শেষ ধাপেও দখল-জালিয়াতি : ৭টিতে আওয়ামী লীগ, ৫টিতে বিএনপি জয়ী

24217_f1বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের শেষ দফাতেও কেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, প্রকাশ্যে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল ১২টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হয়। রংপুরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রংপুর সদর উপজেলায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বরগুনার তালতলীতে প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রার্থীর দু’ জনই কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় হয়েছে দখল উৎসব। নির্বাচনের কোন আমেজ ছিল না উপজেলাজুড়ে। কেন্দ্রগুলো বেশির ভাগ সময়ই ছিল ভোটারশূন্য। এরই মধ্যে জাল ভোট দেয়া হয় প্রকাশ্যে। কেন্দ্র দখল করে সিল মারা হয়। ১২টি উপজেলার বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৭টি উপজেলায়, বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৫টি উপজেলায়। ময়মনসিংহের তারাকান্দায় জয়ী হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার। তিনি পেয়েছেন ৪৭৪১৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত আশরাফ আলী খান পেয়েছেন ৩৮৮৩৫ ভোট। বরগুনার তালতলীতে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান মিন্টু। তিনি পেয়েছেন ৩২৪০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আক্কাস মৃধা পেয়েছেন ৮৪৪২ ভোট। টাঙ্গাইলের বাসাইলে জয়ী হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কাজী শহিদুল ইসলাম। গাজীপুর সদরে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এজাদুর রহমান মিলন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এডভোকেট তানভীর ভূইয়া বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৫৫০৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কাজী রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ১৬৩০১ ভোট। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল মতিন চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ২৬৫৯১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবদুল আজিজ সরকার পেয়েছেন ১৬১১০ ভোট। রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী কাজী সাইফুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ২৭২৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নূরে আলম সিদ্দিক পেয়েছেন ১৪১৯১ ভোট। রংপুর সদরে আওয়ামী লীগের নাসিমা জামান ববি ১৫৫৪৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ফারুক মিয়া পেয়েছেন ১৪৪০৭। পীরগাছায় বিএনপির আফসার আলী ৪৫৫২৩ পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান পেয়েছেন ৩৭৯৭২ ভোট। কুমিল্লার আদর্শ সদরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুর রউফ ৪৯৩৮৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ফজলুল হক পেয়েছেন ৩১৪৩৬ ভোট। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু ২২৪৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ১৬৫৫৪। কাউনিয়া উপজেলায় বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী মাহফুজার রহমান বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত আনোয়ারুল ইসলাম মায়া।
জাবেদ রহিম বিজন/আমিরজাদা চৌধুরী, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকে জানান, গোল কার অনুকূলে হবে তা যেন আগেই জানতেন বিজয়নগর উপজেলার ভোটাররা। তাই আর কষ্ট করে গতকাল কেন্দ্রে আসেননি তারা। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারশূন্যতা এমন মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ কিনা তা নিশ্চিত না হওয়া গেলেও বাস্তবতা ছিল ফাঁকা কেন্দ্র। অবশ্য প্রশাসন বলেছে প্রখর রোদের কারণে ভোটার উপস্থিতি কম। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক কেন্দ্র পরিদর্শনকালে বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ সাংবাদিকদের বলেন, আবহাওয়া ভাল আছে। ভোটার আসবে। কিন্তু ভোট শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এ চিত্রের কোন পরিবর্তন হয়নি। তবে এরই মধ্যে জাল ভোট প্রদান, কেন্দ্র দখলের অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শরীফুল ইসলাম লিটন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইমদাদুল হক। জেলা বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছিল লিটনকে। আর উপজেলা বিএনপি প্রার্থী করে ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলামকে। লিটন বসে গেলেও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রফিক আর বিএনপির পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। নিজের অবস্থা সুবিধার নয় বলে লিটন ভোটের দিন সকাল সকাল মাঠ ছেড়ে দেবেন এ প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ে আগের রাত থেকেই। তবে লিটন বেশির ভাগ কেন্দ্র  দখলের অভিযোগে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন সাংবাদিকদের কাছে। এর কিছু সময় পর আউলিয়া বাজারে বিএনপি সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মোখলেছুর রহমান লিটনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, যে যার মতো ভোট ছাপতাছে। তবে আমি নির্বাচন বর্জন করিনি। চান্দুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাতগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আড়িয়ল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাদেহাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভিটি দাউদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাটিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চম্পকনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র সরজমিন ঘুরে দেখি সকাল ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত। এসময়ে এসব কেন্দ্রের সামনে ভোটারের কোন সারি চোখে পড়েনি।
সাতগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের একটি বুথে দুই ঘণ্টায় পড়ে মাত্র একটি ভোট। সকাল ১০টায় কেন্দ্রের ৮ নম্বর মহিলা বুথে প্রথম ভোট দিতে আসেন রেহানা আক্তার । তার ভোটার নম্বর ২৫২।  তিনি বলেন, বাড়িতে ধানের কাম (কাজ)। তাই সকাল সকাল ভোটটা দিয়া গেলাম।
এ বুথের মোট ভোটার সংখ্যা ৩২১। আর কেন্দ্রের মোট ১০টি বুথে এ সময় পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৩২৮টি। কেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা গেছে ভোটার শুন্য। জানা গেছে ভোট শুরুর কিছু সময় পরই একটি বুথে দু’প্রার্থীর এজেন্টদের মধ্যে বাদানুবাদের ঘটনায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ভোট কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে।  এ অবস্থায় বেলা ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রটি ছিল প্রায় ফাঁকা। বিচ্ছিন্নভাবে দু’-একজন করে ভোটার এসে ভোট দিয়ে যাচ্ছিলেন। ছিল না কোন ভোটের সারি। সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রটি পরিদর্শন করতে আসেন জেলা প্রশাসক ড. মো. মোশাররফ হোসেন ও পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান পিপিএম। জেলা প্রশাসক বলেন, ভোট সুন্দরভাবে চলছে। ভোটার শূন্যতার বিষয়ে বলেন, আবহাওয়া ভাল আছে। ভোটাররা আসবে।
আর ভোট দিতে যাবেন না জুবেদা: নাতি মামুনকে নিয়ে গিলামুড়া গ্রাম থেকে এক কিলোমিটার দূরের কচুয়ামোড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়  কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন জুবেদা বেগম আর তার স্বামী হাজী নান্নু মিয়া মুন্সি। ভোটার স্লিপ আনতে গিয়ে নাতি মামুন শুনলেন তার নানা-নানীর ভোট দেয়া হয়ে গেছে। এরপর ভোট দিতে না পারার কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরে যান বৃদ্ধ নান্নু মিয়া আর তার স্ত্রী। মামুন বলেন, নানীর পিত্তে পাথরের অপারেশনসহ এ পর্যন্ত ৬টি অপারেশন হয়েছে। তারপরও তিনি এসেছিলেন ভোট দিতে কেন্দ্রে। এর আগের নির্বাচনে এসেও তিনি ভোট দিতে পারেননি। তাই বলেছেন আর কখনও ভোট দিতে আসবেন না। মামুন জানান, তার নানীর স্লিপ আনতে গেলে তাকে বলা হয় ভোট তো দেয়া হয়ে গেছে। কাউসারের (আউলিয়া বাজারের একজন ব্যবসায়ী) ভোটটা তোমার নানীকে দিয়ে দিতে বলো। কিন্তু আমার নানী অন্যের ভোট দেবে না বলে কেন্দ্র থেকে চলে আসে। জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ আছে আরও অনেক। আউলিয়া বাজারের ইত্যাদি কসমেটিকসের কর্মচারী হারুন উর রশিদ জানান, ভোট দিতে তিনি তার কেন্দ্র মুকুন্দপুর গিয়েছিলেন। কেন্দ্রের কাছাকাছি যাওয়ার পর রহমতউল্যাহ নামে এক ভোটার তাকে জানান, সবার ভোটই দেয়া হয়ে গেছে। কেন্দ্রে গিয়ে আর লাভ নেই। এরপর আমি ফিরে আসি। ইত্যাদি কসমেটিকসের মালিক মাওলানা ইকবাল ও হাফেজ মো. মোস্তফা কামালও ভোট দিতে পারেননি বলে জানান হারুন। তাদের ভোট ছিল ভিটি দাউদপুর কেন্দ্রে। এসব অভিযোগ থাকলেও ভোট গ্রহণ ছিল শান্তিপূর্ণ। তবে জালালপুর কেন্দ্রে দুপুরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। দু’টি বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কেন্দ্র দখল করে ভোট দেয়ার চেষ্টায় ঘটে এ ঘটনা।
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি জানান, কারচুপি, কেন্দ্র দখল, ও প্রশাসনিক সহায়তায় ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী তিন প্রার্থীর দু’জনেই ভোট বর্জন করেছেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপি সমর্থিত এডভোকেট আবদুল মজিদ তালুকদার ও বিএনপি বিদ্রোহী ফরহাদ হোসেন আক্কাস মৃধা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। ভোট বর্জন করা ওই দু’জন প্রার্থীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মনিরুজ্জামান মিন্টু ও তার সমর্থকরা বিভিন্ন কেন্দ্র প্রশাসনের সহায়তায় দখলে নিয়ে এজেন্টদের বের করে দিয়ে ভোট কারচুপি করেছেন। সকাল ৮টায় যথারীতি ২৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। নবগঠিত উপজেলায় প্রথমবারেরমতো ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই পরবর্তী একঘণ্টা বুথগুলোতে পুরুষ ও নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আলীরবন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রকাশ্যে ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তৈয়ব আলী (৪৩) ও নুরুল ইসলাম (৬৫) নামের দুই ভোটারকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকরা মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সকাল ১০টার দিকে গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনিরুজ্জামান মিন্টু তার সমর্থকদের নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেন। পরে তারা ব্যালটে সিল দেন। খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা ওই কেন্দ্রে ঢুকতে চাইলে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তাদের বাধা দেয়। এ সময় তারা একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। ভোটাররা অভিযোগ করেছেন, জাকিরতবক দাখিল মাদরাসা, বেহালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নলবুনিয়া সাইক্লোন শেল্টার, হরিণখোলা দাখিল মাদরাসা, দক্ষিণ সওদাগারপাড়াসহ ২০টিরও বেশি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকরা ভেতরে ঢুকে প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করছে। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এডভোকেট আবদুল মজিদ তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় আওয়ামীলীগ প্রার্থী নিজে ও তার সমর্থকরা কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দিয়ে ইচ্ছেমতো ব্যালটে সিল দিয়ে বাক্সে পুরেছে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ফরহাদ হোসেন অভিযোগ করেন, ভোট নেয়া শুরু হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থক ও এজেন্টরা সকল কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দিয়ে ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে সিল দেন। দুপুর ১টার দিকে প্রায় সকল কেন্দ্র আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দখলে নিয়ে ইচ্ছামতো ভোট ডাকাতি করে। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, প্রশাসনের সামনে প্রকাশ্য সিল পিটিয়ে বাক্স ভরলেও তারা নীরব ভূমিকা পালন করছে। জাকিরতবক কেন্দ্রে তার কর্মী সাগর ও সাগরের পিতাকে পিটিয়ে আহত করছে। সরকার দলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা প্রতিটি কেন্দ্রে তার নেতাকর্মীদের ওপর মারধর নির্যাতন করার  অভিযোগও করেন। এদিকে নির্বাচন বর্জনের খবরের পর কেন্দ্রগুলোতে কোন ভোটার উপস্থিত হননি। কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা যায় সরকার দলীয় সমর্থক ছাড়া ভোটারদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনিরুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ সব ফরহাদ হোসেনের বানোয়াট অভিযোগ। ক্যামেরা ছিনতাই ও ব্যালটে সিল দেয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী বলেন, আমাদের কাছে এ ধরনের কোন অভিযোগ আসেনি। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল।
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে জানান, রংপুরের ৪ উপজেলার নির্বাচনে তিনটি ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে ভোটার স্লিপ ও টাকা বিতরণের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নিয়ে কাউনিয়া উপজেলায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।  এদিকে নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রংপুর সদর উপজেলায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শেষ দফায় রংপুরের ৮ উপজেলার মধ্যে ৪ উপজেলার নির্বাচন হয়েছে। ৪ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ২৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ পদে ২৪ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এদিকে সদর উপজেলায় নির্বাচনবিধি লঙ্ঘনের অপরাধে বিএনপির বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিএনপি প্রার্থী ফারুক মিয়া অভিযোগ করেছেন তার এজেন্টকে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়েছে। কাউনিয়া উপজেলার পাটোয়ারীটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আহমদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও ঠাকুরদাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার স্লিপ ও টাকা বিতরণে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম মায়া ও বিএনপি প্রার্থী মাহফুজার রহমান মিঠু সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় দুলাল মিয়া, পাগলু চন্দ্র, রফিক, ছালাম, মোস্তফা, জব্বার, নরেন্দ্র, শিবেনসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। তবে এসব ঘটনায় ভোট গ্রহণ ছিল স্বাভাবিক। তবে দু’প্রার্থীই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টিাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় বড়দরগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল সাড়ে ১০টা গিয়ে দেখা গেছে ভোটারের উপস্থিতি ছিল কম।