গাইবান্ধার চরাঞ্চলে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন

kkkগাইবান্ধা থেকে মোঃ আঃ খালেক মন্ডলঃ গাইবান্ধার ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনার বালুর চরে মিষ্টি কুমড়া চাষ করে প্রায় সাড়ে ৪শ পরিবারের মুখ্যে সাফল্যের হাসি ফুটেছে। চরের পতিত বালুর চরে দরিদ্র নারী পুরুষের উৎপাদিত ১ হাজার ৩শ ২০ মে.টন পুষ্টিকর মিষ্টি কুমড়া স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। অর্থনৈতিভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙ্গনের শিকার বিভিন্ন বাঁধে বসবাসকারী এসব পরিবারের ভাগ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং বালুর চরে সবজি চাষের প্রবণতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উত্তরাঞ্চল ভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)এর মাধ্যমে প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশন বাংলাদেশের সহযোগি তায় ২০০৫ সালে বাংলাদেশে প্রথম ব্রহ্মপুত্র-যমুনার বালুর ইআরপি’র মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে বালুর চরে মিষ্টি কুমড়া চাষ শুরু করে। পরীক্ষামূলক প্রকল্পটির সম্পৃক্ত উপকারভোগীরা বালুর চরে মিষ্টি কুমড়া চাষ করে দারুন সফলতা অর্জন করে। এতে করে জিইউকে-প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশন বাংলাদেশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে দাতা সংস্থা ইউকেএইড-ডিএফআইডি ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পিএফপি-সিঁড়ি নামে গাইবান্ধাসহ রংপুর বিভাগের ৫টি জেলার সম্প্রসারিত আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পটিও দারুনভাবে সফলতা অর্জন করে যাচ্ছে।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের লাভলী বেগম জানান, জমি-জমা না থাকায় কোন ধরনের শস্য ঘরে তুলতে পারিনি। কিন্তু পতিত-ধূ-ধূ শুকনো বালুর চরে ফলন পাবো তা-ভাবতেই পারিনি। কিন্তু চেষ্টা ও পরিশ্রম ফলে বালুর চরে মিষ্টি কুমড়াসহ অন্যান্য শস্য উৎপাদন সম্ভব এর প্রমান নিজেই পেয়েছি। তার ঘরে  ৩শ পাকা মিষ্টি কুমড়া মজুদ করেছেন। প্রতিটি কুমড়ার ওজন ৭-১০ কেজি পর্যন্ত। ইতোমধ্যে ৫ হাজার টাকার কুমড়া বিক্রিও করেছেন তিনি। বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী তার ঘরে কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকার কুমড়া মজুদ রয়েছে।

সদর উপজেলার গিদারীর মুক্তা বেগম জানান, অনেক সম্ভাবনা রয়েছে বালুর চরে কুমড়া চাষের। ৪-৫ মাসের মধ্যে ৫-৬ হাজার টাকা খরচ করে ২০ হাজার টাকা উপার্জন-এটি দরিদ্র নারীদের জন্য অনেক কিছু বলেই তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশন বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অফিসার মিজানুর রহমান জানান, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, তিস্তার নদীর চরাঞ্চলে শতশত বিঘা বালুর চর হিসেবে পড়ে আছে। এসব পতিত জমিতে শুধুমাত্র কিছু সহজ পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে নারীদের প্রশিক্ষণ দিলে তারা নিজেরাই মিষ্টি কুমড়া চাষ করতে পারেন। কৃষিবিদ নির্মল ব্যাপারী জানান, জলবায়ুর পরির্তনের সাথে চাষাবাদের পরিবর্তন আনতে হবে। এজন্য নতুন নতুন পদদ্ধির সাথে চাষাবাদে চরাঞ্চলের নারীদের সম্পৃক্ত করতে হবে। জেলা সমন্বয়কারী জানান আবু সাঈদ জানান, জলবায়ু পরির্তন ও দুর্যোগ মোকাবেলা করে দরিদ্র পরিবারের মানুষজনকে কৃষিভিত্তিক উন্নয়নে বালুর চরে মিষ্টি কুমড়া চাষে সম্পৃক্ত করে উন্নয়নের অনেক সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এই পদ্ধতির সাথে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বলে তিনি জানান। জিইউকের কৃষিবিদ সাহিদুল ইসলাম জানান, চরাঞ্চলের দরিদ্র নারীরা বালুর চরে মিষ্টি কুমড়া উৎপাদর করে কৃষিতে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করছে। তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও উদ্ধুদ্ধ করার ফলে এই অর্জন সহজ হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন সংস্থা জিইউকে’র নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্্ সালাম জানান, প্রতিবছর বন্যা ও নদীভ্ঙ্গানে গাইবান্ধায় অবাদি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে। এতে করে জমি-জমাহারা মানুষজন বিভিন্ন বাঁধে আশ্রয় নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে জীবন-যাপন করে। কিন্তু অন্যের পতিত বালুতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করে সম্পৃক্ত পরিবারগুলো জীবনের পরিবর্তন এনেছেন।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মীর মো. আ. রাজ্জাক জানান, বালুর চরে মিষ্টি কুমড়া চাষ গাইবান্ধা জেলায় দরিদ্র নারীদের উন্নয়নে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে। প্রতিবছর নদীভ্ঙ্গানে আবাদী জমি অনাবাদি হওয়ার উৎপাদন ঘাটতি পূরণে মিষ্টি কুমড়া চাষ যথেষ্ট পরিমান যোগান দিচ্ছে বলে তিনি জানান।