দুই হাজারীর পাল্টাপাল্টি : নিজামের মদদেই ফেনীর সব খুন : জয়নাল

jounalবিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : ফেনী জেলায় সব খুনই স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর মদদে হয়। ফেনীতে এ মুহূর্তে তার থেকে বেশি প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তি নেই। তাই একরামের মতো একজন জনপ্রিয় প্রতিনিধিকে হত্যা করার সাহস নিজাম ছাড়া কারও পক্ষে কল্পনা করাও সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ প্রতিষ্ঠিত ও সম্পাদিত পত্রিকা দৈনিক হাজারিকা প্রতিদিনের অফিসে একান্ত সাক্ষাৎকারে ফেনীর এক সময়ের প্রভাবশালী রাজনীতিক জয়নাল হাজারী এসব কথা বলেন।

জয়নাল হাজারী আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, নিজাম হাজারী তার প্রভাব বিস্তারের জন্যই এ হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে। এখন ঘটনা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে আমাকে জড়িয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হচ্ছে। অথচ আমি গত ছয় মাস ফেনীতেই যাইনি। ফেনীর রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতাও নেই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ফেনী থেকে দূরে রয়েছি। তাছাড়া একরামের সঙ্গে আমার কোনো ধরনের বিরোধ ছিল না। একরাম আমার হাত ধরেই রাজনীতিতে এসেছে। আমি কোন কারণে ওকে হত্যা করব। আমি তো টেন্ডারবাজি করি না। আমার কোনো ব্যবসাও নেই। ফেনীতে প্রভাব তৈরি করারও দরকার নেই। ফেনীর প্রতিটি মানুষই জানে, একরামকে নিজামই খুন করেছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ফেনীর যত টেন্ডার হতো সবই একরামের দখলে ছিল। তাছাড়া সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে নিজামের অপকর্ম নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নিজাম জালিয়াতি করে অস্ত্র মামলায় কম সাজা ভোগ করে জেল থেকে বেরিয়েছে, সে সংবাদটিও ছিল। নিজামের ধারণা, পত্রপত্রিকায় এসব তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে একরাম। তাই একরামের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল নিজাম। এজন্যই একরামকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে জয়নাল হাজারী বলেন, এতদিন নিজাম হাজারীর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনি। কিন্তু পত্রপত্রিকায় তার অপকর্মের সংবাদ ছাপা হওয়ায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও তার ওপর নাখোশ রয়েছেন। অনেককে দিয়ে বলিয়েও প্রধানমন্ত্রীর মন গলাতে পারছিলেন না নিজাম। নিজামের ধারণা, এসবের পেছনে আমি, একরাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ইন্ধন দিচ্ছি। তাই নিজামের হিটলিস্টে আমরাও রয়েছি। জয়নাল হাজারী বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনের আগে আমাকেও হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু তথ্য ফাঁস হওয়ায় আমি সতর্ক হয়ে যাই। তিনি আরও বলেন, ফেনীর নৃশংসতম এ হত্যাকান্ডেকে বা কারা জড়িত তা স্পষ্ট। কিলিং মিশনে যারা অংশ নিয়েছিল, তারা সবাই নিজামের আশীর্বাদপুষ্ট। চিহ্নিত খুনিরা প্রকাশ্যে ফেনীতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ তাদের ধরছে না পুলিশ। কারণ ফেনীর সব পুলিশ নিজামের চাকর। তিনি বলেন, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা উচিত। তা না হলে ফেনীর রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে।

মামলা প্রসঙ্গে জয়নাল হাজারী বলেন, যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে সেই এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের কোনো অস্তিত্ব নেই। অথচ হত্যা মামলা হয়েছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এতে প্রকৃত খুনিকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় যদি র‌্যাবের তিন প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়, তাহলে ফেনীর নৃশংসতম এ হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও বিশ্বাস করেন তিনি।