নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন : খুনি নূর হোসেন ও র‌্যাব

01_71784বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম :

নারায়ণগঞ্জে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় নূর হোসেন, তার বাহিনী এবং র‌্যাবের তিন কর্মকর্তা জড়িত বলে তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন নিহতদের স্বজনরা। নিহতদের পরিবারের সবারই দাবি, নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা এবং দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা- যাতে আর কোনোদিন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
শনিবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত একটানা ৮ ঘণ্টাব্যাপী নিহত সাত পরিবারের ২৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন, যাতে তারা তুলে ধরেছেন নিহতদের অপহরণ থেকে লাশ উদ্ধারের সময়কালের বিভীষিকাময় পরিস্থিতির চিত্র। অপরদিকে তদন্ত কমিটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রুত তারা তদন্ত কাজ শেষ করে হাইকোর্টকে অবহিত করবেন। এদিকে সোম ও বৃহস্পতিবার গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। নূর হোসেনের ভাতিজা কাউন্সিলর বাদলের বাড়ি থেকে একটি পিস্তল ও ৩১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নিহত নজরুলের পরিবারকে ১৪ মে গণভবনে ঢাকা হয়েছে। অপরদিকে নূর হোসেনের বালু ও পাথরের ব্যবসা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার লক্ষ্যে নদীতীরের ভরাট অংশ ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে। নোয়াখালী থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, বেগমগঞ্জের উত্তর লাউতলি গ্রাম থেকে নূর হোসেনের গাড়িচালক মাসুদ মহিব উল্লাহ ও তার শ্যালক সম্রাটকে আটক করেছে পুলিশ। জানা গেছে, সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সুয়োমোটো মামলার ৫ মে’র আদেশ মোতাবেক নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র ও আইনজীবীসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় র‌্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ অন্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ বিষয়ে ৭ মে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ শাহজাহান আলী মোল্লার নেতৃত্বে ওই তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার উদ্ধারস্থল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবদুল কাইয়ুম সরকার ও আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দিন, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোস্তাফিজুর রহমান ও মিজানুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শফিকুর রহমান ও সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার। শনিবার সকাল ১০টায় তারা নিহতদের স্বজনদের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানান। সকাল ১০টার মধ্যে হাজির হন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে তাদের বসতে দেয়া হয়। বেলা ১১টা থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিহতদের স্বজনদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথমেই সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয় নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির। এর পর সাক্ষ্য নেয়া হয় নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের শ্বশুর সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ও ছোট ভাই আবদুস সালামের। পর্যায়ক্রমে সাক্ষ্য নেয়া হয় নিহত সাত পরিবারের ২৫ সদস্যের।
র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে গিয়েছিল- সেলিনা ইসলাম বিউটি : সাক্ষ্য শেষে নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, শুরু থেকে এ পর্যন্ত যা ঘটেছে, সেসব ঘটনার বিবরণ তদন্ত কমিটির কাছে বলা হয়েছে। নজরুলসহ সাতজনকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়েছিল, সেটা উল্লেখ করেছি। নূর হোসেন টাকা দিয়ে এটা করিয়েছে, সেটাও তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছি। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে আমাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। এ ব্যাপারে দ্রুত নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করার আশ্বাস দেয় তদন্ত কমিটি।
নূর হোসেনই নজরুলের খুনি- শহীদুল ইসলাম : নূর হোসেনই নজরুলের খুনি বলে দাবি করেছেন নিহত নজরুলের শ্বশুর সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নূর হোসেনের বাড়ির ভেতরে গাড়ি থেকে রক্তমাখা শার্ট উদ্ধার হয়েছে। চন্দন শীলের (চন্দন সরকার) মোবাইল উদ্ধার হয়েছে। র‌্যাব অফিসের সামনে থাকা ইট, লাশের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ব্যাগ ও রশিই প্রমাণ করে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে র‌্যাব জড়িত। তিনি দ্রুত র‌্যাব সদস্যদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বলেন, র‌্যাব সদস্যদের ধরতে অসুবিধা কী? তাদের গ্রেফতার না করার রহস্য কী? মরার আগে যে পরিকল্পনা করেছিল, ওই অডিও টেপে সুফিয়ানের ভাষ্য ছিল। সুফিয়ান আইভীর কর্মী। নূর হোসেনের শেল্টারদাতা কে- জানতে চাইলে তিনি তদন্ত কমিটিকে বলেন, আমি পক্ষে-বিপক্ষে যেতে চাই না। আমি শুধু বিচার চাই। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নরসিংদীতে মেয়র লোকমান হোসেন হত্যা মামলার তদন্তকারীরা বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন। আমি তাদের নিয়ে আশাবাদী। নূর হোসেনকে ক্রসফায়ারে না দেয়া নিয়ে তার আহ্বানের বিষয়ে তিনি বলেন, নূর হোসেনকে ক্রসফায়ারে দিলে মামলাটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই নূর হোসেনকে ক্রসফায়ারে না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছি আমি। গ্রেফতার করলে হত্যার সঙ্গে জড়িত সবার মুখোশ উন্মোচিত হবে। তাদের গ্রেফতার করলেই কে কত টাকা খেয়েছে, তা বের হয়ে আসবে।
টাকা লেনদেনের বিষয়টি তুলে ধরেছি- আবদুস সালাম : সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের ভাই আবদুস সালাম বলেন, নূর হোসেন ও তার অনুগতরা যে র‌্যাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ৩ কোটি টাকা লেনদেন করেছে, সে বিষয় তুলে ধরেছি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ জড়িত- ডা. বিজয় : হত্যাকাণ্ডের শিকার অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের মেয়ের স্বামী ও মামলার বাদী ডাক্তার বিজয় কুমার পাল সাক্ষ্য শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার দিন নিশ্চিতভাবে বলতে না পারলেও পরে অপহরণ ও হত্যার বিষয়টিতে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ এতে জড়িত। তদন্ত কমিটির কাছে আমরা এ বিষয়টিই তুলে ধরেছি।
দ্রুত রহস্যের উন্মোচন হোক- ডা. সুস্মিতা সরকার : হত্যাকাণ্ডের শিকার অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের মেয়ে ডাক্তার সুস্মিতা সরকার সাক্ষ্য শেষে সাংবাদিকদের বলেন, কাউকে সন্দেহ করার মতো কিছু ছিল না। যেহেতু বাবার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না, তাই আমরা নিজেরাই রহস্যের মধ্যে আছি। দ্রুত এ রহস্যের উন্মোচন হোক।
মরে যাওয়ার কথা বলেছিল ড্রাইভার জাহাঙ্গীর- নূপুর : নিহত জাহাঙ্গীরের আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সামসুন্নাহার নূপুর বলেন, জাহাঙ্গীর মরে যাওয়ার ১০-১৫ দিন আগে আমাকে বলেছিল, মরে যাওয়ার হুমকি আছে। নূর হোসেন তাকে হুমকি দিয়েছিল স্বপন ভাইয়ের গাড়ি চালালে মরে যেতে হতে পারে। এপ্রিল মাসের বেতন পেলে স্বপন ভাইয়ের গাড়ি চালানো ছেড়ে দেয়ার কথা বলেছিল, সেটাই তদন্তকারী কমিটিকে জানানো হয়েছে।
কিছুই বলতে পারছে না হনুফা : অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের গাড়িচালক ইব্রাহীমের স্ত্রী হনুফা বেগম জানান, তার কোনো শত্রু ছিল না। এর বেশি তিনি আর কিছুই বলতে পারছেন না।
সাতজনকে একই গ্রুপের লোকজন হত্যা করেছে- আবুল খায়ের : নিহত তাজুল ইসলামের বাবা আবুল খায়ের বলেছেন, তদন্ত কমিটি জানতে চেয়েছে আমরা কাউকে সন্দেহ করি কিনা। আমি বলেছি সাতজনকে যারা হত্যা করেছে, তারা একই গ্রুপের লোকজন।
ইপিজেডের ঠিকাদারি নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল- স্বপনের ভাই রিপন : নিহত মনিরুজ্জামান স্বপনের ভাই মিজানুর রহমান রিপন বলেন, ইপিজেড ও নাসিকের ঠিকাদারি নিয়ে স্বপনের সঙ্গে নূর হোসেন ও তার অনুগতদের দ্বন্দ্ব ছিল। ওই বিষয় নিয়ে স্বপনকে একাধিকবার হুমকিও দিয়েছিল।
তদন্ত কমিটি যা বলল : তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ শাহজাহান আলী মোল্লা জানান, শনিবার নিহত সাতজনের পরিবারের ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জনপ্রশাসনের তদন্ত দল সাংবাদিকদের বলেন, প্রয়োজনে র‌্যাবকে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করবেন বা তাদের ডাকবেন। তাদের কাজ মূলত হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সে অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়া। যাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে, প্রয়োজন পড়লে তাদের ফের ডাকা হতে পারে বলে জানান তারা। এছাড়া যেসব স্থানে যাওয়ার প্রয়োজন মনে হবে, তাদেরও ডাকা হবে। শিগগিরই তারা তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দেবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।
সোম ও বৃহস্পতিবার গণশুনানি : প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় র‌্যাব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ বিষয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে সোমবার ১২ মে ও বৃহস্পতিবার ১৫ মে সকাল ১০টা থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন অপহরণের ঘটনাসহ লাশ উদ্ধারের প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে যারা সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত তারা সাক্ষ্য দিতে পারবেন। গণশুনানিতে সাক্ষ্যদানে আগ্রহী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘোষিত সময়ে নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল কাশেম মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। শনিবার এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য সাংবাদিকদের জানান তিনি।
নূর হোসেন ও ইয়াসিনকে পদ থেকে অব্যাহতি : সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নূর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন মিয়াকে নিজ নিজ পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কালিপদ মল্লিককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শনিবার বিকালে পুল এলাকায় অবস্থিত থানা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে কার্যকরী সভায় তাদের পদ থেকে অব্যাহতি ও দল থেকে বহিষ্কারের প্রস্তাব করা হয়।
বাদলের বাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার : নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাতজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি কাউন্সিলর নূর হোসেনের ভাতিজা সিটি করপোরেশনের ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের বাড়ি থেকে লাইসেন্স বাতিল হওয়া একটি পিস্তল ও ৩১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় বটতলা রসুলবাগ এলাকার তার বাসা থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।
নূর হোসেনের গাড়িচালক আটক : নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি কাউন্সিলর নূর হোসেনের গাড়িচালক মাসুদ মহিব উল্লাহ ও তার শালক স¤্রাটকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের উত্তর লাউতলি গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জানান, উত্তর লাউতলি গ্রামে মহিবউল্লাহর শ্বশুর সিরাজ মিয়ার বাড়ি থেকে মাসুদ মহিবউল্লাহ ও সম্রাটকে আটক করা হয়। তাদের নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বেগমগঞ্জ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মহিব উল্লাহ ও স¤্রাটকে আটকের খবর তার জানা নেই। অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জে সংবাদ সম্মলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
বালুর সা¤্রাজ্যে চলছে নদী খননের কাজ : আলোচিত সাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ও তার ভাই জজ মিয়ার নিয়ন্ত্রিত নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীর দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বালু ও পাথরের ব্যবসা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার লক্ষ্যে ওই এলাকায় নদী ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর। শনিবার সকাল থেকে নদীর তীর ভরাট করা অংশ ড্রেজারের মাধ্যমে অপসারণ করা হচ্ছে।
খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর পরিদর্শন : ১৪ মে নারায়ণগঞ্জে নিহত সাতজনের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে আসবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সিএসএফ সদস্যরা শনিবার নিহতদের বাসভবন পরিদর্শন করেছেন। অপরদিকে রোববার সকালে নিহত সাতজনের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে আসছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। এদিকে ১৪ মে নজরুলের পরিবারকে ঢাকার গণভবনে ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্মারকলিপি মানবাধিকার সংগঠনের : প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিয়া ও পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)।
এইচআরপিবির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুর জামান সিদ্দিকী, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন, অ্যাডভোকেট এখলাস উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান, অ্যাডভোকেট সৈয়দা শাহিনারা লাইলী, অ্যাডভোকেট মাহাবুব রহমান, অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম, অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার বিশ্বাস প্রমুখ।
পুলিশের বাধায় পণ্ড বিএনপির সমাবেশ : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে শনিবার দুপুর ১২টায় নগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশ পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে। সমাবেশে পুলিশ বাধা দেয়ায় তাৎক্ষণিক মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ করেছেন নগর বিএনপির নেতারা। পরে বিএনপি কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত সভা করে কর্মসূচি শেষ করা হয়।
নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল জানান, নারায়ণগঞ্জে আইনজীবী চন্দন সরকার ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাত খুনের ঘটনায় ১৪ মে নারায়ণগঞ্জে আসছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এদিকে নারায়ণগঞ্জে খালেদা জিয়ার একটি সমাবেশ করার কথা থাকলেও সমাবেশের অনুমতি না দেয়ায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের আয়োজন করা হয়, কিন্তু সকাল থেকেই বিপুল পুলিশ দলীয় কার্যালয় ঘিরে রাখে। এ সময় তারা সমাবেশের মাইক ও ব্যানার নিয়ে যায়।
সমাবেশে বাধা দেয়ার পর জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে মহানগর বিএনপির নেতারা মুখে কালো কাপড় বেঁধে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান। এ সময় এটিএম কামাল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নুরুল হক চৌধুরী দিপু, বিল্লাল হোসেন, ফারুক হোসেন, ইব্রাহিম সর্দার, শাহজাহান খন্দকার প্রমুখ।