চট্টগ্রামে জামায়াতের ২১ নেতাকর্মী কারাগারে, হরতাল আজ

23338_b2বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : চট্টগ্রামে ‘গোপন মিটিং’ করার অভিযোগে আটক হওয়া জামায়াতের ২১ নেতাকর্মীকে জেলে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী রোববার তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সময় নির্ধারণ করেছে আদালত।
গতকাল বিকালে আদালতে হাজির করার পর মহানগর হাকিম রহমত আলী তাদের জেলে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় আদালতের বাইরে জামায়াত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে জমায়েত হন শ’ শ’ দলীয় নেতাকর্মী।
তারা আজ ঘটনার প্রতিবাদে ডাকা হরতাল সর্বাত্মকভাবে পালন করার ঘোষণা দেন। এর আগে সোমবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে সরকারকে দায়ী করে কথা বলার একদিন পর চট্টগ্রামে আটক করা হয় জামায়াতের সাবেক প্রভাবশালী এমপি ও মহানগর শাখার আমীর আ ন ম শামসুল ইসলামকে।
একই সঙ্গে গোপন মিটিং করার অভিযোগে দলীয় আরও ২১ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। শহরের দেওয়ানবাজার এলাকার জামায়াত কার্যালয় থেকে তাদের ধরা হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবি করেছেন দলের দায়িত্বশীল নেতারা।
বলেছেন, আটককৃতদের মুক্তি না দিলে হরতালসহ নানা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন তারা। কোতোয়ালি থানার ওসি এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘আটককৃতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। আদালত তাদের রিমান্ডের জন্য আগামী ১৮ই মে দিনক্ষণ নির্ধারণ করেছেন।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুরে দেওয়ানবাজার এলাকার ওই জামায়াত কার্যালয়ে হঠাৎ করেই জমায়েত হন সিনিয়র নেতারা। এ সময় সেখানে নগর শাখার সেক্রেটারি নজরুল ইসলামও ছিলেন। একপর্যায়ে মিটিং চলাকালে সংগঠন কার্যালয়ে হানা দেন পুলিশ সদস্যরা। তারা অভিযান চালানোর আগে পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলেন। পরে উপস্থিত সবাইকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে এক সভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সাবেক এমপি ও চট্টগ্রাম মহানগর শাখার আমীর শামসুল ইসলাম বলেছেন, ‘সারা দেশে খুন, গুম, অপহরণ এবং গণগ্রেপ্তার নিয়ে জনগণ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে জীবনযাপন করছে।’
সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিরোধী দল দমনে ব্যস্ত করে রাখায় দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। নারায়ণগঞ্জ, সাতক্ষীরা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বগুড়া, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, সীতাকুণ্ডসহ সারা দেশকে সরকার মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে। আজ দেশে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নেই। জননিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নেই।
তিনি অবিলম্বে খুন, গুম, অপহরণ, সারা দেশে গণগ্রেপ্তার ও জুলুম-নির্যাতন বন্ধের জোর দাবি জানান। সরকারের এ ‘হত্যা ষড়যন্ত্র’ রুখতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর কর্মপরিষদের এক সভায় তিনি সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এ কথা বলার পরদিন সোমবার তাকে আটক করা হয়। প্রতিবাদে সোমবার রাতে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। জামায়াতের অঙ্গসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের পেডে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলের সভাপতি মসরুর হোসাইন ও নগর দক্ষিণ সভাপতি এম এইচ সোহেল জানান, শামসুল ইসলাম, আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ ও নজরুল ইসলামসহ শীর্ষ জামায়াত নেতাকর্মীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
সরকার জন-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়ে জামায়াত নেতাকর্মীকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে গ্রেপ্তার করেছে। সরকার দলের যেসব সন্ত্রাসী সারা দেশে হত্যা, সন্ত্রাস ও গুম করছে সরকার তাদের গ্রেপ্তার করার পরিবর্তে নিছক রাজনৈতিক কারণে জামায়াত নেতাকর্মীদের অযথা হয়রানি করছে। জামায়াতের নেতাকর্মীদের আটক করে সরকার প্রভুদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে উঠেপড়ে লেগেছে। বিকিয়ে দেয়া হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব।
পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের। এভাবে হত্যা, নির্যাতন ও গুমের মধ্য দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের পথকে রুদ্ধ করা যাবে না। শিবির নেতারা আটক নগর জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবি জানান। অন্যথায় শিবির নেতারা ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।