সরকারের ব্যর্থতার কারণে পানির অধিকার আদায় হচ্ছে ন : মির্জা ফখরুল

fakrul-01বিএনপি‘র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারত উজানের রাষ্ট্র হিসাবে ভাটির দেশ বাংলাদেশের সাথে সৎ প্রতিবেশী হিসাবে আচরন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফারাক্কা সমস্যা সামাধানে ব্যর্থ সরকার টিপাইমুখ বাঁধ নির্মানের পক্ষে দেশের স্বার্থ বিরোধী উকালতি করছে। যে সরকার ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারে না, দেশের জনগনের কল্যাণ ও জনগনের মৌলিক চাহিদা পুরন করতে পারে না তাদের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। তিনি বলেন, ফারাক্কা, টিপাইমুখসহ ভারতের অব্যাহত পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক শক্তির জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আজ শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাব ভিআইপি লাউঞ্জে মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের ৩৮তম বার্ষিকী স্মরণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ আয়োজিত ‘ভারতের পানি আগ্রাসন ঃ আমাদের করণীয়’-শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখছিলেন। ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি‘র সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন বিএনপি চেয়াপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনডিপি মহাসচিব আলমগীর মজুমদার, ডিএল সাধারন সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, ন্যাপ ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াৎ ইবনে মঈন চৌধুরী, কাজী ফারুক হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব স্বপন কুমার সাহা, সহ-মহাসচিব মোঃ রাশেদউদ্দিন ফয়সাল, সম্পাদক মোঃ নুরুল আমান চৌধুরী, আহসান হাবিব খাজা, মোঃ শহীদুননবী ডাবলু, মোঃ কামাল ভুইয়া, মতিয়ারা চৌধুরী মিনু, আবদুল কাইয়ূম মাহমুদ, মোঃ জাহাঙ্গির আলম, নগর নেতা প্রিন্সিপাল আবদুল খালেক, মোঃ শামিম ভুইয়া, প্রিন্সিপাল নজরুল ইসলাম, মোঃ আখতার হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন ভানু, যুব নেতা মশিউর রহমান, জিয়া সেনা সাধারন সম্পাদক মঞ্জুর হোসেন ঈসা প্রমুখ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে কার্যকরী সম্পর্ক। আমরা শুধু ভারতে দিয়ে যাব বিনিময়ে আমরা কিছুই পাবো না তা হতে পারে না। আওয়ামী লীগের দাসসূলভ আচরনের কারনেই ভারত পানি আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, জাতি হিসাবে আমরা দুর্বল নই। যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, লড়াই করে গণতন্ত্র রক্ষা করবো-ভারতীয় আগ্রাসন রুখবো।

শামসুজ্জমান দুদু বলেছেন, ফারাক্কা বাঁধের ফলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলকে মরুভূমিতে পরিনত করেছে এবং টিপাইমুখ বাঁধ নির্মানের মাধ্যমে আবারো দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মরুভূমিতে পরিনত করার যে ষড়যন্ত্র করছে তার বিরুদ্ধে দেশের সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, ভারত যা বলে তা করে না, যা করে তা বলে না। আওয়ামী-বাকশালী চক্র ভারতের সাথে যতগুলো চুক্তি করেছে সবগুলো জাতীয় স্বার্থ বিরোধী। ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর মতো নেতৃত্ব তৈরী করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সাম্রাজ্যবাদী ও সম্প্রসারনবাদী শক্তির সহায়তার ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তাদের শেষ রক্ষা হবে না, হতে পারে না।

সভাপতির বক্তব্যে জেবেল রহমান গানি বলেছেন, ভারত মূলত দুটি উদ্দেশ্যে পানি আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে। এর একটি হচ্ছে রাজনৈতিক কারনে পানিকে ব্যবহার করা আর রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও পঙ্গু রাষ্ট্রে পরিনত করা। ভারতের পানি আগ্রাসন রুখতে হলে ১৬কোটি মানুষের ঐক্যকে শক্তিতে পরিনত করতে হবে। তিনি বলেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বাংলাদেশের শাসকগোষ্টি কখনো সোচ্চার নন।