গোবিন্দগঞ্জে আইন শৃংখলার চরম অবনিত : ১০ দিনে নারীসহ ৩ খুন

gaibandhaগাইবান্ধা প্রতিনিধি ঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। ২০১৪ সালের ১১ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১০ দিনে সন্ত্রাসী, ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনী, প্রভাবশালীদের দখলদারীত্ব, কিলার ও পারিবারিক কলহের জের ধরে এসব হত্যা কান্ড ঘটেছে। জানা গেছে, ২ নারীসহ ৩ জন নৃশংশ ভাবে খুন হয়েছে। এবং শিশু র্ধষন সহ নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা রয়েছে বেশ কয়েকটি। গত ১১ মে উপজেলার দরবস্ত ইউপির মীরুুপাড়ায় যৌতুকের কারণে শশুর বাড়ির লোকজন সোনামাই বেগমকে মারপিট করে শ্বাসরোধের পর হত্যা করে একটি কাঠাল গাছের সাথে ঝুঁলিয়ে রাখে। ১৮ মে শনিবার ভোরে আশাদুল ইসলাম (৩৫) নামক এক মোটর সাইকেল চালকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ মর্গে প্রেরণ করেছে। নিহত আশাদুল ইসলাম নাকাইহাট ইউনিয়নের পাটোয়া গ্রামের মৃত আ. রাজ্জাকের ছেলে। ছিনতাইকারীরা আশাদুলকে ছুড়িকাঘাত করে হত্যা করেছে। তার মোটর সাইকেলটি ঘটনাস্থলের কিছু দুর ফাঁকে রাস্তার পাশে পাওয়া গেছে। গত বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় শিবপুর ইউপির সরদার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের জমির সীমানা নির্ধারন নিয়ে প্রতিপক্ষের সাথে এক সংর্ঘষ হয় এতে ময়না রানী (৩০) নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়। নিহত ময়না রানী শাখইল গ্রামের নিত্যরঞ্জ এর স্ত্রী বলে জানা গেছে।এছাড়াও প্রভাব শালী কিছু পর সম্পদ লোভী মাস্থান পরিচিত কতিপয় ব্যক্তিরা পৌর শহরে দু’টি স্থানে নিরিহ মানুষের জমি অবৈধভাবে জোর পূর্বক দখল করে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।এব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভূক্তভোগীরা কোন প্রকার সহযোগীতা না পাওয়ায় জমির মালিকরা প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে উপজেলার ফুলপুকুরীয়া এলাকার দিলালপুরে ১০/১৫জনের চিহ্নত লাঠিয়াল বাহিনীর দ্রুরত্ব এতই বৃদ্ধি পেয়েছে । যাহা সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। এব্যাপারে প্রশাসনের নিকট অভিযোগ সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় একাধিক বার সংবাদ প্রকাশের পরও তারা বীরত্বের সাথে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  অপর দিকে গোটা উপজেলায় ৩ টি স্থানে আনন্দ মেলার নামে মাস ব্যাপী মেলার নামে যাত্রা, হাউজি, জুয়ার আসর মাসের পর মাস চলছে। এ দেখে মনে হয় এলাকায় প্রশাসন সহ ভাল মানুষ নাই। এসব যাত্রায় উলঙ্গ নাচ আর জুয়া হাউজি আসা এলাকার যুব সমাজ সর্বশান্ত হয়ে ছিনতাই চুরি ডাকাতি খুন সহ নানা অপরাধের সাথে জরিত হয়ে পরছে। যার ফলে সর্বত্র আইন শৃংখলার চরম অবনতি ঘটেছে।এঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ নাগরিক কমিটির আহবায়ক এম এ মোতিন মোল্লা উপর উল্লেখিত ঘঁনাবলি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন । সেই সাথে অবিলম্বে যাত্রা ,হাউজি ,জুয়া আসর সহ অবৈধ দখলদারীত্ব বন্ধ না হলে নাগরিক সমাজ আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ থানা অফির্সাস ইনর্চাজ (ও সি) এ বি এম জাহিদুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান,পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্তে এসব হত্যা কান্ড ঘটেছে । যাত্রা হাইকোর্টে অনুমতি নিয়ে চলছে। তবে জুয়া বন্ধে দৃঢপ্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে তিনি জানিয়েছেন।