লালমোহনে বোরো উৎপাদনে কৃষকের মুখে হাঁসি

bhola pic--1ফরহাদ হোসেন, লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার লালমোহনে বোরা উৎপাদন করে কৃষকের মুখে হাঁসি ফুটেছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর বোরো চাষ করে বাম্পার ফলনের কারণে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় মিটিয়ে লাভের আশা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষকরা দলবেঁধে বোরো ধান কেটে ঘরে তুলেছেন। অনেকে এখনো কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউবা আবার চাল করে বিক্রিও করেছেন। কৃষকদের ঘরে ঘরে এখন নতুন ধানের উৎসব বিরাজ করছে।

জানা গেছে, লালমোহনে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবছর গুটি ইউরিয়া ও লাইনে ধান চাষ করার কারণে সার ও কীটনাশক কম লেগেছে কৃষকদের। এতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ও আগের তুলনায় অনেক কম লেগেছে। এছাড়া ফলনও বিগত বছরের চেয়ে এবছর বেশি হয়েছে। এতে কৃষকের অনেক সাশ্রয় হয়ে সারের সঠিক ব্যবহার হয়েছে। এর ফলে ধানের ফলন বিগত বছরের তুলনায় এ বছর অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ খোকনুজ্জামান। তিনি আরো জানান, এ বছর ৯ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে লালমোহনে। সকলেরও ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকদের লাইনে ধান রোপন এবং গুটি ইউরিয়া ব্যবহারের উপকারিতার উপর উপজেলা কৃষি অফিস সার্বক্ষণিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি করছে বলেও তিনি জানান। এর ফলে কৃষকরাও বুঝতে সক্ষম হয়েছে। লাইনে ধান রোপনের কারণে সার ও কীটনাশক কম লেগেছে আগের তুলনায়। কৃষকরাও এবছর ধানের বাম্পার ফলন পেয়ে খুবই খুশি। গজারিয়ার সফু বেপারী এ বছর ৩২ শতক জমিতে ৪০ মন ধান পেয়েছেন বলে জানান। তার উৎপাদন ব্যয় হয়েছে ১৩ হাজার টাকা। বিক্রি করে তিনি ৮ হাজার টাকা লাভ করেছেন। একই এলাকার হারুন অর রশিদ বেপারী দেড় একর জমিতে এসিআই-১ জাতের বোরো ধান রোপণ করেছেন। তিনি আলু উৎপাদন করে আলু তোলার পর পতিত জমিতে বোরো ধান রোপন করেন। এতে তার খরচ হয়েছে ২৬ হাজার টাকা। ক্ষেতে উৎপাদন ভালো হয়েছে বলে তিনি জানান। এখনো তিনি ধান কাটেননি। দু’একদিনের মধ্যেই ধান কাটবেন। লালমোহনে এদের মতো সকল বোরো চাষীদের মাঝেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ঘরে ঘরে নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধ বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। কৃষকদের বাড়িতে এখন নতুন ধানের উৎসব চলছে।