চলচ্চিত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি জরুরি

06_71806বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উন্নত জীবনদানে অনুপ্রাণিত করার মতো চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চলচ্চিত্র একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম চলচ্চিত্র মানুষের কথা বলে, জীবনের কথা বলে। চলচ্চিত্র জাতি গঠনে এবং শিক্ষাবিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১২ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথাগুলো বলেন। তিনি বলেন, নান্দনিক চলচ্চিত্রে জীবনের সব কিছুই প্রতিফলিত হতে পারে। চলচ্চিত্রে রয়েছে চিত্তবিনোদনের সুযোগ। মানুষ প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে পুরো পরিবার নিয়ে সিনেমা উপভোগ করতে পারে। তবে যুবসমাজকে বিপদে ফেলে দিতে পারে এমন চলচ্চিত্র নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি আন্তরিক। বর্তমানে সিনেমায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা জরুরি। এ জন্য আমরা এফডিসিকে আধুনিকায়ন করার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। সারা দেশের প্রেক্ষাগৃহকে আধুনিক করার জন্য সরকার সহায়তা করতে প্রস্তুত। এতে চলমান প্রেক্ষাগৃহ আধুনিক হওয়ার পাশাপাশি বন্ধ প্রেক্ষাগৃহগুলো ফের সচল হতে পারে। সেই সঙ্গে দর্শকদের বিনোদনের ব্যবস্থা করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় চলচ্চিত্রে ছিল নির্বাক যুগ, তারপর সবাক যুগ, এখন ডিজিটাল যুগ। যুগের পরিবর্তন ঘটেছে। চলচ্চিত্রের উন্নয়নে পুরনোদের দেখানো পথ দিয়ে তরুণরা এগিয়ে যাবে নতুন যুগে। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রের উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে আসছে। অনুদানের অর্থে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য এবং একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য শিশু চলচ্চিত্র নির্মাণে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসসমৃদ্ধ চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১২-এ আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্ত অভিনেতা খলিল উল্লাহ খানের আজীবন চিকিৎসা ব্যয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপির সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্যসচিব মরতুজা আহমেদ। সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি একেএম রহমত উল্লাহ এমপি। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১২-প্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষে আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্ত শিল্পী খলিল উল্লাহ খান অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মৌসুমী ও ফেরদৌসের উপস্থাপনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনা করেন সাবিনা ইয়াসমীন, এসআই টুটুল, হাবিব ও কণা। ছায়াছবির গানে পারফরমেন্স করেন ওমর সানি-নিপুণ, শিমলা-জায়েদ খান, নিরব-অমৃতা খান, তমা মির্জ্জা-রোজ এবং পরীমনি ও শাহরিয়াজ। পুরো অনুষ্ঠানটি বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড এবং বাংলাদেশ বেতার সরাসরি সমপ্রচার করে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১২
২০১২ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- আজীবন সম্মাননা খলিলউল্লাহ খান, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র উত্তরের সুর (প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর), শ্রেষ্ঠ পরিচালক হুমায়ূন আহমেদ (ঘেটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার শাহনেওয়াজ কাকলি (উত্তরের সুর), শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হুমায়ূন আহমেদ (ঘেটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা রেদওয়ান রনি (চোরাবালি), প্রধান চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা শাকিব খান (খোদার পরে মা), প্রধান চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী জয়া আহসান (চোরাবালি), পার্শ্বচরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান (চোরাবালি), পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী লুসি তৃপ্তি গোমেজ (উত্তরের সুর), খলচরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম (চোরাবালি), শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী মামুন (ঘেটুপুত্র কমলা), শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার মেঘলা (উত্তরের সুর), শ্রেষ্ঠ গায়ক পলাশ (খোদার পরে মা), শ্রেষ্ঠ গায়িকা রুনা লায়লা (তুমি আসবে বলে), শ্রেষ্ঠ গীতিকার মিল্টন খন্দকার (খোদার পরে মা), শ্রেষ্ঠ সুরকার ইমন সাহা (পিতা), শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক ইমন সাহা (ঘেটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান (ঘেটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ চিত্রসম্পাদক সলিমুল্লাহ সলি (ঘেটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ রূপসজ্জাকর খলিলুর রহমান (ঘেটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ পোশাক পরিচ্ছদ ও অঙ্গসজ্জা এসএম মাইনুদ্দিন ফুয়াদ (ঘেটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক রিপন নাগ (চোরাবালি), শ্রেষ্ঠ শিল্পনির্দেশক (যৌথভাবে) কলন্তর ও উত্তম গুহ (রাজা সূর্য খাঁ)।