লালমোহনে ইলিশের নিষেধাজ্ঞার শেষ হলে ও জেলেদের পূর্ণবাসনের চাল বিতরনে অনীহা

Volaফরহাদ হোসেন, লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার লালমোহনে জেলে পূর্ণবাসনের চাল বিতরনের ক্ষেত্রে বিতরণকারীর দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের উদাসীনতা, তালিকা প্রণয়নে মন্থর গতি, কোন কোন স্থানে বিতরণকালে ওজনে কম দেওয়াসহ নানা অনিয়ম আর অনিহার তথ্য মিলেছে। এমনকি বিগত বছরের চাল বিতরণ না করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। যার ফলে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্নসহ জেলেদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সূত্র মতে, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া লাগোয়া হওয়ায় সরকার কর্তৃক মাছ নিধন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পরে এ এলাকা। তুলনামুলক জেলের সংখ্যাও রয়েছে অন্য কয়েকটি উপজেলার  চেয়ে বেশি। বিগত ১লা মার্চ থেকে সরকার মাছ নিধন, মজুদ, বিক্রি বন্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সরকারের আইন মেনে এ এলাকার জেলেরাও কার্যত মাছ ধরা থেকে বিরত থাকেন। এ অবস্থায় এসব জেলেদের জন্য সরকার কর্তৃক পুর্ণবাসনের নিমিত্তে চাল বিতরণ কর্মসুচি গ্রহণ করা হয়। নিষেধাজ্ঞার দুই মাস সময়সীমা পার হয়ে গেলেও অনেক এলাকাতেই চাল পায়নি জেলেরা। কোন কোন এলাকায় বিতরণ করা হলেও ওজনে কম দিয়ে বিদায় করা হয়েছে জেলে সম্প্রদায়ের লোকজনকে। মাস পেরুলেও লর্ডহার্ডিঞ্জ, ফরাজগঞ্জ, বদরপুর, পশ্চিম চরউমেদসহ বেশিরভাগ এলাকায় এখনো জেলে পুর্ণবাসনের চাল বিতরণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। আবার ধলিগৌরনগর ইউনিয়নে চাল বিতরণ করা হলেও তাতে অনেক জেলে ওজনে কম পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যে সব এলাকায় বিতরণ করা হয়নি ওই সব এলাকার বরাদ্ধকৃত চাল কোন কোন ক্ষেত্রে উত্তোলন করে নিয়েছে বলে জানা গেছে। আবার কোন ইউনিয়নে এখনো তালিকা প্রণয়ন পর্যন্ত করা হয়নি। তালিকা প্রণয়ন হয়নি এমন এলাকা ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন। এ এলাকাতে প্রতিবারই চাল বিতরণের সময় হট্টগোল হয় বিতরণকারী ও জেলেদের। অভিযোগ রয়েছে বিগত বছরের জেলে পুনণবাসনের ২৯ টন ৮শত কেজি চাল জেলেদের মাঝে বিতরণ না করে লোপাট করেছে সিপিসিসহ কতিপয় ব্যক্তিরা। জেলেরা ইউএনও ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দাখিল করেও কোন প্রতিকার পায়নি। এ ইউনিয়নে এ বছরও ৮৩০ কার্ডের বিপরীতে ৪ মাসের জন্য ৪০ কেজি করে মোট ১৬০ কেজি জনপ্রতি চাল বরাদ্ধ হয়েছে। গত বছরের সিপিসি এবছর বদল হয়ে নতুন সিপিসি হয়েছে। এবছর সিপিসি হয়েছে ১নং ওয়ার্ড মেম্বার ফয়েজুল্লা খোকন। তিনি জানান, কয়েকদিনের মধ্যেই জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করা হবে।