সোনিয়া, রাহুলের পদত্যাগ গৃহীত হয় নি, কংগ্রেসের নেতৃত্ব গান্ধী পরিবারের হাতেই

24093_i1বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : ভারতের সবচেয়ে পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী দল কংগ্রেসের নেতৃত্ব সেই গান্ধী পরিবারের হাতেই রয়ে গেল। কিছুক্ষণ আগে দল থেকে সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী পদত্যাগ করেন। কিন্তু তা মেনে নেয় নি দলের কার্যনির্বাহী কমিটি। ফলে নেতৃত্ব রয়ে গেল সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর হাতে। লোকসভা নির্বাচনের দলের ভরাডুবির পর আজ দিল্লির ২৪ আকবর রোডে বসে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা। স্থানীয় সময় বিকাল চারটার দিকে শুরু হয় তা। এতে দলের এমন দুর্দশার দায় কাঁধে নিয়ে পদত্যাগ করেন। তার পথ অনুসরণ করেন দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তার ছেলে রাহুল গান্ধী। কিন্তু কার্যনির্বাহী কমিটি দলের ভার তাদের ওপরই ন্যস্ত করেন। বলেন, এতবড় দায়িত্ব পালনের মতো কেউ নেই তাদের মাঝে। তারা আহ্বান জানান দলের যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য পদক্ষেপ নিতে। এক পর্যায়ে সোনিয়া গান্ধী দলকে পুনর্গঠনের নির্দেশ দেন। আগে থেকেই খবর ছড়িয়ে পড়েছিল যে সোনিয়া ও রাহুল ওই বৈঠকে পদত্যাগ করতে পারেন। গতকাল বৈঠকে সাদা কোর্তা ও জিন্সের প্যান্ট পরে হাজির হন রাহুল গান্ধী। বসেন মা সোনিয়ার ডান পাশে। আর সোনিয়া বসেন সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ডান পাশে। এতে সোনিয়ার মুখে সামান্য হাসি দেখা গেলেও রাহুল ছিলেন গম্ভীর। তাকে হাসতে দেখা যায় নি। এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি। এতে বলা হয়, দলের পার্লামেন্টারিয়ান ও সিনিয়র নেতা কমল নাথ বলেছেন, দলের ভিতর শুধু গণতন্ত্র থাকলে তা পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতির ইতি ঘটাতে পারে। তাই কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচনের জন্য অবশ্যই নির্বাচন হবে। বৈঠকের শুরুতে ২৪ আকবর রোডের বাইরে একদল তরুণ কংগ্রেস কর্মী রাহুল গান্ধীর পক্ষে সেøাগান দিতে থাকে। কিন্তু তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দল আনন্দ করতে পারে নি। উল্লাস করতে পারেনি। কমল নাথ একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেছেন, এ ব্যর্থতার জন্য কেন শুধু একা রাহুলকে দায়ী করা হচ্ছে? তার পদত্যাগ করা উচিত নয়। গত শুক্রবার প্রকাশিত লোকসভা নির্বাচনের ফলে দেখা যায় ৫৪৩ আসনের মধ্যে কংগ্রেস স্রেফ ৪৪ আসন পেয়েছে। ৩০ বছরের মধ্যে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করছে। নতুন পার্লামেন্টে এখন বিরোধী দল কে হবে, কিভাবে হবে তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। কারণ, যে কংগ্রেস গত ১০টি বছর সরকার পরিচালনা করেছে তাদের ধরাশায়ী অবস্থা এতই শোচনীয় যে তারা বিরোধী দলে বসার যোগ্যতাও অর্জন করতে পারে নি।