আল জাজিরার প্রতিবেদন : বাংলাদেশে রাজনৈতিক অপহরণ বেড়েছে

23342_f5বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : বাংলাদেশে রাজনৈতিক অপহরণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর ৫০ জনের বেশি রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিখোঁজ হয়েছেন। মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো এর জন্য দায়ী করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে। গতকাল অনলাইন আল জাজিরায় ‘বাংলাদেশ এবডাকশনস ব্লেমড অন স্টেট ফোর্সেস’ শীর্ষক একটি ভিডিও প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিও প্রতিবেদনে বলা হয়, অপহৃতদের বেশির ভাগই বিরোধী রাজনৈতিক দলের অথবা ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী অংশের। টার্গেটে পরিণত করা হয়েছে এমন সংস্থার নেতা ও কর্মীরা বলছেন, নিরাপত্তার জন্য তারা এখন সঙ্গী-সাথি নিয়ে একসঙ্গে চলাফেরা করেন। এতে আরও বলা হয়, মানবাধিকার গ্রুপগুলো নিখোঁজ ঘটনার জন্য দায়ী করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে। রিপোর্টটি করেন নারায়ণগঞ্জ থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক মেহের সাত্তার। এতে নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে ভ্যানে রাখা আলোচিত সাত খুনের লাশ দেখিয়ে বলা হয়, সাতজনকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। এরপর লাশের সঙ্গে ইট বেঁধে ফেলে দেয়া হয় নদীতে। যাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তারা সবাই স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী। নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বলেন, তার স্বামীকে অপহরণ করার পরে বেশ কয়েক দিন জানতে পারেন নি তার কি পরিণতি হয়েছে।
সমপ্রতি কয়েক ডজন মানুষকে অপহরণ করা হয়েছে বাংলাদেশে। যখন তাদের লাশ নদীর তীরে ভেসে ওঠে তখন তাতে সারা দেশ শোকাতুর হয়ে ওঠে। সামপ্রতিক সময়ে নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের বিরুদ্ধে এমন হত্যার অনেক অভিযোগ ওঠে। কিন্তু কাউকে এ জন্য বিচার করা হয় নি। সাত খুনের মামলায় তদন্তকারী নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, আমি যদি কাউকে দোষী পাই তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো। এতে কোন সমস্যা নেই। আমাকে কেউ বাধাও দিচ্ছে না। বিরোধীদলীয় নেতা এটিএম কামাল পুলিশের হাতে হয়রানির অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের এখন স্বাভাবিক চলাচলের মতো কোন অবস্থা নেই। এমনকি আমি বাড়িতে ঘুমাই না। রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনীতি মাঝেমাঝেই সহিংস হয়ে ওঠে। ইদানীং তা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।