চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের কাজে অনিয়ম

kurigram picture from sourovসৌরভ কুমার ঘোষ,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ শ্লথ গতিতে চলছে। ঠিকাদাররা অগ্রীম বরাদ্দ না পাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে সিডিউল বহির্ভূতভাবে ঢিলেতালে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের আগে ডাম্পির করতে না পারলে মানচিত্র থেকে চিলমারী শেষ অস্তিত্ব টুকু মুছে যেতে পারে।

ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের ৫বছর মেয়াদী ১শ ৯১ কোটি টাকা ব্যায়ে ১০টি প্রাকেজের মধ্যে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দে প্যাকেজ গুলোর বর্ষা মৌসুমের আগে ব্লক ডাম্পিংয়ের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোন প্যাকেজে ৫০% এর অধিক ব্লক তৈরী হয়নি। সরেজমিনে উপজেলার রমনা ইউনিয়নের ৬ টি প্যাকেজে গিয়ে দেখা যায় ৫টি প্যাকেজের কাজ পাথর না পাওয়ার অজুহাতে বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার মোখলেছুর রহমানের ৭ নং প্যাকেজটিতে সিডিউল বহির্ভূতভাবে ঢিলে তালে ব্লক তৈরী হচ্ছে। সিডিউল মোতাবেক ১ভাগ সিমেন্ট, ৩ভাগ বালু ও ৬ভাগ নুরী পাথরের সমন্বয়ে ব্লক তৈরী হওয়ার কথা। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ও এস, ওয়ার্ক এ্যাসিস্টেন্টসহ সংশ্লিষ্টদের সামনে বিধি বহির্ভূতভাবে ব্লক তৈরী হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্লক তৈরীর কাজে নিয়োজিত মিস্ত্রি ৪-৫ভাগ বালু দেয়ার কথা স্বীকার করে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে এ প্যাকেজটির দায়িত্ব প্রাপ্ত ম্যানেজার সাময়িকভাবে ব্লক তৈরীর কাজ বন্ধ রেখে গা ঢাকা দেয়। এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুড়িগ্রাম জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তাহের জানান, অগ্রিম বরাদ্দ না থাকায় ঠিকাদাররা পাথর না পাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে শ্লথ গতিতে কাজ করে যাচ্ছে, কাজের জন্য অগ্রিম বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হলে দ্রুত কাজ হত বলে আমি মনে করি। ব্লক তৈরীতে অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি জানান, সিসি ব্লক তৈরীতে যাতে কোন অনিয়ম না হয় সে লক্ষ্যে তদারকি করার জন্য আমাদের লোক নিয়োগ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে নদীতে ব্লক ডাম্পিং করতে না পারলে ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ভেস্তে যাবে বলে স্থানী সচেতন মহল ধারনা করছেন।