থাইল্যান্ডে অভ্যুত্থান, দেশজুড়ে কারফিউ

24544_lllবিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে থাইল্যান্ডে। সেনাপ্রধান প্রায়ুথ চান-ওচা অভ্যুত্থানের ঘোষণা দেয়ার পরপরই সারাদেশে জারি করেছেন কারফিউ। স্থানীয় সময় রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত এই কারফিউ বলবত থাকবে। আজ স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে চারটায় তিনি টেলিভিশনে সরাসরি ভাষণে অভ্যুত্থানের ঘোষণা দেন। ওই ভাষণে তিনে বলেন, দেশে আইন শৃংখলা স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনী, থাই সশস্ত্র বাহিনী, রয়েল এয়ার ফোর্স ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত ন্যাশনাল পিস কিপিং কমিটি ২২শে মে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে ক্ষমতা দখল করছে। মঙ্গলবার সামরিক আইন জারি করলেও তিনি বলেছিলেন এটা সামরিক অভ্যুত্থান নয়। আইন শৃংখলা পরিস্থিতি পুনঃস্থাপনের জন্য তারা এ আইন জারি করেছেন। এরপর গতকাল ও আজ দ্বন্দ্বে লিপ্ত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা করার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে আজই তিনি টেলিভিশনে দেয়া সরাসরি ভাষণে ক্ষমতা দখলের কথা বলেন। সেনাপ্রধান বলেন, থাইল্যান্ডের সব মানুষকে শান্ত থাকতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের যথারীতি স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে হবে। ন্যাশনাল পিস কির্পি কমিটি মঙ্গলবার যে সামরিক আইন জারি করেছিল তারাই এখন ক্রমবর্ধমান সহিংসতা প্রতিরোধে দেশের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তারাই এখন সব কিছু দেখাশোনা করবে। এরই মধ্যে সব টেলিভিশন ও রেডিও স্টেশনকে স্বাভারিক প্রোগ্রাম বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, তারা শুধু সেনা বাহিনী সম্পর্কিত বিষয়গুলো প্রচার করতে পারবে। ১৯৩২ সালে রাজতন্ত্রের পুরোপুরি বিলুপ্তির পর এটাই থাইল্যান্ডের ১৯ তম অভ্যুত্থান। ওদিকে রাজধানী ব্যাংককে সেনা সদর দফতরে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের দেখা গেছে। তাদেরকে সেখানে নিয়ে গেঝে সেনাবাহিনী। এর বাইরে সশস্ত্র সেনা সদস্যরা প্রহরা দিচ্ছে। তবে ওইসব নেতাকে আটক করা হয়েছে কিনা তা পরিস্কার জানা যায় নি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিওয়াত্তুমরং বুসংপাইসানকে সেখানে দেখা যায় নি। সেনাপ্রধান তার সেনাদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে বিদেশীদের নিরাপত্তা দেয় সেনারা। থাইল্যান্ডে বৃটিশ দূত মার্ক কেন্ট সেদেশে অবস্থানরত বৃটিশ নাগরিকদের চলাফেরায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন। বলেছেন, সফর বিষয়ক তথ্য ও সর্বশেষ তথ্য সম্পর্কে অবহিত থাকতে। গতকাল জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীকে গণতান্ত্রিক নীতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণাঙ্গ শ্রদ্ধা রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন একটি নতুন নির্বাচনের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে।