পার্বতীপুরসহ ছয় উপজেলায় এইচআইভি এইডস এর ঝুঁকির মুখে

dinjpurবদরুদ্দোজা বুলু, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
পার্বতীপুরসহ ছয় উপজেলায় ঝুঁিকর মূখে এইচআইভি এইডস। বিভিন্ন কারনে এমনটি মনে করছেন সচেতন মহল। দ্রুত এইচআইভি এইডস এর হাত থেকে পার্বতীপুরসহ ছয় উপজেলাকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। এজন্য সরকারী, বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থাসহ স্ব-স্ব-এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে।

তথ্য অনুসন্ধানে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, হাকিমপুর উপজেলা শহরের প্রায় কয়েক হাজার মানুষ দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ উপায়ে আমাদের পার্শবর্তী দেশ ভারতের কর্নাটক, মহারাষ্ট, পাটনা, দিল্লীসহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে অবৈধভাবে বসবাস করছে। তাছাড়া প্রতি দিনেই শত শত মানুষ হাকিমপুর হিলি বর্ডার দিয়ে অবৈধভাবে ভারত যাওয়া আসা করছে। এসব লোকজন সেখানকার সরলপ্রাণ মানুষদেরকে কু’টি বা ঝোলাবাজি করে থাকে। কুটিবাজরা প্রতারণাকৃত হাজার হাজার টাকা হুন্ডির মাধ্যমে দেশে পাঠিয়ে থাকে। এরমধ্যে পার্বতীপুর উপজেলায় প্রায় শতাধিক মানুষ এখন অবস্থান করছে ভারতে। এমন তথ্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কুটিবাজ জানিয়েছেন। শুধু দেশীয় কুটিবাজদের মাধ্যমে নয় ভারতের ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপার বাংলাদেশে পন্যবাহী মালামাল নিয়ে বৈধ ভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের পরে তারাও এদেশে এক শ্রেণীর ভ্রাম্যমান পতিতাদের সাথে মেলামেশা করে এইচআইভি এইডস ছড়াতে পারে বলে বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থার এনজিও’র কর্মকর্তারা মনে করছেন। পার্বতীপুর শহরের রোস্তমনগর, হলদীবাড়ী রেলকলোনী, দক্ষিণপাড়া, পুরাতন বাজার ভাস্কর পট্রি, ধুপিপাড়া, ফকিরটোলা বস্তি ছাড়াও উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে ভারতের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে বলে শোনা গেছে। গোয়েন্দা নজরদারি হলে কারা কারা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছে তা তালিকা তৈরী করা হলে কুটিবাজদের সংখ্যা জানা সম্ভব বলে অনকেই মনে করছেন।

ভারতে থেকে বেশ কিছুদিন ঝোলাবাজি বা ক’টি করে বর্তমানে পার্বতীপুর শহরে ব্যবসা করছেন এরকম ব্যক্তি তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কুটিরা ভারতে গিয়ে ঝোলাবাজির জন্য প্রথমে একটি সুবিধাজনক গ্রাম বেছে নেয়। গ্রামের কোন একটি বাড়িতে ঘর ভাড়া নিয়ে শুরু করেন হাড়ি পাতিল বা বর্তনের ফেরি করা। ঝোলাবাজ বা কুটির মূল টার্গেট হচ্ছে একসঙ্গে গ্রামসুদ্ধ মানুষকে প্রতারণা করা। সূত্রটি জানায়, কুটিরা প্রথম ৪/৫টি বাড়ির সিলভারের পুরাতন হাড়ি পাতিল, স্টীলের থালা বাসন, সীসা, কাসা পিতলের কলসী, বদনা প্রভূতি মালামাল নিয়ে নতুন জিনিসপত্র প্রদান করে। গ্রামসুদ্ধ মানুষজন যখন তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয় তখন ওই কুটি তালিকা করে সবার পুরাতন মালামাল ট্রাক বা অন্যকোন বাহনে উঠিয়ে সবাইকে ধোকাদিয়ে সটকে পড়ে। সূত্র মতে, কুটিরা আত্মসাতকৃত মালামাল দূরবর্তী কোন শহরে নিয়ে বিক্রি করে টাকা হুন্ডির মাধ্যমে দেশে পাঠায়। সূত্রটি উল্লেখ করেছে, কুটিরা যেখানেই থাকুকনা কেন তাদের চালচলন, চলাফেরা সবকিছু থাকে বেপরোয়া। এরা হয় সবধরনের মাদকাসক্ত, পতিতালয়ে যাতায়াত করে এবং জুয়াও সেখানে খেলে নিয়মিত। এসব কুটিবাজারা এলাকায় ফিরে এসেও উচ্ছৃংখল জীবন যাপন করে এবং সমাজে অশান্তির কারনও হয়ে দাঁড়ায়। এলাকার কোন সাধারন মানুষকে এরা মানুষ হিসেবে গণ্য করেনা। নিরীহ গোবেচারা মানুষদের কারনে অকারনে মারধর, অশ্লীল অশ্র্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে হয়রানির কথা শোনা গেছে।

ভারতে যত্রতত্র নিয়মিত অনৈতিক মেলামেশায় কুটিরা এইচআইভি বা এইডস অথবা যৌনরোগের ভাইরাস বহন করে থাকে। ভারতের মাটিতে অবস্থান করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার সংবাদও পাওয়া গেলে তা প্রমানের অভাবে সংবাদটি সঠিক কি না তা বলা সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, পার্বতীপুরের কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ভারতে থেকে সেখানে বিয়েও করেছেন কেউ কেউ এমন কথা শোনা গেছে। একটি এনজিও’র তথ্য মতে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতে এইচআইভি এইডস এর সংখ্যা অনেক বেশী। একজন ডাক্তার জানান, এইচআইভি বা এইডস আক্রান্তদের দ্বারা সাধারন কোন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়না। কেবলমাত্র তার স্ত্রী অথবা অনৈতিকভাবে কোন মহিলার সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুললে তার ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া এইচআইভি ভাইরাস বহনকারীর শরীর থেকে রক্ত নিয়ে অন্য কোন রোগীর শরীরে পুশ করলে তারও আক্রান্ত হওয়ার আশংকা শতভাগ। কয়েক বছর আগে এইডস্ আক্রান্ত এক কুটি ভারত থেকে পার্বতীপুরে এসে মারা যাওয়ার খবর শহরে ছড়িয়ে পড়লে পরে চাপের মুখে চাপা পড়ে যায়। ডাক্তারগণ মনে করেন দীর্ঘদিন একটি মানুষ বাড়ি ঘর ছেড়ে বউ বাচ্চা রেখে বছরের পর বছর অন্যত্র বা দেশের বাইরে গিয়ে থাকেন। যৌনক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য এরা সবখানে যায়। তাছাড়া, অনেকে আবার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েও রোগকে গোপন করে থাকে। পার্বতীপুরে বেশ কয়েকটি বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা এইচআইভি এইডস এর উপর কাজ করলেও তারাও এলাকাবসীর চাপের মুখে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরুৎসাহিত হন। এসব বিষয়ে আইন শৃংখলা বা উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করলে তারা লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো এসব দেখার দায়িত্ব কার শুধু কি সংবাদ কর্মীদের নাকি প্রতিটি নাগরিকের নাকি আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর নাকি প্রশাসনের ?

এদিকে, পার্বতীপুরসহ ছয় উপজেলাবাসীর তরুণ সমাজকে এইচআইভি বা এইডস থেকে রক্ষা করতে গণ সচেনতা তৈরী করে প্রতিরোধের দিক নির্ণয় করতে হবে। নইলে আমাদের আগামী প্রজন্ম এইচআইভি এইডস থেকে বাঁচার কোন উপায় থাকবে না বলে মনে করছেন ছয় উপজেলাবাসী।