মঙ্গলবার হিলিতে আবারো সকাল-সন্ধা হরতালের ডাক ব্যবসায়ীদের

1/1/2006 12:01 AMমো.নুরুন্নবী বাবু.দিনাজপুর প্রতিনিধি :
হিলিতে মঙ্গলবার আবারো হরতাল আহ্বান করেছে বন্দরের ব্যবসায়ীসহ বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠন গুলো। সোমবার দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে বিজিবি কর্তৃপক্ষ এবং ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে আলোচনা ফলপ্রসু না হওয়াই এই হরতালের ডাক দেওয়া হয় বলে জানান ব্যবসায়ী নেতারা।

এদিকে আজসোমবার ৬ষ্ট দিনের মতো বন্ধ রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ স্থলবন্দর হিলি স্থলবন্দরের আমদানী-রফতানি কার্যক্রমসহ ট্রাকে পন্য লোড-আনলোড। সেই সাথে বন্ধ রয়েছে বন্দর এলাকা থেকে পণ্য পরিবহনের কাজ। ফলে সরকারের প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব।

হিলি আমদানী কারক গ্র“পের সভাপতি জানান, বিজিবি কর্তৃপক্ষ আমাদের কোন দাবি মেনে না নেয়ায় আমরা আমাদের আন্দলোন চালিয়ে যাব হরতাল চলবে।

জানাগেছে হিলি স্থলবন্দরের সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে । অজ সোমবার দুপুর ১২টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসক শামিম আল রাজি’র নেতৃত্বে বিজিবি, ব্যবসায়ী ও কাষ্টমসের কর্তৃপক্ষ একটি বৈঠকে বসে। বৈঠকে বিজিবি’র পক্ষে দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মাহামুদ, কাষ্টমসের পক্ষে হিলি কাষ্টমসের সহকারী কমিশনার, ব্যবসায়ীদের পক্ষে বাংলাহিলি সিএন্ডএফ এজেন্ট এসাসিয়েশনের সভাপতি আবুল কাশেম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান লিটন, হাকিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন মন্ডল, পৌর মেয়র সাখাওয়াত হোসেন শিল্পি উপস্থি ছিলেন।

এদিকে সোমবারের সকাল-সন্ধা হরতাল শান্তি পূর্ণ ভাবে পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালিন সময়ে হিলি থেকে সকল রুটে যান চলাচল বন্ধ ছিল। তবে ট্রেন চলাচল ছিল স্বভাবিক। বন্ধ থাকে সকল দোকান-পাঠ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠনসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো। কোন প্রকার অপ্রিতিকর ঘটনা এড়াতে বন্দরের বিভিন্ন মড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

হরতালের সমর্থনে দুপুর সাড়ে ১১টায় বন্দরের চারমাথা মোড় থেকে ব্যবসায়ীসহ বন্দর ব্যবহারকারীরা একটি বি্েক্ষাভ মিছিল নিয়ে বন্দরের প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবারো চারমাথা মরে এসে সমাবেশ করে।

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট ইন-চাজ খাজামুদ্দিন জানিয়েছেন, ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট দিয়ে ভারত-বাংলাদের মধ্যে পাসপোর্টে যাত্রী পারাপার স্বভাবিক ছিল। তবে গন্তব্যে পৌছাতে যাত্রীদের দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

উলেখ্য, বন্দরদিয়ে আমদানীকৃত পণ্যের মেনিফিষ্টে বা ট্রাক চালানে গত ২৭ তারিখ থেকে সীল মারছে বিজিবি। বিজিবি কর্তৃক এই সীল মারা, ব্যবসায়ীদের সাথে অসৌজন্য আচরণ বন্ধ এবং জয়পুরহাট ৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের অপসারণের দাবিতে ১৫ এপ্রিল বুধবার থেকে বন্দরে আমদানী-রফতানি বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করে আসছে ব্যবসায়ীসহ বন্দর ব্যবহার কারীরা। এর আগে একই দাবিতে তারা মঙ্গলবার ২ ঘন্টা এবং সোমবার ১ঘন্টার কর্মবিরতি পালন করে।