দিনাজপুরে পরিবহন ধর্মঘটের তৃতীয় দিন অতিবাহিত, ভোগান্তিতে জনগণ

dinjpurমো.নুরুন্নবী বাবু.দিনাজপুর প্রতিনিধি :
জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের সাথে সমঝোতা বৈঠকে কোন সিদ্ধান্ত না হওয়ায় দিনাজপুরে  পরিবহন ধর্মঘট শনিবার তৃতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে। বাস শ্রমিকেরা দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন। পরিবহন ধর্মঘটের ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এই সুযোগে অসাধু কর্মচারীরা কালো বাজারে চড়া দামে রেলের টিকেট বিক্রি করছেন।

হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) এর শিক্ষার্থীদের সাথে বুধবার সন্ধ্যায় পরিবহন শ্রমিকদের সংগঠিত সংঘর্ষের জের ধরে শনিবার তৃতীয় দিনের মত দিনাজপুরে পরিবহন ধর্মঘট পালিত হওয়ায় দেশের সাথে দিনাজপুরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পরিবহন ধর্মঘট তুলে নেয়ার ব্যাপারে সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ রফিক ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বিসহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে দীর্ঘ বৈঠক করলেও কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা শেষ হয়। শুক্রবার দুপুরে হুইপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসলে ছাত্ররা দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কে অবরোধ তুলে নেন। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন নিরাপত্তা, দোষী শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার ও শাস্তি এবং বাসের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান ছাড়া কোন সমঝোতা হবে না। শনিবার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি জানান, পরিবহন শ্রমিকরা বার বার নির্যাতিত হবেন না। তাই দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। চলমান ধর্মঘট রংপুর বিভাগের ৮টি জেলায় শুরু করার সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে তিনি জানান।

টানা তৃতীয় দিনের পরিবহন ধর্মঘটের ফলে দিনাজপুরের সাথে দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় রেলে যাত্রীদের প্রচন্ড চাপ বেড়েছে। এই সুযোগে রেলের এক শ্রেণীর কর্মচারী চড়া দামে টিকেট কালো বাজারে বিক্রি করছেন। যাত্রীদের বাধ্য হয়ে চড়া দামে টিকেট কিনতে হচ্ছে।

অব্যাহতভাবে বাস ধর্মঘটের ফলে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। পরিবহন শ্রমিকরা বিআরটিসির বাস চলাচলে বাধা দেয়ায় বিআরটিসির বাসও চলাচল করতে পারছে না।##