সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকিতে বাড়ি ঘর ছাড়া, লুটপাট-ভাঙচুর

PHOTO-01গাইবান্ধা থেকে আঃ খালেক মন্ডল ঃ   দাবিকৃত চাঁদা পরিশোধ না করায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের হাসেম বাজারে নুরুজ্জামান মিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে মারপিট, ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় নুরুজ্জামান মিয়াকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে এবং তার স্ত্রী নাজনীন বেগমকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে পারেনি। ফলে একই গ্রামের সন্ত্রাসী আব্দুর রাজ্জাক মিয়া ও তার সহযোগিরা মোবাইল ফোনে এবং লোক মারফতে নুরুজ্জামান তার পরিবার পরিজনকে হত্যাসহ মারপিটের হুমকি দিচ্ছে। সন্ত্রাসীদের হুমকিতে জীবনের নিরাপত্তার কারণে এখন পর্যন্ত তারা বাড়ি ফিরে যেতে পারছে না।

শনিবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নুরুজ্জামান এব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে অবিলম্বে আসামীদের গ্রেফতার ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরী ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে নুরুজ্জামান তার লিখিত বক্তব্য পাঠকালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, ওই এলাকার সন্ত্রাসী আব্দুর রাজ্জাক তার সহযোগি খোকন মিয়া, আতিকুর রহমান, আব্দুল খালেক, নুর আলম, ফারুক মিয়া, আরিফ ও কালু সোহেলসহ ১৫ জন সন্ত্রাসী সহযোগি তার বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নানাভাবে জবর দখলের অপ্রচেষ্টা চালায় এবং ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা পরিশোধ না করায় আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা গত ৮ মে বৃহস্পতিবার বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। এসময় তারা নুরুজ্জামান ও তার স্ত্রী নাজনীন বেগমকে মারপিট করে এবং তার শীলতাহানীর চেষ্টা চালায়। এছাড়া বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ৭০ বস্তা ধান, ২০ বস্তা চাল এবং ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ টাকা ২ লাখ ৮২ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন ও লুটপাট করে নিয়ে যায়। এব্যাপারে সদর থানায় ১৫ জন সন্ত্রাসীর নামে ১০ মে একটি মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নুরুজ্জামানের ভাই সুরুজ্জামান, তার ভাগ্নি শারমিন শেখ প্রমুখ।