজ্জাদুল ইসলাম পাটোয়ারী ওরফে সিফাত (২৪), শাহজালাল উদ্দিন ওরফে শিপন (২২) হেলাল উদ্দিনকে (২৩) আটক করা হয়। আটকের পর তাদের নিয়ে সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ভোরে ফেনীর রামপুর এলাকা থেকে জাহিদ হোসেন নামে আরেক কিলারকে আটক করা হয়। র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জাহিদ চৌধুরী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হককে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ১৯শে মে রাতে তারা স্থানীয় সালাম কমিউটিটি সেন্টার ও জিমনেশিয়ামে বসে মিটিং করে। হত্যার পুরো পরিকল্পনা শেষে জাহিদ চৌধুরী আবিদের হাতে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দেয়। একটি অস্ত্র আবিদ নিজের কাছে রেখে বাকি চারটি শানান, সিফাত, সানী ও সৈকতকে দেয়। সকাল ৮টায় জিহাদ একটি গ্রুপকে ফেনীর মাস্টারপাড়া এলাকায় একরামের বাসার সামনে অবস্থান নেয়। একরাম তার বাসা থেকে বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে ওই গ্রুপটি জাহিদকে তা জানিয়ে দেয়। জাহিদ তা আবিদকে জানায়। আবিদ একাডেমি এলাকায় প্রস্তুতি নিয়ে রাখে। একরামের গাড়িটি দেখেই তা থামানোর জন্য পরিকল্পনা মতো একটি ইজি বাইক গাড়ির সামনে ঠেলে দেয়। একরামের গাড়িটি থামার সঙ্গে সঙ্গে রুটি সোহেলের নেতৃত্বে একদল গিয়ে রাম দা, চাপাতি, কিরিচ দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙে। তারপর একরামসহ অপর আরোহীদের কোপাতে থাকে। এর আগেই তারা সেখানে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। একই সঙ্গে আবিদের নেতৃত্বে অস্ত্রধারীরা গাড়িটি ঘিরে ফেলে। আবিদ কাচ ভাঙা জানালা দিয়ে কাছ থেকে একরামকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি করে। তার সহযোগীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। গুলি করে রাস্তার একপাশে চলে আসে আবিদ ও তার সহযোগীরা। এরই মধ্যে একরামের গাড়ি থেকে তার সহযোগীরা আহত অবস্থায় বাইরে বেরিয়ে আসে। আবিদ আবার গিয়ে একরামের লাইসেন্স করার অস্ত্র ও মোবাইল-মানিব্যাগ নিয়ে আসে। পরে তারা রাতেই আবার জাহিদ চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে। অস্ত্রগুলো জাহিদ চৌধুরীর কাছে জমা দেয়। এ সময় জাহিদ সবাইকে পালিয়ে থাকতে বললে তারা সবাই ঢাকায় এসে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় হেলালের বাসায় ওঠে। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে একজন বাদে সবাই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়ার কথা স্বীকার করেছে। ফেনীর সদর থানা পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে।
আটকের পর র‌্যাব হেফাজতে আবিদুল ইসলাম আবিদ জানান, তার বাবার নাম মৃত ফকরুল ইসলাম। সোনাগাজীর সোনাপুরে তাদের বাসা। ফেনীর স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী তার মামাতো ভাই। তার মা বড়মনি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি। আবিদ জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন রাত ৮টায় দীঘিপার এলাকায় আবিদ, শানান, রুটি সোহেল ও বক্কর বসে আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় জাহিদ সেখানে গিয়ে তাদের বলে একরামের সঙ্গে আমাদের ঝগড়া লাগবে। ঝগড়ার সময় একরামকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পাঞ্জাবি ছিঁড়ে দিতে হবে, মারধর করতে হবে এবং গাড়ি ভাঙচুর করতে হবে।
পরে রাতে সালাম কমিউনিটি সেন্টারে আবিদ নিজে শানান, শিফাত, সিপন, অনিক, সৈকত, সানি, মোহন ও রাহাত মিলে বৈঠক করে। জাহিদ তাদের পুরো পরিকল্পনার কথা বলে। আলোচনার প্রথমে একরামের গাড়ি ভাঙচুর ও মারধরের পরিকল্পনা করা হয়। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে জিহাদ তাকে ফোন দিয়ে মিজান রোডে ঈদগাহ্‌ ময়দানে যেতে বলে। সেখানে রুটি সোহেল, সে ও জাহিদ উপস্থিত ছিল। জাহিদ তাদেরকে বলে, একরামকে মেরে ফেলতে হবে। না হলে একরাম আমাকে মেরে ফেলবে। সেখানেই একরামকে চিরতরে সরিয়ে দেয়ার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়। সকাল আটটার দিকে সিফাত, শানান, সানি, রাহাত, মোহন, অনিক ও সৈকতকে নিয়ে একাডেমির সামনে যায়। সেখানে আগে থেকেই রুটি সোহেল  অবস্থান করছিল। তার সঙ্গে এ সময় মানিক, পাংকু আরিফ, ছুট্ট, বক্কর, আনিস, আসিফ, রকি, রাসেল, কাইয়ুম, নয়ন ছিল। তারা পিস্তলগুলো নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আলোচনা করে যদি লোকজন আসে তবে উপরে গুলি করতে হবে। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে তারা সবাই তিনজন, পাঁচজন, সাতজন, দশজন করে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পরই একরামের গাড়ি আসে। এ সময় আবিদ নিজে মানিক, পাংকু আরিফ, রুটি সোহেল, কাইয়ুম মিলে একরামের গাড়ির সামনে একটি টমটম ঠেলে দেয়। গাড়িটি থামা মাত্রই চারদিক থেকে সবাই রামদা, রড দিয়ে গাড়িতে মারা শুরু করে। ওই সময় গাড়িতে ইট মারা শুরু করে অন্যরা। চালক গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সড়ক বিভাজকে তুলে দেয়। এ সময় ভেতর থেকে একরাম গুলি করে। আবিদ জনায়, সে ও রুটি সোহেল গাড়ির বাম দিকে ছিল। শানান ছিল গাড়ির ডানদিকে। তারা প্রথমে ওপরের দিকে গুলি করতে করতে গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। পরে রুটি সোহেল ও সে গাড়ির ভেতরে গুলি করে। পরিকল্পনা মতো কিছুক্ষণের মধ্যেই পাপন, নয়ন ও তাদের সহযোগীরা কেরোসিন এনে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর আগে গাড়ির ভেতরে থাকা চালক ও অপর তিন জন বাইরে বেড়িয়ে আসে। অন্যরা তাদের কুপিয়ে আহত করে। পুরো অপারেশন চলে ২০-২৫ মিনিটের মতো। এরপরপরই শানানের পিস্তলটি নিয়ে বড়বাড়ী রোডের পুকুরের পাশে যায়। সেখান থেকে জিহাদ চৌধুরী তাদের কাছ থেকে পিস্তলটি নিয়ে নেয়। ওইদিন রাতেই তারা ঢাকায় চলে আসে।
আটককৃত শানান মাহমুদ জানায়, তার বাবার নাম কাজী কামাল উদ্দিন। ফেনীর বারাহিপুর নাজির রোডে তার বাসা। ২০১০ ফেনী সালাহউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় হতে এসএসসি এবং ২০১২ সালে ফেনী সরকারি কলেজ হতে এইচএসসি পাস করে। বর্তমানে সে ফেনী সরকারি কলেজে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। শানান জানায়, ঘটনার আগের রাতে আবিদ তাকে সকালে একাডেমিতে থাকতে বলে। আবিদের কথামতো সকালে সেখানে গিয়ে কাউছার, আসিফ, রাকীব, নাঈম, রুটি সোহেল ও তাদের বন্ধু-বান্ধবদের দেখে। আনুমানিক ৪০ মিনিট পর জিহাদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এসে আবিদের সাথে ১০-১২ মিনিট কথা বলে চলে যায়। আবিদ জানায়, উপজেলা চেয়ারম্যান একরাম ভাইকে মারা হবে। জাহিদ চৌধুরী তার নিজ এলাকায় উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিল। কিন্তু একরাম তাকে নির্বাচন করতে না দেয়ায় জাহিদ তার উপর ক্ষুব্ধ। আবিদ এ সময় সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলে, একরাম চেয়ারম্যানের গাড়িটি যে কোন মূল্যে থামাতে হবে। শানান বলে, একরাম চেয়ারম্যানের গাড়িটি আসার সঙ্গে সঙ্গে ময়লা ফেলার ট্রলি দিয়ে আসিফ ও কাউছার গাড়ির সামনে ব্যারিকেড দেয়। তখন গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে উঠে কাত হয়ে যায়। কাউছার ও আসিফের বন্ধুরা গাড়িতে কোপানো ও ইট দিয়ে ঢিল মারা শুরু করে। আবিদ ও রুটি সোহেল জানালা দিয়ে একরামকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। সামনে থেকে আমি ও সৈকত গাড়িতে গুলি করি। জাহিদ চৌধুরী ও শিবলু কমিশনার ৩০-৩৫ হাত দুরে থেকে সকল কার্যক্রম তদারকি করছিল। আগুন লাগানোর দায়িত্ব ছিল আমাদের জুনিয়র ব্যাচের। ঘটনার পরপরই আমি, সৈকত ও আবিদ আমাদের পিস্তলগুলো জিহাদকে ফেরত দেই। পরে আবিদরা ঢাকায় চলে গেছে জানতে পেরে পরের দিন আমিও ঢাকায় চলে আসি।
সেদিনের ঘটনা জানতে চাইলে আবিদ ও শানানের মতো একই বক্তব্য দেয় অনিক ও সিফাত। অনিকের বাসা একাডেমি রোডেই। বর্তমানে সে ফেনী গোল্ডেন পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা কোর্সে পড়ছে। আর সিফাতের বাসা ফুলগাজীর সেনা পুষ্করনী এলাকায়। সিফাত জানায়, এ ঘটনায় অন্তত ২০০ জন লোক অংশ নিয়েছিল। অনেক অচেনা ছেলেপেলেও সেখানে ছিল।  জাহিদুল ইসলাম ওরফে সৈকত জানায়, সে ধানমন্ডির ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ে। ঘটনার তিন দিন আগে সে ঢাকা থেকে ফেনীতে যায়। ঘটনার দিন সকালে চেয়ারম্যানের গাড়ি ফলো করার জন্য আসিফকে পাঠানো হয়। আসিফ কিছুক্ষণ পর আবিদকে ফোন করে চেয়ারম্যানের গাড়ি বের হয়েছে বলে জানায়। এই কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে আবিদ সবাইকে যার যার জায়গা মতো পজিশন নিয়ে দাঁড়াতে বলে। এ সময় আশেপাশে সশস্ত্র অবস্থায় আরও প্রায় ২৫-৩০ জন উপস্থিত ছিল। তাদের হাতে চাকু রামদা এবং লোহার রড় ছিল। এদের মধ্যে পিয়াস, মোহন, রাহাত, সানি, শাফায়েত, নাঈম, ছোট আসিফ, কাউছার, রাকিব, মিশাল, পাংকু আরিফ, রুবেল, শিপন, সিফাত, সানাম, ছোট্টু, রুটি সোহেল, মিয়া, বাপ্পি, এমান, রুপু, আসফাতসহ নাম না জানা আরও অনেকেই ছিল। আবিদের কথামতো সে জিমনেশিয়ামের ভেতরে গিয়ে বসে। সোয়া ৯টার দিকে জাহিদ চৌধুরী ও পৌর কমিশনার শিবলু এসে সবাইকে বলে, আর কিছুক্ষণ পরে  বিলাসী হলের সামনে একটি গাড়ি আসবে, এই গাড়িটি আসামাত্র আমরা ওই গাড়ির গতিরোধ করবো। এরপর পরিকল্পনা মতো চেয়ারম্যানের গাড়ি আটকানোর সঙ্গে সঙ্গে চতুর্দিক থেকে হামলা শুরু হয়। শাহ্‌ জালাল ওরফে শিপন জানায়, মিয়া, রুটি সোহেল, আবিদ, সৈকত, শানান পিস্তল দিয়ে একরাম চেয়ারম্যানকে গুলি করে। এরপর বাপ্পি, বক্কর, ইকবাল, রনি ও সাফায়েত রামদা দিয়ে একরাম চেয়ারম্যানসহ গাড়িতে থাকা লোকজনকে কোপাতে থাকে। সে নিজে একটি রামদা ও ছোরা নিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। এই রামদা ও ছোরা আগের রাতে শিপলু কমিশনার, জাহিদ চৌধুরী ও মিস্টার নামে একজন দিয়ে যায়। অস্ত্রগুলো স্টেডিয়াম জিমনেশিয়ামের পাশের ঘাসঝোপে রাখা হয়েছিল। হেলাল জানায়, সে আইইউবিতে বিবিএ’র ছাত্র। সিফাত তার স্কুল জীবনের বন্ধু। গত ২২শে মে সে তাকে ফোন করে ঢাকায় আসার কথা বলে। সে বাসার ঠিকানা দিলে সিফাত তার ছয় বন্ধুকে নিয়ে বাসায় আসে। পরে শুক্রবার রাতে র‌্যাব তাদের সবাইকে আটক করে নিয়ে যায়।