লালমোহনে অর্ধশত ভবন সংকটে রোদ-বৃষ্টির মিশেলে পাঠদান

Lalmohan pic-2ফরহাদ হোসেন, লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার লালমোহনে অর্ধশত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৬টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন টেন্ডারের মাধ্যমে নিলাম দেওয়া হলেও নতুন ভবন না হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টির সাথে যুদ্ধ করে শিক্ষার্থীরা পাঠদান করছেন। প্রচন্ড গরম আর বৈরি আবহাওয়ার কারনে প্রায়ই কার্যত বিদ্যালয়গুলো ১২ টার মধ্য ছুটি দিয়ে দেয়া হয়। যার ফলে কোমলমতি শিশুরা শুরু থেকেই বিরম্ভনার মধ্য দিয়ে দিনপার করছেন। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৪৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বর্তমানে চরম শংকিত হয়ে পরেছেন।

সরেজমিনকালে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলের সাথে আলাপ করে জানা গেছে,লালমোহন উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ওই সব ভবনে পাঠদান স্থগিত করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থগিত ওই সব ভবনের সামনেই খোলা আকাশের নিচে বসে কোমলমতি শিশুরা লেখা পড়া করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে। সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিলেও কার্যত ভবন না থাকায় এলাকায় শিক্ষার মান উন্নয়ন বাধা গ্রস্থ হচ্ছে। দ্রুত এসব বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ করা না হলে ভবন সংকটের কারনে এসব বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৪৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে একটি মাত্র ভবন ও অন্যত্র কোন স্থানে পাঠদানের ব্যবস্থা না থাকায় লেখা পড়ার দিক বিবেচনা করে ২৭টি বিদ্যালয়ের ভবন নিলাম সম্পন্ন করা হয়। বাকি ১৯টি ভবন নিলাম প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। নিলামকৃত ভবনগুলো ভেঙ্গে নেওয়া হলেও নতুন ভবন নিমার্ণে কোন প্রকার গতি লক্ষ করা যাচ্ছেনা। যার ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে রয়েছে হতাশায়। এছাড়াও আরো ২৫টি বিদ্যালয়ের ভবনের রুমের পরিধির চেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম বিশৃংখল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্য সদর ইউনিয়নের বালামচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ ফরাজগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব রায়চাঁদ ১নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য চরছকিনা, দক্ষিণ ধলিগৌরনগর, মানিক গঞ্জ, দক্ষিণ ফাতেমাবাদ, দক্ষিণ চরছকিনাসহ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন না থাকার ফলে এক বছরের বেশি সময় ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে বসেই ক্লাস করছেন। কোন কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নিজেদের উদ্যেগে টিনশেড ঘর ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠান চালালেও আগামি বর্ষায় এসব ভাড়া ঘরেও পাঠদান করা সম্ভব নয় বলে জানা গেছে। অপরদিকে কালমা ইউনিয়নের দক্ষিন চরছকিনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদের প্রলব খসে পরে প্রায়ই শিশুরা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে এসব ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় পাঠদান বন্ধ রাখার চিঠি দিলেও ভবন বা অন্যত্র পাঠদানের স্থান না থাকায় শিক্ষা অফিসের নির্দেশ মানা সম্ভব হয় না বলে জানান শিক্ষক শিক্ষার্খীরা।

এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ভবন না থাকায় বাহিরেই ক্লাস নিতে হয়। প্রচন্ড রোদের কারনে বর্তমানে শিক্ষার্থীরা কম উপস্থিত হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিম্মমুখি হয়ে পরবে।

এবিষয়ে উপজেলা এলজিডি প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, মাননীয় এমপি মহোদয়ের সহযোগিতায় আমরা যত দ্রুত সম্ভব এসব বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে উপরোস্ত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।