বিশেষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পিস্তলের লাইসেন্স পেয়েছিলেন নূর

23344_f3বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : বিশেষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পিস্তলের লাইসেন্স পেয়েছিলেন হাজী নূর হোসেন। অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের শর্ত হিসেবে তার বাৎসরিক আয়কর প্রদানের পরিমাণ নির্ধারিত সীমার উপরে ছিল। এরপরও বিশেষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে অস্ত্রের লাইসেন্স নেন তিনি। তার লাইসেন্স প্রদান সংক্রান্ত ফাইলে অনুমোদন দেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লাইসেন্স প্রদান সংক্রান্ত ফাইলে তার পিতার নাম হাজী বদরউদ্দিন, মাতা হাজী আলিমুন্নেসা, সাং শিমরাইল, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ উল্লেখ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা তার পিস্তলের লাইসেন্স নং ২৮৫/২০১৩। এ লাইসেন্সটি পাওয়ার পর তিনি একটি জার্মানির তৈরী পিস্তল কেনেন। যার নং এফ৭৬২৫৩ডব্লিউ। এ ছাড়া তার নামে ২২ বোর রাইফেলের লাইসেন্স ইস্যু করা হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে। এ অস্ত্রটি কেনার পর তিনি রাইফেল কেনেন। যার নং- বি ০৩১০২৩। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে বছরে ন্যূনতম এক লাখ টাকা কর পরিশোধকারী অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। এর মধ্যে শটগান ও পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেলের লাইসেন্স জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে জেলা প্রশাসকই দিয়ে থাকেন। আর পিস্তল ও রিভলবারের লাইসেন্স দিয়ে থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে উভয় ক্ষেত্রে স্থানীয় থানার ওসি আবেদনকারীর ব্যাপারে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেন। ওই প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপারের হাত হয়ে পুলিশ সুপারের কাছে যায়। পুলিশ সুপার সেটি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠান। শটগান বা পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল হলে পুলিশ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লাইসেন্স দেন। আর পিস্তল বা রিভলবার হলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওই প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশসহ পাঠিয়ে দেন। তবে পিস্তল বা রিভলবারের লাইসেন্স পেতে হলে বছরে তিন লাখ টাকা কর পরিশোধ করতে হয় পর পর তিন বছর। নূর হোসেন যে সময় অস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছেন ওই সময় ডিসি ছিলেন মনোজ কান্তি বড়াল এবং এসপি নূরুল ইসলাম। ওদিকে নূর হোসেনের লাইসেন্স ছাড়াও তার পরিবারের সদস্য ও ক্যাডার বাহিনীর সদস্যদের নামে আরও নয়টি অস্ত্র রয়েছে। গত ৫ই মে নায়ায়ণগঞ্জের ডিসি মো. আনিছুর রহমান মিঞা এসব লাইসেন্স বাতিল করেন। বাতিল করা অস্ত্রের মালিকদের মধ্যে মো. নূর উদ্দিন মিয়া নূর হোসেনের ছোট ভাই। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক। ১৯৯৬ সালের পর থেকে ২০০৬ সালের আগ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা থাকলেও সেগুলো থেকে তিনি খালাস পান। ভাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে গত বছর তিনি এই শটগানের লাইসেন্স পান। মো. নূর উদ্দিন মিয়ার শটগানের লাইসেন্স নম্বর ৫২৮/১৩ এবং শটগান নং ৬০৩৩১৭৪/৩০৩৬৯২৭। ওদিকে বাতিলকৃত শটগানের লাইসেন্স পাওয়া শাহজালাল বাদল নূর হোসেনের বড় ভাই নূর সালামের ছেলে। বাদল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক। তার বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের আগ পর্যন্ত হত্যা মামলাসহ ১০-১২টি মামলা হয়। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা হলেও উচ্চ আদালত থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হন। শাহজালালের শটগানের নম্বর ৬০৩২৫৫৯/৩০৩৬২৫২। এনপিবি পিস্তলের লাইসেন্স নম্বর এ-৭৪৮৬৬৮। বাতিলকৃত শটগানের লাইসেন্স পাওয়া জামালউদ্দিন চিটাগাং রোড রেন্ট-এ-কার মালিক সমিতির সভাপতি। তার বাড়ি মিজমিজির বাতানপাড়া এলাকায়। আদমজীর প্রয়াত শ্রমিক নেতা রেহান উদ্দিনের খালাতো ভাই জামাল নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহচর। জামালউদ্দিনের শটগানের লাইসেন্স নম্বর ৫১৮/১৩ এবং শটগান নং- ১৪৪৩৫। অন্যদিকে মো. শাহজাহানের নামে ইস্যু করা শটগানের লাইসেন্সও বাতিল হয়ে গেছে। মো. শাহজাহানের শটগানের লাইসেন্স নম্বর ৫১৭/১৩ এবং শটগান নং-৬০৩২৫৬১/৩০৩৬২৫৪। এ ছাড়া আলী মোহাম্মদের শটগানের লাইসেন্স নম্বর ৫৩২/১৩, মো. সানাউল্লাহর শটগানের লাইসেন্স নম্বর ৫৩৩/১৩, মো. আরিফুল হক হাসানের এনপিবি রিভলবারের লাইসেন্স নম্বর ১৬৬/১৩ এবং শটগানের লাইসেন্স নম্বর ৫১১/১৩ বাতিল করেছে নারায়ণগঞ্জ ডিসি অফিস। এসব অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের আদেশে বলা হয়, এসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীরা লাইসেন্সের শর্ত ভেঙে প্রকাশ্যে দলবল নিয়ে বেপরোয়া চলাফেরা করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। পুলিশ সুপার জেলা বিশেষ শাখা তাদের লাইসেন্স বাতিলের অনুরোধ করেছেন। এজন্য অস্ত্র আইনের ১৮(ক) ধারা অনুযায়ী তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।