শিবালয়ে বোরো ধানে ব্যাপক পোকার আক্রমন,ফলন বিপর্যয়ের আশংকা

Pady picture-1 - Copyমানিকগঞ্জ সংবাদদাতা : শিবালয়ে বোরো ধানের পাতায় ব্যাপক ‘পাতা মোড়ানো’ পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে। একদিকে পোকার আক্রমন অপরদিকে পোকা দমনে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের পরামর্শ না পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ফলে এবার বোরো ধানের ফলন বিপর্যয়ের আশংকায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
শিবালয় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, এবার চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ৭,৪৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে আবদ হয়েছে ৬,৯৭০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৭ হাজর ৮৮০ মেট্রিক টন।
উপজেলার শিবালয়, তেওতা ও উথলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল ঘুরে কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, আবাদকৃত বেশীরভাগ ক্ষেতে ধানের পাতায় ব্যাপক পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। উচ্চ মুল্যে সার, কীটনাশক কিনে ও শ্রমিক নিয়োগ করে এবং বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে সেচ সুবিধা ব্যাহতসহ নানা প্রতিকুলতা থাকা সত্বেও অনেক আশা করে কৃষকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বোরো ধানের আবাদ করেছে। কিন্ত মৌসুমের মাঝামাঝি এ সময়ে এসে বোরো-২৯ জাতের ধানের পাতায় ব্যাপক পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে। ধানের গোলায় থোর আশার এ মহুর্তে পোকায় পাতা খেয়ে ফেলায় ধান গাছ লাল বর্ণের হয়ে যাচ্ছে এবং গলা থেকে ধানের শিষ বের হচ্ছে না। এমতবস্থায় এবার বোরোর আশানুরূপ ফলন না পাওয়ার আশংকা প্রকাশ করছে কৃষকরা। পোকার আক্রমণ এবং কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা-বৃষ্টিসহ নানা ধরনের প্রকৃতিক দুর্যোগে বোরো ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জমিতে আবাদকৃত ধান নিয়ে এ অঞ্চলের কৃষকরা চরম আতংক ও উৎকন্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। শেষ মহুর্তে অনেক কষ্টের ফসল সারা বছরের খাবার ধান ঘরে তুলতে পারবে কিনা এ নিয়ে মহাদুর্শ্চিন্তায় পড়েছে কৃষকরা। সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত খোঁজ-খবর ও পরামর্শ না পাওয়ায় অনেকেই নিয়মানুযায়ী ধান চাষাবাদ করতে পারছেনা বলে কৃষকরা জানান।
কৃষ্টপুর গ্রামের প্রান্তিক চাষি আব্বাস আলী জানান, এবার ধার-দেনা করে ২ পাখি জমিতে বোরো আবাদ করেছি। এর মধ্যে সোয়া ১ পাখি জমির ধানের পাতায় পোকার আক্রমনে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলন ভাল হলে ১ পাখি (২৭ শতাংশ) জমিতে ১৮ থেকে ২০ মণ ধান হয়। কিন্ত এবার পোকার আক্রমনের কারণে সোয়া ১ পাখি জমিতে সর্বোচ্চ ৫ থেকে ৬ মন ধান হতে পারে। এতে উৎপাদন খরচও উঠবেনা। জমি তৈরী, ধানের চারা, কীটনাশক, সার ও কামলাসহ প্রতি ১ পাখি জমিতে ধান চাষে খরচ হয় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। ধানের পাতায় ব্যাপক পোকা দেখা দেয়ায় জমির ধান ঘরে তুলতে পারব কিনা তা নিয়ে সংশয়ে আছি। আশানুরূপ ধান না পেলে কিভাবে ধার দেনা পরিশোধ করব । কৃষ্টপুর ইরি-বোরো প্রজেক্টের মালিক মোঃ উজ্জল মিয়া জানান, তার প্রজেক্টে এবার ৫০ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বোরো-২৮ ও বোরো ২৯-জাতের ধানের আবাদ বেশী হয়েছে। কয়েকদিন ধরে বোরো-২৯ জাতের ধানে ব্যাপক পোকা দেখা দিয়েছে। এখন প্রতিটি ধানে থোর এসেছে। কিছু দিনের মধ্যে থোর থেকে ধানে শিষ বের হবে। কিন্ত পোকার আক্রমণের কারণে থোর থেকে শিষ বের হচ্ছে না। প্রতি বছর এ প্রজেক্ট থেকে আমি প্রায় ২শ’ মন ধান পাই। শেষ মহুর্তে এসে ধানের পাতায় পোকায় আক্রমন করায় এবার অর্ধেক ধান পাব কিনা সন্ধেহ রয়েছে। তিনি স্থানীয় কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অত্যান্ত ক্ষোভের সাথে অভিযোগ করে বলেন, আমি প্রজেক্ট করার ৮/৯ বছরের মধ্যে কৃষি বিভাগের কোন লোককে দেখা যায়নি। এবার এত পোকার আক্রমণ এরপরও সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের কোন খোঁজ-খবর নিতে বা পরামর্শ দিতে আসেননি। পোকার আক্রমণ এবং কৃষি বিভাগের কোন পরামর্শ না পাওয়ায় এবার বাম্পার ফলনের পরিবর্তে ফলন বিপর্যয়ের আশংকা করছেন তিনি। কৃষি কর্মকর্তাদের ভুমিকায় এলাকার সকল কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কৃষদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ দেয়া সম্ভব নয়। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে আমাদের অফিস রয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ দেয়ার জন্য এসব অফিসে ২/৩ জন করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছে। যারা দেরিতে চাষ করেছে এবং পটাশিয়াম সার কম দিয়ে ইউরিয়া সার বেশী দিয়েছে তাদের জমির ধানে পোকার আক্রমন বেশী হয়েছে। মোট ৪০ হেক্টর জমি ধানের পাতায় পাতা মোড়ানো পোকায় আক্রমণ করেছে। এর মধ্যে ৩০ হেক্টর জমিতে কীটনাশক স্প্রে করার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা হয়েছে। সময়মত কীটনাশক স্প্রে করলে এ পোকা দমন করা সম্ভব হবে এবং ফলন ভাল হবে বলে তিনি জানান।  #