ঝিনাইদহে অপহরণের পর হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিই তদন্ত কর্মকর্তা!

36695_Jhenidah-Dead-Picture-21ঝিনাইদহ সংবাদদাতা : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী ইউনয়নের ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাফেজ আবুল কালামকে অপহরণের পর হত্যা মামলায় অভিযুক্ত কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফজুলর রহমান মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়েছেন। আবুল কালামের স্ত্রী হাসিনা বেগম কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দুইজন উপ-পরিদর্শকসহ আটজনের বিরুদ্ধে  ঝিনাইদহ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।

বিচারক মোঃ তাজউল ইমলাম অভিযোগটি তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফজলুর রহমানকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

হাসিনা বেগমের দায়ের করা পিটিশন মামলায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফজলুর রহমান তাদের একজন। মামলাটির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৫ মে। আরো যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন কোটচাঁদপুর উপজেলার বলাবাড়িয়া গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে মতিয়ার রহমান (কালু), একই গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে মজনুর রহমান, ঠান্ডু খোন্দকারের ছেলে শাহিনূর রহমান (দুলাল), আফজাল জোয়ারদারের ছেলে জাহিদুল মাষ্টার, স্থানীয় এলাঙ্গী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান খান, কোটচাঁদপুর থানার সেকেণ্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান মিজান ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর পুলিশ ফাঁড়ি তদন্ত কর্মকর্তা শিবুপদ দত্ত।

উল্লেখ্য গত ১৮ এপ্রিল সকাল ১১ টার দিকে কোটচাঁদপুর উপজেলার বলাবাড়িয়া গ্রাম থেকে ইউপি সদস্য হাফেজ আবুল কালামকে সাদা পোশাকের একদল অস্ত্রধারী তুলে নিয়ে যায়। নিহত আবুল কালামের ছেলে হাফিজুর রহমান সে সময় অভিযোগ করেন, কোটচাঁদপুর থানার এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের পুলিশ একটি নীল রঙের প্রাইভেট কারে তুলে নিয়ে যায়। এরপর কালামকে কোটচাঁদপুর উপজেলার গুড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হলে কালামের স্বজনরা ফাড়ি ঘেরাও করে। তারপর একটি সাদা রংয়ের মাইক্রোবাসে কালামকে বাজার গোপালপুর পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়। অপহরণের তিন দিন পর গত ২১ এপ্রিল কালামের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায় ঝিনাইদহের সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়নের মামুনসিয়া গ্রামের বকুলতলা মাঠে।

নিহত কালামের স্ত্রী হাসিনা বেগমের অভিযোগ এক থেকে পাঁচ নাম্বার আসামি পুলিশের সহায়তায় তার স্বামীকে অপহরণের পর হত্যা করেছেন। তিনি অভিযুক্ত কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপর মামলার তদন্ত ভার ন্যস্ত করায় ন্যায়বিচার পাবেন না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া মামলা করার পর থেকেই বাদিকে নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও হাসিনা বেগম অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফজলুর রহমান জানান, হাসিনা বেগমের স্বামী আবুল কালাম অপহরণের পর নিহত হয়েছেন এটা সত্য। তবে আমি বা কোটচাঁদপুরের কোনো পুলিশ সদস্য এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। সেদিন আমরা এই নামে কাউকে আটকও করেনি। তাই আমাদের অভিযুক্ত করার ঘটনা সত্য নয় বলে ওসি জানান।