ভেড়ামারায় হেরোইন আসক্তের খন্ডিত পা নিয়ে তুলকালাম

আলাল উদ্দিন নয়ন, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া :  কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক হেরোইনসেবীর খন্ডিত পা নিয়ে হাসপতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে দিনভর তুলকালাম কান্ড চলে। সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় ১২ ঘন্টা পার করার পর অবশেষে সৎকারের মাধ্যমে শেষ হয় কর্মযজ্ঞ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মশিউল ইসলাম জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৪ টায় আহতাবস্থায় এক ব্যক্তি ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে চিকিৎসার জন্য আসে। তার ডান পা হাটুর কাছ থেকে প্রায় কর্তিত বা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখতে পেয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাটু বরাবর চামড়ার সাথে ঝুলে থাকা  পা কেটে ফেলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে তার ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ দিয়ে রক্তক্ষরন রোধ করা হয়। এরপর সকলের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ঐ ব্যক্তি হাসপাতাল থেকে পলায়ন করে। ভর্তি রেজিষ্টারে লিপিবব্ধ ঐ পলাতক রোগীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, তার নাম জাবের (৩০)। সে একজন ছাই ব্যবসায়ী। পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার নুর মহল্লার আব্দুল আজিমের পুত্র সে। চিকিৎসক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন সে একজন হেরোইনসেবী। ধারনা করা হচ্ছে, ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে পরিণত করার উপায় হিসেবে সে চলন্ত ট্রেনের নিচে পা রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন আত্মঘাতি কাজ করেছে। ধরা পড়ে গেলে বিপদের আশংকায় সে হাসপাতাল থেকে পলায়ন করে। এদিকে ঐ ব্যক্তির পলায়নের পর খন্ডিত পা নিয়ে বিপদে পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় একটি প্লাষ্টিকের বালতির মধ্যে কর্তিত পা’টি রাখা হয়।  হাসপাতালের আরএমও ও অন্যান্য চিকিৎসকগণ বিষয়টি পৌর মেয়র আলহাজ্ব শামিমুল ইসলাম ছানা, মডেল থানার ওসি পারভেজ ইসলাম পিপিএম,,প্রেসক্লাবসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। কিন্তু পুলিশ কিছুতেই বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাতে আগ্রহ দেখায়নি। এদিকে প্রচন্ড গরমে বেলা ১০ টার পর থেকে ঐ পা থেকে বিকট দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। বিশ্রী গন্ধে হাসপাতালে ভর্তি রোগী, তাদের আত্মীয় স্বজন, চিকিৎসক, নার্স, দর্শনার্থীরা পড়েন চরম বিপাকে। লিখিতভাবে থানা পুলিশকে অবহিত করা হলেও তারা হাসপাতাল থেকে ঐ পাখানা তাদের হেফাজতে নেয়ার কোন যৌক্তিক ও আইনগত কারন খুঁজে পাননি। ফলে হাসপাতালেই পড়ে থাকে পা। এদিকে পা উদ্ধার নিয়ে ভেড়ামারা শহরে বি¯তৃত হতে থাকে গুজবের ডালপালা। আতংক ও উৎকন্ঠায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ।  এভাবে প্রায় ১২ ঘন্টা অতিক্রম হবার পর বেলা ৩ টার দিকে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান মোবাইল ফোন মারফত কর্তব্যরত কর্মকর্তাকে ঐ পা’টি হাসপাতাল চত্বরে পুঁতে রাখার পরামর্শ দেন।  ভেড়ামারা সার্কেলের এএসপি আশিস বিন হাসানকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সিভিল সার্জনের পরামর্শ জানানো হলে তিনি উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে খন্ডিত পা পুঁতে রাখার বিষয়ে সম্মতি দেন। বেলা ৩ টার দিকে গণ্যÑমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে হাসপাতাল চত্বরে  ৩/৪ ফুট গভীর গর্ত করে পা’টি পুঁতে রাখার মাধ্যমে অবসান ঘটে মানবদেহের বিচ্ছিন্ন পা নিয়ে চলতে থাকা সংশয়ের। আপাতঃদৃষ্টিতে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপুর্ন বিষয় হলেও ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।