কিশোরগঞ্জে বিলুপ্তির পথে বাঁশ ঝাড় : বেকার হচ্ছে কুটির শিল্পীরা

imagesমোঃ ছিদ্দিক মিয়া,কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় অব্যাহতভাবে বাঁশ কাটা, যতœ ও অবহেলার কারণে ব্যাবহারিক জীবনে অতি প্রয়োজনীয় বাঁশঝার হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় এ উপজেলায় বাঁশের ব্যাপক চাষ করা হত। সামান্য যতœ আর বিনা খরচে গড়ে ওঠে বাঁশের বাগান। কিন্ত আজ অযতœ আর অবহেলায় সেই বাঁশ বাগান বিলীন হতে চলেছে। এ এলাকার মানুষ এক সময় প্রসুতির কাজে সন্তানের নাড়ি কাঁটার জন্য বাঁশের চিকন চাঁচ ব্যাবহার করত, আবার মৃত ব্যক্তিকে দাফনের জন্য কবরে বাঁশ বিছিয়ে দিয়ে তারপর মাটি দিত এবং বর্তমানেও দিচ্ছে। তাই জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাঁশের প্রয়োজন অতুলনীয়। আগে গেরোস্তাদের বাঁশ বাগান ছিল অহংকারের। কোন বংশের কত বাঁশ আছে, তাদিয়েই নির্ণয় হতো সে বংশের প্রভাব। কিন্ত কালের বিবর্তনে সেই প্রতিপওির মানদণ্ড বাঁশ বাগান বা বাঁশঝার আর দেখা যায় না। খুঁজে পাওয়া সেই শীতল পরিবেশ ঘেরা সবুজের সমারোহ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্ত  হয়ে যাচ্ছে বনজ সম্পদ বাঁশ বাগান। মাএ কয়েক বছর আগে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হত। কুটির শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে এবং কাগজ তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যাবহার হতো বাঁশ। বাঁশ দিয়ে নদী বা খাল পাড়াপাড়ের তৈরি করাহত বাঁশের সাঁকো। বাংলার আবহমান সঙ্গীতের প্রধান মাধ্যম বাঁশিও তৈরি হতো এই একমাএ বাঁশ দিয়ে। এদিকে জ্বালানি সঙ্কটের কারণে অপরিপক্ব বাঁশের গোড়া তুলে বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে অনেকে। অনেক বাঁশঝার মালিক দালান কোঠা তৈরি করায় রান্নাবান্নার কাজে বাঁশ পুড়ছে। পৃষ্ঠপোষাকতা না থাকায় এবং চাহিদা কমে যাওয়ায় বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি বিভিন্ন জিনিসপএ গৃহশোভাবর্ধনে অতুলনীয়। এখানে এক সময় ওই বিশেষ ধরনের বাঁশ পাওয়া গেলেও সে বাঁশের উৎপাদন নেই বললেই চলে। একারণে অনেক অনেক শিল্পী বেকার জীবন-জাপন করছেন। বাঁশের অভাবে কুটির শিল্পের সাথে জড়িতরা পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন জীবন নির্বাহের তাগিদে।