ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কসহ সকল সড়ক অবরোধ

Thakurgaon transport worker's road block pic-1ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ে শ্রমিকদের হয়রানির প্রতিবাদে ও চাঁদাবাজি এবং জুয়া খেলার অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক ৮ পরিবহন মটর ও ট্রাক শ্রমিকের মুক্তি দাবিতে ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সকল রুট অবরোধ করে রখেছে মটর ও ট্রাক শ্রমিকরা। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতি সারাদিন এসব সড়ক মহাসড়ক অবরোধ করে তারা। এতে দূর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী, পথচারি ও বিভিন্ন পেশার মানুষ।
পুলিশের হাতে আটকরা শ্রমিকরা হলেন, ঠাকুরগাঁও ট্রাক ট্যাংক-লড়ি শ্রমিক আব্দুস সামাদ, আব্দুল হাকিম, আতিকুল ইসলাম এবং দিনাজপুর শ্রমিক ইউনিয়নের সোহেল রানা, গাজীউল ইসলাম, হাবিব, জাফর হোসেন ও মাসুম।
পুলিশ ও শ্রমিকরা জানায়, চাঁদাবাজি এবং জুয়া খেলার অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক ৮ পরিবহন মটর ও ট্রাক শ্রমিককে আটক করে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ। শহরের বাস টার্মিনালের সামনের ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়ক থেকে বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় পুলিশ তাদের আটক করে।এর প্রতিবাদে রাত ১২টা থেকে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে ট্রাক, ট্যাংক-লরি, ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কোন রুটে কোন যানবাহন চলতে দেয়নি শ্রমিকরা। তারা বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও-ঢাকাসহ সকল অভ্যন্তরীণ রুটে বাস ও ট্রাক রেখে সড়ক ও মহাসড়কগুলো অবরোধ করে রাখে। এসময় শ্রমিকরা রাস্তায় ইটের টুকরো ফেলে রাখে। অবেরাধের কারণে মহাসড়কের উভয়পাশে অন্তত দুই থেকে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অবরোধ অব্যাহত থাকায় এ যানজটের সারি দীর্ঘ হচ্ছে। অবরোদের কারণে সম্পূর্ণ জেলার সকল সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে এক প্রকার অচল হয়ে পড়েছে ঠাকুরগাঁও। এতে দূর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী, পথচারি ও বিভিন্ন পেশার মানুষ।
তাছাড়া শ্রমিক অবরোধে আটকা পড়া ঢাকাগামী ও দুরপাল্লার বাসের যাত্রীরা নেমে হেঁটে ও রিকসা করে অনেক কষ্টে ফিরে যান গন্তব্যে। অন্যদিকে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো নিয়ে এর চালক ও মালিকরা পড়েছেন বিপাকে। এর আগে সকালে শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শ্রমিকদের অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা বললে পুলিশের সাথে শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পরে পুলিশ সদস্যদের সেখানে থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।
ঠাকুরগাঁও মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, টোল আদায়কে কেন্দ্র করে হয়রানি করার জন্য টার্মিনালে মিনিবাসে বসে থাকা অবস্থায় পুলিশ শ্রমিক ইউনিয়নের ৫ জন ও ট্রাক, ট্যাংক-লরির ৩ জন শ্রমিককে আটক করে নিয়ে যায়। ট্রাক, ট্যাংক-লরি ও মোটর মালিক সমিতি থেকে ওই রাস্তায় বৈধভাবে নিয়মিত টোল তোলা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও জেলা ট্রাক, ট্যাংক-লড়ি সমিতির সভাপতি সুজন আলী বলেন, আটককৃত শ্রমিকদের ছেড়ে না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের অবরোধ অব্যাহত থাকবে। আটককৃতদের অবিলম্বে ছেড়ে না দিলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও হুসিয়ারী দেন তিনি।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান বলেন, চাঁদাবাজি এবং জুয়া খেলার অভিযোগে ৮শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। অবরোধ প্রত্যাহার করে যানচলাচল স্বাভাবিক করতে এ ব্যাপারে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।