ডোমারে বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কতৃপক্ষের সেচ প্রকল্প দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে

Rood Accecdent Pictureডোমার, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ

দেশের উত্তরাঞ্চলে ভূ-উপরিস্থ পানির অপ্রতুলতার কারনে সেচ কার্যক্রম মূলত ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে এ অঞ্চলের প্রধান নদী তিস্তার পানি শুন্যতার কারনে ভু-গর্ভস্থ পানির স্থর দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ার কারনে গভীর নলকুপের প্রতি দিন দিন কৃষকের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষক পর্যায়ের এ দাবীকে সামনে রেখে এ অবস্থায় সেচের পানির সাশ্রয় এবং কাঁচা নালা জনিত জমির অপচয় কমাতে বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বি,এম,ডি,এ) প্রায় ৫ হাজার ফুট ইউ,পি,ভি,সি পাইপ দ্বারা পানির অপচয় কমানো ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা স্কীম তৈরির মাধ্যমে জমিতে পানি সেচ কার্যক্রম ডোমারে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বি,এম,ডি,এ (অডউ) এ,ডাব্লিউ, ডি সেচ নিয়ন্ত্রন পাইপ ব্যবহার করে পানির ব্যবহার কমিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ  নিয়ে এসেছে। এতে মূল্যবান ভূ-গর্ভস্থ পানির উত্তোলন, বিদ্যুৎ ব্যবহার ও সেচ চার্জ এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। একই সাথে সার্বিক উন্নয়ন কল্পে বি,এম,ডি,এ কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ, ফসল ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ রক্ষায় বনায়ন, মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগী পালন ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষন দিচ্ছে। এতে করে জেলার ডোমার উপজেলার কৃষক পর্যায়ে বি,এম,ডি,এ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সুত্র মতে, বি,এম,ডি,এ ডোমারে বিগত ১০-২০ বছরের অকেজো ও অচালু ৫৭ টি গভীর নলকূপের মধ্যে সবকটি ইতিমধ্যে বিদ্যুতায়ন পুর্বক চালু করে ২১৫০জন উপকারভোগী কৃষকের মাধ্যমে ১৪৯৬ হেক্টর জমিতে স্বল্প মূল্যে সেচ সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। অদ্যাবদি প্রায় শত কিঃমিঃ ৭১টি সেচ নালা তৈরী করেছে। আগামী মৌসুমে যা আরো ৪০শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বি,এম,ডি,এ কৃষকদের কাছ থেকে ঘন্টা প্রতি ৭৫ টাকা হারে সেচ চার্জ নিয়ে থাকে, যেখান হতে যাবতীয় যান্ত্রিক মেরামত ব্যায় এবং অপারেটরকে ঘন্টা প্রতি ৮ টাকা হারে ভাতা প্রদান করে থাকেন। এতে করে বিঘা প্রতি কৃষকদের খরচ পড়ে মাটির প্রকার ভেদে ২৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। এ ব্যাপারে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কতৃপক্ষ ডোমার উপজেলা প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম জানান, কৃষকদের অনুরোধে অবশিষ্ট অকেজো-অচালু গভীর নলকূপগুলো দ্রুত চালুর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সাধারন কৃষক পর্যায়ে বি,এম,ডি,এ’র প্রতি আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আরও গভীর নলকূপ স্থাপনের আবেদন জানাচ্ছে। তবে পিডিবি’র অসহযোগীতার কারনে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। পিডিবি বরেন্দ্র বিদুৎ লাইনের বিভিন্ন জায়গায় ট্রান্সফরমার বসিয়ে কমান্ড এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কারনে কমান্ড এলাকায় সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। ভু-গর্ভস্থ সেচ নালার কারনে পানির অপচয় কম হওয়ায় আগামী এ পদ্ধতিতে খাবার পানি সরবরাহ করা হবে।