লালমোহনের হত্যার দুই বছর পর নারায়নগঞ্জেরথেকে কঙ্গাল উদ্ধার: গ্রেফতার ৬

Vola-001ফরহাদ হোসেন, লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার লালমোহনে হত্যার ২ বছর পর কঙ্গাল সহ ৬ হত্যাকারীকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। ২ বছর আগে কামাল নামের ওই ব্যক্তিকে অপহরণ করে নারায়ণগঞ্জের পতুল্লার  দেলপাড়া এলাকায় নিয়ে হত্যা করে মাটিতে পুতে রাখে। সেখান থেকে তার কঙ্গাল নাটকীয় ভাবে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো, নিহত কামালের স্ত্রী নুরজাহান, নুর আলম, আব্বাছ, ওজিউল্যাহ, জাহাঙ্গীর ও শাহাবুদ্দিন।

সূত্রে জানা গেছে, নিহত কামালের বাড়ি লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড গজারিয়া দুলা মিয়া ফরাজী বাড়ি। ২০১২ সালের মে মাসে নিখোঁজ হয় কামাল। পরে তাকে অপহরণ করার অভিযোগে তার স্ত্রী নুরজাহান মামলা দায়ের করে। মামলা নং ৪/ ১২, তারিখ ৪/৫/১২। কিন্তু কামালের স্ত্রী নুরজাহান নুর আলম নামে একজনের সাথে পরকীয়া প্রেমের জড়িয়ে পড়ে এ হত্যা কান্ড ঘটাতে পারেন বলে পুলিশের সন্দেহ। ছেলে নিখোঁজ হবার পর পুত্র শোকে কামালের পিতা আঃ গণিও দুই মাস পর মৃত্যুবরণ করেন। মামলার পর কামালকে অপহরণের অভিযোগে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের কালিরটেক গ্রামের আরেক কামাল আসামী হয়ে জেল খাটে। পওে সেই কামাল জামিনে বের হয়ে এসে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে মাঠে নামে। অপহরণ মামলার আরেক আসামী রমাগঞ্জ ইউনিয়নের শাহাবুদ্দিনের সাথে কৌশলে অপহরণকৃত কামালের অবস্থান জানার চেষ্টা করে আসামী কামাল। পরে ৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে আসামী কামাল শাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে স্বীকারোক্তী আদায় করে। শাহাবুদ্দিন এই কামালকে জানায়, অপহরণ করে ওই কামালকে নারায়নগঞ্জের পতুল্লা নিয়ে দেলপাড়া গ্রামে বিলের মধ্যে হত্যা করা হয়। সেখানে মাটিতে পুতে রাখে তাকে। আসামী কামাল নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে শাহাবুদ্দিনের মাধ্যমে পতুল্লা থেকে দেড় মাস আগে কঙ্গাল নিয়ে আসে লালমোহনে। শাহাবুদ্দিনের বাড়িতে কঙ্গাল রাখা হয়। দেড় মাস পর্যন্ত চুক্তির টাকা পরিশোধ না করায় কামাল কঙ্গাল নিজের কাছে আনতে পারেনি। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে কামালের কাছে নিহত কামালের কঙ্গাল হস্তান্তরের তারিখ নির্ধারণ হয়। এরই মধ্যে কামাল ডিবি পুলিশকে কামাল হত্যা ও কঙ্গাল উদ্ধারের ঘটনা খুলে বলে। আর তাতেই ঘটনা অন্য দিকে মোড়  নেয়। ডিবি পুলিশ কামালের কাছে কঙ্গাল হস্তান্তর করার আগে কালিরটেক ব্রিজ ও রাস্তায় এসে ওৎ পেতে থাকে। শাহাবুদ্দিন বস্তাবর্তি করে কঙ্কাল নিয়ে আসলে ভোলার ডিবির সাব ইন্সপেক্টও মোঃ তাজ উদ্দিন মানিক এর নেতৃত্বে ও লালমোহন থানা পুলিশ শাহাবুদ্দিনকে কঙ্গালসহ গ্রেফতার করে। এসময় রাতভর ডিবি পুলিশ ও লালমোহন থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে কামাল হত্যা মিশনে জড়িত আরো ৫ জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করে। এরা হলো নিহত কামালের স্ত্রী ও মামলার বাদী নুরজাহান, রমাগঞ্জ ২নং ওয়ার্ডেও মৃত এছাহাকের ছেলে নুর আলম (৫০), ছেলে আব্বাছ (২২), ভাই ওজিউল্যাহ (৪৫), জাহাঙ্গীর (৩৫) ও চরভূতা ইউনিয়নের ৯নং ওয়াডের্র মৃত আলতাফের ছেলে শাহাবুদ্দিন। এদিকে কামালকে হত্যার উদ্দ্যেশ কি তা নিয়ে দ্বিমুখী বক্তব্য পাওয়া গেছে। একটি সূত্র দাবী করছে, নিহত কামালের স্ত্রী পরকীয়া সর্ম্পকের জের ধরে কামালকে সু-পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পেছনে কামালের স্ত্রীও জড়িত থাকতে পারে। তবে এসব বিষয়ে ডিবির কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে লালমোহন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ মাহফুজুর রহমান জানান, আমরা প্রকৃত ঘটনা তদন্ত কওে দেখছি। প্রাথমিকভাবে আটককৃতদের জীজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।