পঞ্চগড়ে যুব সমাজ ক্রিকেট জুয়া নিয়ে ব্যস্ত

panchogorডিজার হোসেন বাদশা, পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ে সদর উপজেলাসহ প্রতিটি উপজেলার পাড়া মহল্লা, খেলার মাঠে, হাট বাজারে এমনকি গ্রামগঞ্জের প্রতিটি অলিগলিতে বিশ্বকাপ টি-টুয়েন্টি, আইপিএল ক্রিকেট খেলা নিয়ে বাজির নামে চলছে জুয়ার জমজমাট আসর।

সাম্প্রতিক সময়ে ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয় ক্রিকেট বা ফুটবল ম্যাচ ঘিরে চলছে স্পট ফিক্সিং। আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়া খেলা নিয়ে বাজিকরদের চলে দর কষাকষি।
দুর্বল টিমের সঙ্গে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের খেলা থাকলে সে ক্ষেত্রে দেয়া হয় লোভনীয় অফার।

শুধু বিশ্বকাপ নয় টি-টুয়েন্টি, আইপিএল, ঘরোয়া লীগ, এমনকি দেশ বিদেশের টেষ্ট খেলাগুলোকে ঘিরেও চলে বাজিকরদের রমরমা বাজি। এছাড়াও দেশ বিদেশের প্রতিটি ফুটবল খেলায় জুয়াড়ীদের চলে বড় বড় বাজি।
বিশ্লেষকদের মতে, আমাদের দেশে ক্রীড়াবাজির আবির্ভাব ঘটেছে পার্শ্ববর্তী দু’দেশ ভারত ও পাকিস্থান থেকে। যা গ্রাম বাংলার আনাচে কানাচে ছেয়ে গেছে।
চলমান আইপিএল, ঘরোয়া লীগ ঘিরে চলছে ধুম-ধামাক্কা জুয়ার আসর। টেলিভিশনের সামনে বসে খেলা দেখা দর্শকদের মাঝে চলে দর কষাকষি। ১৫-২৮ বছর বয়সীরাই ক্রীকেট জুয়ায় মেতে উঠছে বেশী। বেশী বয়সীরা ঘরোয়া বাজির মাফিয়া ডন বলে জানা যায়।
জুয়াড়ীদের এই নতুন ধান্ধায় মেতে উঠেছে জেলার অভিজাত এলাকাগুলো। ধনীর দুলালরা বাজি ধরেন মোবাইলের মাধ্যমে। তাদের বাজি ধরার ধরন ও ভিন্ন এবং বিগ বাজেট। মোবাইল ফোনের বেড় বাজির ধরার কথাগুলো রেকর্ড করে রাখে। মাসের কোন এক তারিখে টাকা লেনদেন করা হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রীকেট বাজিকর জানায়।

বিভিন্ন মোড়ের দোকানগুলোতে প্রকাশ্যে চলে এই ক্রিকেট বাজি। দলগত হার-জিত নির্ধারণ বাজির পাশাপাশি চলে ওভার বা বল বাই বল বাজি।

এদের মধ্যে অন্যতম জুয়ারী বা জুয়ারী বানানোর কারীগর প্রতিটি এলাকায় ২-৪ জন প্রধান রয়েছে । জাদের মাধ্যমে চলে এ বাজি বা জুয়ার আসর । আর সে ব্যক্তি হাজার হাজার টাকার কমিশন হাতিয়ে নিচ্ছে সকলের কাছ থেকে । এ দেখে নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাজি ধরে সর্বস হারিয়ে মাদক সবনে উৎসাহিত হচ্ছে। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক এক জুয়া/বাজীকরদের মাধ্যম জানান, প্রতিটি খেলায় আমার মাধ্যমে নূন্যতম ২৫ লক্ষ টাকার বাজি ধরা হয়। আর এ থেকে প্রতি হাজারে আমি পায় ২০টাকা। সর্ব মোট প্রতিদিন আমার আয় ৫০ হাজার টাকা। আর এ টাকায় আমার সাথে আরো ১০ জন কাজ করছে। তাদের কাজ হচ্ছে নতুন প্রজন্মের ছেলেদের উৎসাহিত করা।
এ বিষয়ে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ঘুরে আরো জানাযায় যে, মহল্লার কিছু দোকান মালিকরা বাজিকরদের মাধ্যম হিসেবে টাকা জমা আদান প্রদান এবং বাজি ধরার মানুষ ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন।

আজকাল একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, যখন কোন খেলা চলে বিশেষ করে টি-টুয়েন্টি ম্যাচ হলে জটলা বেধে যায় মোড়ের দোকান গুলোতে। প্রশাসন তাদের দমন করলে হয়ত কিছুটা বাজি বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল ।

এম্যাচের পাওয়ার প্লেতে কত রান হবে! ৫-১০ ওভারে কত রান হবে! খেলায় কে কতটি উইকেট পাবে! কে কত রাণ করবে ইত্যাদি ইত্যাদি বাজিতে মেতে উঠে ক্রীকেট জুয়াড়ীরা।

সমাজের সকল অপকর্ম থেকে রেহাই পেতে অভিভাবকদের দৃঢ় সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক প্রশাসনিক গোয়েন্দা তৎপরতা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে বলে সুধিমহল’র অভিমত।

এব্যাপারে পঞ্চগড় জেলা পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি এর আগেও শুনিছি। তবে এ সমস্থ বাজি বিছিন্ন ভাবে চলছে বাজি নিয়ে নাসকতা কর্মকন্ড য়েন নাহয় সে জন্য পুলিশের পক্ষে গোয়েন্দা নজরদারী সহ বিশেষ অভিজান চালানো হচ্ছে । তবে এব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে।