শেষ ধাপেও কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা

1_72086বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : উপজেলা নির্বাচনে কেন্দ্র দখল ও ভোট জালিয়াতির ধারবাহিকতায় শেষ ধাপেও এমন শঙ্কা প্রকাশ করছেন প্রার্থীরা। সহিংসতার পুনরাবৃত্তি না ঘটতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করছেন অনেক প্রার্থী। তবে আচরণবিধি লঙ্ঘন, হামলা-ভাংচুর, কেন্দ্র দখলের আশঙ্কায় আগাম অভিযোগ করলেও এখনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আসছে নির্বাচন কমিশনে। অনেক জায়গায় প্রভাবশালী প্রার্থীদের পক্ষে স্বয়ং প্রশাসনও কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে কেউ আবার স্থানীয় প্রশাসনের বদলির আবেদনও জানিয়েছেন। কিন্তু বরাবরের মতো এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না কমিশন। দেখা গেছে, শেষ ধাপের নির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থীদের হুমকি আতঙ্কে রয়েছে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। প্রার্থীদের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে নানা বাধা ও হামলার শিকার হচ্ছেন তারা। অনেক প্রার্থীকে বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। তাই শেষ ধাপের নির্বাচন নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করে সরকার দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ করেছেন অনেক প্রার্থী। রোববার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাওছারুল ইসলাম সুমন (মোটরসাইকেল) নির্বাচন কমিশনে সরকার সমর্থিত প্রার্থীর হুমকি-ধমকি ও কেন্দ্র দখলের বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রার্থী গোলাম সারওয়ারের লোকজন আগের রাতেই কেন্দ্র দখল করে নেয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া এ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ভোটের দিন আটটি ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্র দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতের জন্য ইসিকে অনুরোধ করেছেন তিনি। এছাড়া এসব কেন্দ্রে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগে সব ব্যবস্থা নিতে ইসিকে অনুরোধ জানিয়েছেন। স্পর্শকাতর আটটি ইউনিয়ন হচ্ছে পেরুল উত্তর ও দক্ষিণ, বাঘমারা উত্তর ও দক্ষিণ, ভুলুন উত্তর ও দক্ষিণ, ভেলঘর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়ন। একই ভাবে রোববার সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আবেদন জানিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবদুল আজিজ সরকার। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থী আবদুল মতিন চৌধুরী ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও রিটার্নিং অফিসার তার প্রার্থিতা বহাল রেখেছেন। শুধু তা-ই নয়, স্থানীয় প্রশাসন আওয়ামী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে। নির্বাচনের দিন কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতির প্রস্তুতি নিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী। এজন্য কমিশন থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ও ঋণখেলাপির বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

একই ধরনের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী সাহিদ সিরাজী। কমিশনে দেয়া অভিযোগে তিনি বলেন, সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থী নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। নিয়ম ভেঙে প্রতিদিন দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন স্থানীয় এমপি। এছাড়া স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও সরকারদলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। এ অবস্থায় বিজয়নগর থানা ওসি আবদুল রসুল নিজামীসহ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলির আবেদন জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনেরও দাবি করেন এ প্রার্থী। এ রকম আরও অসংখ্য অভিযোগ এসেছে ইসিতে। কিন্তু নির্বাচনের এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না ইসি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহনেওয়াজ বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, ষষ্ঠ ধাপে ১২ উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে ১৯ মে।