বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে শ্রমিক নিয়োগ বাণিজ্য! শ্রমিক নেতার মধ্যে অসন্তোষ

Panchagarhমো.নুরুন্নবী বাবু. তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) থেকে ফিরে :
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে শ্রমিক নিয়োগ বাণিজ্য! শ্রমিক-নেতার মধ্যে অসন্তোষ, জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে কুলি-শ্রমিক নিয়োগ স্থগিত। তেঁতুলিয়া উপজেলাধীন বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের কুলি-শ্রমিক ইউনিয়নের উভয়পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব। ১০ লাখ টাকা উৎকোচের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দাখিল। জানা যায়, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে কর্মরত ২৬৩৪ ও ২৩০৫ রেজিঃ নং এর ১শ ৯০ জন কুলি-শ্রমিক কাজ করে আসছে। ২৬৩৪ এর সভাপতি মো.ইউসুফ আলী ও সাধারণ সম্পাদক মো.আব্দুর রহমান এবং ২৩০৫ এর সভাপতি মো. এমদাদুল হক বুলু ও সাধারণ সম্পাদক মো.আলম হোসেন সংগঠন দু’টি পরিচালনা করে আসছিল। উভয় পক্ষে সভাপতি এবং সম্পাদক যৌথ স্বাক্ষরে শ্রমিক সংকট দেখিয়ে নতুন কুলি-শ্রমিক নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি আবেদন দাখিল করে।

আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৫ এপ্রিল/১৪ তারিখে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উভয় সংগঠনের সভাপতি এবং সম্পাদক এর উপস্থিতিতে নতুন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জেলা প্রশাসক এর উপস্থিতিতে এরকম সিদ্ধান্তের কথা কর্মরত শ্রমিকদের না জানিয়ে উক্ত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে উভয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রমিক নিয়োগের জন্য মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। উক্ত সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে কর্মরত শ্রমিকরা সভাপতি এবং সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনীহা প্রকাশ করে গত ২৪ এপ্রিল/১৪ তারিখে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কুলি-শ্রমিক ইউনিয়নের সকল শ্রমিকের উপস্থিতিতে সাধারন সভা আহবান করে সকলের সম্মতিক্রমে সভাপতি মো.ইউসুফ আলী ও সম্পাদক মো.আব্দুর রহমানকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে।

সভায় মো.আকতারুল ইসলামকে সভাপতি ও মো.সিরাজ উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়। সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, নতুন কোন শ্রমিক যেন নিয়োগ করা না হয় সে ব্যাপারে ১৫ এপ্রিল/১৪ তারিখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রম অধিদপ্তর রাজশাহী, জেলা প্রশাসক, পঞ্চগড় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার, তেঁতুলিয়া বরাবরে অভিযোগ দাখিল করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালাহউদ্দিন গত ১২ মে/১৪ তারিখের ০৫,৪৭,৭৭০০, ০১২, ৩৪, ০০৪, ১৪-৪৯৫(২০) স্মারক মোতাবেক তেঁতুলিয়া উপজেলাধীন বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের বিরাজমান সমস্যা সমূহ সমাধানের লক্ষ্যে ১৫ এপ্রিল/১৪ তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় কার্যবিবরনীর ১.০১ নং এ সিদ্ধান্ত হয় যে “বাংলাবান্ধা লোড-আনলোড কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের ( রেজিঃ নং-রাজ ২৬৩৪) মোট ১৫০ জন ও তেঁতুলিয়া উপজেলা কুলি-শ্রমিক ইউনিয়নের  (রেজিঃ নং-রাজ ২৩০৫) মোট ৪০ জন এবং আরও ৫০+৫০=১ শত জন রিজার্ভ শ্রমিকসহ মোট ২শ ৯০ জন শ্রমিকের ছবিসহ আইডি কার্ড সরবরাহ, পোশাক তৈরি এবং সকল শ্রমিকের ডাটাবেজ প্রস্তুতের কাজ এপ্রিল/১৪ এর মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে”। উক্ত সিদ্ধান্তের দ্বিতীয় অংশ “আরও ৫০+৫০ = ১শত জন রিজার্ভ শ্রমিকসহ মোট ২শ ৯০ জন” পর্যন্ত লাইনটি বাতিলপূর্বক সংশোধন করা হল।

সংশোধনকৃত সিদ্ধান্ত হল-“বাংলাবান্ধা লোড-আনলোড কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের ( রেজিঃ নং-রাজ ২৬৩৪) মোট ১শত ৫০ জন ও তেঁতুলিয়া উপজেলা কুলি-শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজিঃ নং-রাজ ২৩০৫) মোট ৪০ জন। সর্বমোট ১শত ৯০ জন কর্মরত শ্রমিকের ছবিসহ আইডি কার্ড সরবরাহ, পোশাক তৈরি এবং ডাটাবেজ প্রস্তুতের কাজ এপ্রিল/১৪ এর মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে”। সংশোধনকৃত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ম্যানেজার, বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়, অধিনায়ক ১৮ বিজিবি, পঞ্চগড়, পুলিশ সুপার, পঞ্চগড়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, তেঁতুলিয়া, অফিসার ইনচার্জ, তেঁতুলিয়া থানাকে অবগতি পত্র প্রেরণ করা হয়। উক্ত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সাবেক সভাপতি/সম্পাদক ও সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় শ্রমিকদের মাঝে সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে।

এ ব্যাপারে কুলি-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আকতারুল ইসলাম জানায়, বর্তমানে কর্মরত উভয় সংগঠনের ১শত ৯০ জন কুলি-শ্রমিক কাজ করে কোন মতে দিনাতিপাত করছি। যদি আরও অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করা হয় তাহলে আমাদের খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হবে। অতিরিক্ত শ্রমিক যাতে নিয়োগ করা না হয় সে বিষয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থলবন্দরের ম্যানেজার তারেক জানান, স্থলবন্দও কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কিছু সংখ্যক স্বার্থান্বেষীমহল কুলি-শ্রমিকদের নাম করে উৎকোচ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানতে পারি। #