রধানমন্ত্রী হলে কি হবে মোদীর প্রথম অগ্নিপরীক্ষা

38792_Modiবিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : ভারতে সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলপ্রকাশ আর মাত্র কিছু সময়ের অপেক্ষা। দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে ফল প্রকাশের আগে তাই চলেছে জোর তৎপরতা। বিজেপির সরকার গঠনের তৎপরতার মাঝে উঠে এসেছে হিন্দুত্ববাদী সংঘ পরিবারের ভূমিকা।

নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রী হবার সম্ভাবনা তৈরি হতেই হিন্দুত্বাবাদী সংঘ পরিবার নিজেদের চাল চালতে শুরু করেছে। অবশ্যই যাতে মোদীর সরকার গঠিত হবার পর, সংঘ পরিবারের গুরুত্ব যেন খাটো না হয়। বরং তাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য চাপ আসে।

এই যেমন অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ, জম্মু-কাশ্মীর সংক্রান্ত সংবিধানের ৩৭০নং ধারার বিলোপসাধন এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা ইত্যাদি। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ প্রসঙ্গে নির্বাচনি প্রচারে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ৩৭০ ধারা মুছে ফেলা হলে কাশ্মীর ভারতের সাথে থাকবে কিনা বলা মুশকিল।

ওদিকে সংঘ পরিবার মনে করে, বাবরি মসজিদের নিচে যে মন্দির ছিল তার অস্তিত্ব প্রমাণিত। সংবিধানের ৩৭০ ধারা একটা অস্থায়ী ব্যবস্থা মাত্র। আর অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এক নির্দেশিক নীতি, যাকে বলে ‘ডায়রেক্টিভ প্রিন্সিপাল’। এই তিনটি বিতর্কিত ইস্যুর সমাধান করতে হবে ভারতীয় সংবিধানের এখতিয়ারের মধ্যেই। এইসব দাবি থেকে সরে আসার দরুণ বিজেপিকে কঠিন মূল্য দিতে হয়েছিল ২০০৪ সালের নির্বাচনে, এমনটাই মনে করে সংঘ পরিবার।

সেক্ষেত্রে মোদীর প্রথম অগ্নিপরীক্ষা হবে সতর্কভাবে পা ফেলা, যাতে সংঘ পরিবারের সাথে কোনোমতেই সংঘাতের আবহ তৈরি না হয়। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা যাতে দেখা না দেয়, সেটাও দেখতে হবে মোদী সরকারকে।

দ্বিতীয় অগ্নিপরীক্ষা সংঘ পরিবার বিজেপির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে যেসব কৌশল অবলম্বন করবে, সংঘাতের পথে না গিয়ে চতুরতার সাথে তার মোকাবিলা করতে হবে মোদীকে। মুশকিল হবে, বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গড়তে না পারলে শরিক দলগুলিকেও সাথে নিয়ে চলতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই এতে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা থাকবে।

এ সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা হবে বিজেপির সংসদীয় বোর্ড। ফল ঘোষণার পর বসবে বোর্ডের বৈঠক। তাতে স্থির হবে সরকারের ভবিষ্যত কৌশলনীতি। তার আগেই অবশ্য মোদী তার অতিবিশ্বস্ত কয়েকজনকে নিয়ে একটা ‘কোর’ কমিটি তৈরি করেছেন। যার মধ্যে আছেন বিজেপি সভাপতি রাজনাথ সিং, নিতিন গডকরি এবং অরুণ জেটলি। লক্ষণীয়, বিদায়ী পঞ্চদশ সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় সুষমা স্বরাজ ছিলেন বিজেপির দলনেত্রী। তার অনুপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

উল্লেখ্য, বিজেবি এখন দুই শিবিরে বিভক্ত। একটা আডবানি শিবির এবং অন্যটি রাজনাথ-মোদী শিবির। সুষমা আদবানি শিবিরে। গুজরাটের গান্ধীনগরে নিজের সরকারি বাসভবনে তাদের নিয়ে পাঁচ ঘণ্টা বৈঠক করেন মোদী। তাতে তিনি এই বার্তাই দেন যে, সবার মতামত শুনে দলে এবং সরকারে শেষ কথা বলার হকদার তিনিই। অর্থাৎ মোদী হবেন ক্ষমতার ভরকেন্দ্র। দলের বর্তমান সভাপতি রাজনাথ সিং মন্ত্রিসভায় যাবেন কিনা, তা স্পষ্ট নয়। তবে পর্যবেক্ষক মহল বলছে, বাজপেয়ী সরকারে আডবানি ২নং স্থানে থেকে স্বরাষ্ট্র দপ্তর সামলে ছিলেন। এবারে, অর্থাৎ মোদী সরকারে রাজনাথ সিং হয়ত সেই জায়গাটা নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে উত্তর প্রদেশে বিজেপি যদি গোটা পঞ্চাশেক আসন পায়, তাহলে তার পুরস্কার হিসেবে রাজনাথের বদলে অমিত শাহ দলের সভাপতি হতে পারেন। প্রশ্ন হলো, আদভানিকে কোথায় বসানো হবে? আদভানির সম্মানজনক পদ হতে পারে বিজেপি-জোট সরকারের জাতীয় উপদেষ্টার চেয়ারম্যান করা। আর অপর প্রবীণ সদস্য মুরলি মনোহর যোশীকে সংসদের স্পিকার পদের প্রস্তাব দেয়া হতে পারে।