রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক পুনঃসংস্কারের নামে ৪২ লাখ টাকা লুটপাট

RAMU.NAKOYAN CHARI ROAD.jpg--2এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে ফিরে :
বান্দরবান পার্বত্য জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর অধিনে রামু- নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের চার কিলোমিটার বিধস্ত সড়ক পুনঃসংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৪২ লাখ টাকার সিংহভাগই লুপাট করছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।   পুনঃসংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক নীরবতায় জনমনে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। কাজের মান নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেনখোদ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি , সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন মহল।

রামু – নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কটি অত্যন্ত গুরুপূর্ণ। এই দীর্ঘ এই সড়কটিরকিছু অংশ কক্সবাজারের রামু এলাকাধীন এবং কিছু অংশ পড়েছে বান্দরবানজেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাধীন। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির বিভিন্ন অংশে ব্রীক সলিং ভেঙ্গে গিয়ে, ভিটুমিন উঠে খানা খন্দকের সৃষ্টি হয়। জন ও যান চলাচলে মারাত্মক বিঘঘিœত হয়।

গত অর্থ বছরে এই রামু -নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কটির ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়ক পুনরায় সংস্কারের উদ্যোগ নেন বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগ। গত অর্থ বছরে সড়ক সংস্কারের জন্য দরপত্র আহবান করলে বান্দবানেরর দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্টান কাজটি পান। দুইটি প্যাকেজে প্রায় ৪ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের জন্য সওজ বরাদ্দদেন ৪২ লাখ টাকা। দুউ প্যাকেজে সড়ক সংস্কারের কাজ লটারীরর মাধ্যমে বান্দরবানের মেয়রের এক ভাই একটি প্যাকেজপেলেও অপরটি ভিন্ন ঠিকাদারের কাজথেকে কিনে নিয়ে দুই করছে ওইমেয়রের ভাই। গত ৭ মে কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। কিন্তু সরকারী বরাদ্দে কাজের শুরুতেই হয়ে যায় গলদ।

নিদৃষ্ট সিডিউল মতে স্বচ্ছ ভাবে সড়কটির পুনঃসষ্কার কাজ সম্পন্ন করা হলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না।কোন মতে কিছু ভিটুমিন আর নুড়িপাতর দিয়েযেনতেন ভাবে সড়ক সংস্কার কাজ চালিয় যাচ্ছে।কোনকোন স্থানে কাজশেষ না হতেই উঠে যাচ্ছে ভিটুমিন সহ নুড়িপাথর গুলো। এনিয়ে দুই উপজেলা রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি মানুষ ক্ষুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

ব্যাপক অনিয়ম আর সরকারী অর্থ লুটপাট করা হলেও সড়ক ও জনপথেরকোন উর্ধবতন কর্মকর্তাই কাজের তদারকি করছেন না।

এলাকাবাসি জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের জনি নামের এক ভাই নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকার কিছু উশৃংঙ্খল যুবক নিয়ে প্রায় ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি তদারকি করছেন। নাইক্ষ্যংছড়ির এসও এবং কাজ তদারকি কর্মকর্তাসেলিম নামের এক ব্যক্তি মিলে এই লুটপাটের মহোৎসব চালাচ্ছে।

রামু এলাকার খালেদ হোসেন, শাহ আলম জানান, নাম মাত্র কাজ করেই সরকারী টাকা হালাল করা হচ্ছে। বিশাল অর্থের বরাদ্দের কাজকোন তদারকি না থাকায় চলছে ব্যাপক অনিয়ম আর দুর্নীতি।

তারা জানান, ঠিকাদারের ইচ্ছানুযায়ী সড়ক পুনঃসংস্কার (রিফাইরিং) কাজ করায় জনস্বার্থে স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করলে প্রতিবাদী লোকজনকে ঠিকাদারের ভাই পরিচয়দানকারী জনির পুষ্য সন্ত্রাসীদের দ্বারা হুমকির ঘটনা ঘটেছে। অনেকটা ভয়েই রামু জনগণ নীরব ভুমিকা পালন করছে বলে জানান তারা।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাবীব উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক তছলিম ইকবাল চৌধররী জানান, জনগণের চলাচলের সুবিধার্তে সড়কটি পুনঃসংস্কারের জন্য সরকার ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু সংস্কারের নামে সরকারী অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে এখানে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। আমরা এ ধরনের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে উর্ধবতন মহলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এব্যাপারে কথা বলার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকেখোঁজতে গিয়ে তাকে পাওয়া নাগৌে ঠিকাদারের ভাই পরিচয়ে জনি জানান, কাজ সুন্দর ভাবে হচ্ছে। এখানে অনিয়ম করলেও কোন কিছু করতে পারবে না। আমরা সরকার দলীয় লোক।

এ ব্যাপারে বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাজেরকোন ত্রুটি থাকলে তা পুনরায়করা হবে।

এ প্রশ্নের জবাবে তিনি সংবাদকর্মীদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আমরা দুর্নীতি করি, তা সবাই ভাগাভাগিও করে খাই।