ডেম্যু ট্রেনে সহকারী মহিলা চালক

PHOTO -01বদরুদ্দোজা বুলু, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ

দু’জনের চারটি চোখ এদিক-ওদিক না তাকিয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। আর মাঝে মাঝে একজনের সহকারী সুইসাল (বাঁশি) বাজাচ্ছেন। দেখছেন সামনের স্টেশনের লাইন ক্লিয়ারের সিগন্যাল দিয়েছে কি না। সামনের স্টেশন আসতে সহকারী ইঞ্জিনের জানালার কছে গিয়ে শরীরের অর্ধেক বডিটা বের করে স্টেশনের পাশে গোলা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটির হাত থেকে গোলাটি ধরে ফেললো। তারপর অপর একটি গোলা স্টেশনের প্লাটফরমের উপর ফেলে দিলো। তখন গাড়ীর গতি ছিল ৪৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার। স্টেশনের অনেকেই দাঁড়িয়ে অবাক চোখে দেখছে গোলা ফেলে দেওয়া মানুষটিকে। আবার ট্রেনের অনেক যাত্রী ট্রেন থেকে নেমে একনজর দেখছেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান। আর এ প্রতিষ্ঠানে নিজের যোগ্যতা প্রমান করে চাকরী পেয়েছেন নাসরিন আক্তার (২২) নামের এক নারী। তিনি রেলওয়ের সহকারী লোকোমোটিভ মাস্টার (ফায়ারম্যান)। আজ বৃহষ্পতিবার সকালে পার্বতীপুর-লালমনিরহাট অভিমূখে যাওয়া ডেম্যু ট্রেনের ইঞ্জিনের ছিটে বসে থাকা নারী দেখে পার্বতীপুর রেল স্টেশনে মহিলা ড্রাইভারকে দেখার জন্য ইঞ্জিনের সামনে অনেক মানুষ ভীড় করছে। এসময় পৌরসভার ৪,৫ ও ৬ নম্বর সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যা মিসেস মালেকা জালালও ডেম্যু ট্রেনের ইঞ্জিনে ওঠে  এসে কথা বলেন নাসরিনের সাথে। কথা হয় এ প্রতিবেদেকের সহকারী লোকোমোটিভ মাস্টার (ফায়ারম্যান) নাসরিন আক্তারের সাথে। তার ইচ্ছা ছিল পাইলট হওয়ার। তবে পাইলট হতে না পারলে মনে তার কোন কষ্ট নেই। কারন পাইলটরা আকাশ পথে বিমান চালান আর তিনি স্থল পথে ট্রেন চালাচ্ছেন। চলন্ত ট্রেনে গোলা বা লাইন ক্লিয়ারের নাম্বার নেওয়ার সময় সামান্য হাতে ব্যাথা অনুভব হয়। তবে দু’এক মিনিটের মধ্যে আর কিছুই মনে হয় না বলে জানান। একজন নারী হয়ে রেলওয়ের ইঞ্জিনের সহকারী লোকোমোটিভ মাস্টার (ফায়ারম্যান) হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করনে তিনি। তার স্বামী একজন সেনাবাহিনীর চাকরী করেন। নাসরিনের পিতা আজিজুল ইসলাম। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বাড়ী পার্বতীপুর পৌর শহরের পুরাতন বাজার মহল্লায়। নাসরিনের শশুরও একজন অবসর প্রাপ্ত রেলওয়ের লোকোমোটিভ মাস্টার ছিলেন। নাসরিন বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সব চাকরীর ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সৎ মনোভাব নিয়ে এগিয়ে এসে জনকল্যাণ ও সেবা মূলক কাজ করতে হবে। এদিন ডেম্যু ট্রেনের লোকোমোটিভ মাস্টার (ড্রাইভার) ছিলেন শেখ আবুল হোসেন। তিনি আগামী জুন মাসের মধ্যে চাকরী থেকে অবসর গ্রহন করবেন বলে জানান।