নালিতাবাড়ীতে ভোগাই নদীর খালে বাম্পার বোরো আবাদ

Sherpur News 10-05-14শাকিল মুরাদ, শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই নদী থেকে সুতিয়ার খালে পানি স্থানান্তর করে জল কপাটের (স্লুইজ গেট) মাধ্যমে পানি আটকে রেখে সুতিয়ার পাড়ে কৃষকরা এবার বোরো আবাদ করতে পারায় তাদের মুখেও হাসি ফুটে উঠেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০১০-১১ অর্থ বছরে জাপানী সাহায্য সংস্থা জাইকার অর্থায়নে স্থানীয় জনগনের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এলজিইডি প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ভোগাই নদীতে এই ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের ফুলপুর বান্দের বাজার সংলগ্ন ভোগাই নদীর পাড়ে বিদ্যুত চালিত দুটি মটর এবং খালের ৮ কিলোমিটার ভাটিতে একটি জলকপাট নির্মাণ করা হয়। মটরের মাধ্যমে ভোগাই নদী থেকে পানি তুলে সেই পানি সুতিয়ার খালে নিয়ে মজুদ হওয়ার ফলে উপজেলার তিন ইউনিয়নের ১২ শতাধিক কৃষক সেচ সুবিধা পেয়ে বোরো আবাদ করেছে। এ ক্ষুদ্র সেচ পরিচালনার জন্য স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে গড়ে উঠেছে সুতিয়ার খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি।

ঐ এলাকার কৃষকরা জানান, দেশ স্বাধীনের  প্রায় সাড়ে ৩ যুগেরও বেশী সময় অতিবাহিত হলেও নালিতাবাড়ীর রামচন্দ্রকুড়া, কাকরকান্দি ও নালিতাবাড়ী ইউনিয়নের প্রায় ১৫ টি গ্রামের শত শত কৃষক সেচ সুবিধা না থাকায় বোরো আবাদ করতে পারতো না। কিন্তু এবার ক্ষুদ্র সেচ হওয়ায় এইসব এলাকার কৃষকরা সেচের সুবিধা পেয়ে বোরো আবাদ করতে পেরে বিশাল খুশি। তাছাড়া খালে পানি থাকায় দেশী মাছ পাওয়া যাচ্ছে। লোকজন গোসল করতে, গবাদি পশু ধোয়াতে পারছেন এবং নিত্যদিনের কাজে পানির সহজপ্রাপ্যতা ঘটেছে বলেও জানান ঐ এলাকাবাসী লোকজনরা।

 

অনেকে বলেন, খালে পানি থাকায় শুস্ক মওসুমেও এবার তাদের টিউবঅয়েল গুলোতে পানি পেতে কোন সমস্য হয়নি। সুতিয়ার খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, সুতিয়া খালে পানি মজুদ করে এবার সেচের সুবিধা পেয়ে নতুন করে ৫শ  একর জমিতে বোরো আবাদের আওতায় এসেছে। আগামী বছর এ আবাদ  ৮শ  একর ছাড়িয়ে যাবে বলে তারা আশাবাদী।