র‌্যাব-এর ৩ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারে অনুমতি পেয়েছে পুলিশ

23638_f2বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডারের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারে অনুমতি পেয়েছে পুলিশ। গতকাল সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিটি পুলিশ সদর দপ্তর হয়ে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, এখন আর তাদের গ্রেপ্তারে কোন বাধা নেই। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চাইলে এখন যে কোন সময় তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেন। গত রোববার এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারিক সাঈদ মাহমুদ, মেজর আরিফ ও লে. কমান্ডার রানাকে গ্রেপ্তার করতে নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। সোমবার আদালতের আদেশ অনুযায়ী তাদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কাছে সহযোগিতা চেয়ে একটি চিঠি দেন তদন্ত কর্মকর্তা। সশস্ত্র বাহিনীর চিঠির বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল রাতে মানবজমিনকে বলেন, আমরা চিঠি পেয়েছি। তাদের (সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ) কাছে সহযোগিতা চেয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। এখন তাদের দেয়া চিঠি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চিঠিটি পাওয়ার পর এটি নারায়ণগঞ্জের জেলা পুলিশ সুপারের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উচ্চ আদালতের নির্দেশের পর র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তার গ্রেপ্তার নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা চলে। এই তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হবে নাকি তারা আত্মসমর্পণ করবেন তা নিয়েও চলে আলোচনা। গত কয়েক দিন গুঞ্জন ছিল তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারেন। এর আগে সোমবার তদন্ত কর্মকর্তা সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা চেয়ে একটি চিঠি পাঠান। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে গতকাল সন্ধ্যায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর সেই চিঠির উত্তর দেয়। তাৎক্ষণিক চিঠিটি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়ে দেয়া হলে পুলিশ প্রধান তা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরাবর পাঠিয়ে দেন। এরপর তাদের গ্রেপ্তার কিভাবে করা হবে তা নিয়ে আলোচনা চলে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে পাঠানো চিঠিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ পালন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এখন তাদের গ্রেপ্তার করতে আর কোন বাধা নেই। এই চিঠির মাধ্যমে গত কয়েক দিনের প্রক্রিয়ার অবসান হয়েছে। এখন যে কোন সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। র‌্যাবের সাবেক এই তিন কর্মকর্তাকে কখন গ্রেপ্তার করা হবে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, আদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা পুলিশের অপর একটি সূত্র জানায়, চিঠি পাওয়ার পর তারা এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিভাবে র‌্যাবের সাবেক এই তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করবেন। গ্রেপ্তার অভিযানে যেতেও তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশের অপেক্ষা করছেন।
গত ২৭শে এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নাসিক প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, এডভোকেট চন্দন সরকারসহ সাত জন। তিন দিন পর ৩০শে এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীর চর ধলেশ্বরী এলাকায় তাদের লাশ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় নাসিক কাউন্সিলর নূর হোসেনকে এক নম্বর আসামি করা হয়। লাশ উদ্ধারের দিন র‌্যাব ১১-এর তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারিক সাঈদ মাহমুদ, মেজর আরিফ ও লে. কমান্ডার রানাকে প্রত্যাহার করা হয়। গত ৪ঠা মে নূর হোসেনের কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা নিয়ে এই তিন কর্মকর্তা সাতজনকে অপহরণ ও হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেন নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম। এরপর ৫ই মে তারিক ও আরিফকে সেনাবাহিনী থেকে অকালীন অবসর ও রানাকে নৌবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়। গত রোববার তাদের গ্রেপ্তারের আদেশ দেয় উচ্চ আদালত।