উল্টো পথে গেলেই চাকা ফুটো!

b98b5e4331b4456eb4df2fc03472389c-Traffic-1বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : ধরুন, রাজপথে যানজটে আটকে গেছে গাড়ি। ত্যক্তবিরক্ত চালক এ যাতনা থেকে পার পেতে উল্টো পথে গাড়ি ধাই করালেন। আর তখনই পটাস! ফেটে গেছে গাড়ির চাকা। গাড়ি থেকে নেমে চালকের চক্ষু চড়কগাছ। কাঁটাওয়ালা এক যন্ত্র ফুটো করে দিয়েছে চাকা। এটা হচ্ছে প্রতিরোধক যন্ত্র।
রাজপথে উল্টো পথে যানবাহন চলাচল ঠেকাতে বসানো হচ্ছে এই প্রতিরোধক যন্ত্র। ট্রাফিক বিভাগের তথ্যমতে, এ যন্ত্র বৈধভাবে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে একদিকে যেমন দুর্ঘটনা রোধে সহায়তা করবে, তেমনি যানজট কমাতেও সহায়তা করবে।
তীব্র যানজটে আটকে পড়া অনেক চালক এই দুর্ভোগ থেকে পার পেতে বিকল্প পথ খোঁজেন। বেছে নেন উল্টো পথ। এতে দুর্ঘটনা যেমন ঘটে, তেমনি যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগকেও হিমশিম খেতে হয়।
এই প্রবণতা ঠেকাতে পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিরোধক যন্ত্র বসানো হয়েছে রাজধানী ঢাকার হেয়ার রোডে। আজ বেলা ১১টায় এর উদ্বোধন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হাসান মাহমুদ খন্দকার।
ট্রাফিক (দক্ষিণ) বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোজা পথে চলার প্রতিরোধক যন্ত্রটি যেমন যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে, তেমনি উল্টো পথে গেলেই প্রতিরোধক যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত কাঁটাগুলো বিঁধে যাবে গাড়ির চাকায়। এমনটি ঘটলে চাকা ফুটো হওয়া গাড়ি নিয়ে রাজপথেই বসে থাকতে হতে পারে চালককে।
ট্রাফিক বিভাগের দাবি, বৃষ্টির পানিতে বা ধুলোয় কাঁটাগুলোতে মরচে পড়বে না। কাঁটাগুলো অকেজো হবে না। ৪৫ মিলিমিটার পর পর প্রতিরোধক যন্ত্রে বসানো কাঁটাগুলো সব সময় রাস্তায় তিন ইঞ্চি উঁচু হয়ে থাকবে। যন্ত্রের কাঁটাগুলো আলাদা আলাদা স্প্রিংয়ের ওপর দাঁড়ানো। কেউ চেষ্টা করে এক থেকে দুটি কাঁটা নামতে পারবেন। কিন্তু অন্যগুলো ঠিকই সোজা হয়ে থাকবে। ব্যাক গিয়ারে চালানোর চেষ্টা করা হলেও প্রতিরোধক যন্ত্রটি গাড়ি চাকা ঠিকই ফুটো করে দেবে। দেশীয় প্রযুক্তিতে ২৮ ফুট দৈর্ঘ্যের প্রতিরোধ যন্ত্রটি প্রায় পাঁচ লাখ টাকায় নির্মাণ করেছে ধোলাইখালের সোহেল মেটাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি।

পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিরোধক যন্ত্রটি বসানো হয়েছে। এক মাস প্রচারপত্র বিলি করে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা চালানো হবে। প্রচেষ্টা সফল হলে নগরের বিভিন্ন সড়কে প্রতিরোধক যন্ত্রটি স্থাপন করতে সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হবে।

পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, দুর্ঘটনা রোধ করে যানবাহন ও জনগণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।