নাটোরে মরাগাছ দেখিয়ে তাজাগাছ কর্তন

natorশেখ তোফাজ্জ্বল হোসাইন, নাটোর প্রতিনিধি  :
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার কুমারখালী পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির একাংশের নেতারা তরতাজা গাছ কাগজে কলমে মরা দেখিয়ে অর্ধশতাধিক মেহগনি ও বকনগাছ কেটে নিয়েছেন। এভাবে গাছ কাটায় এলাকাবাসীর মনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কুমারখালী পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড ২০০২ সালে উপজেলার কুমারখালী, ছোট পিঙ্গুইন, বড় পিঙ্গুইন, বড়দেহা, কুরশাইট, দামাইপুর ও মিয়াপুর এলাকার গ্রামীণ সড়কের দুই পাশে মেহগণিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করে। প্রায় ১২ বছর আগে লাগানো ওই গাছগুলো বর্তমানে দুই থেকে আড়াই ফুট ব্যাসের হয়ে উঠেছে। প্রতিটি গাছ তরতজা ও ক্রমবর্ধমান। হঠাৎ করে গত পহেলা মে থেকে সমিতির তত্বাবধানে কিছু শ্রমিক পিঙ্গুইন এলাকার রাস্তার দুইপাশের গাছ কাটতে শুরু করে। এ পর্যন্ত তিন লাখ টাকা মূল্যের ৫১টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ মাটির নীচের মূলসহ কেটে ফেলে হয়েছে। শনিবার বিকেলে সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কাটা গাছগুলোর সবই তরতাজা। সবুজ ডালপালা চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। পথচারী কুমারখালী গ্রামের জামশেদ আলী বলেন, আমি প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সমিতির একজন সদস্য। অথচ আমাদের না জানিয়ে সমিতির গুটিকয়েক লোক গাছ গুলো কাটছেন। আমরা প্রতিবাদ করেও গাছগুলো রক্ষা করতে পারিনি। রাস্তার পাশের এক জমির মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সমিতির কার্য্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এই সুযোগে সাধারণ সদস্যদের না জানিয়ে কিছু নেতা গোপনে সাধারণ সভা ডেকেছেন। সভায় রাস্তার গাছগুলো মরা গাছ উল্লেখ করে কাগজপত্র (রেজুলেশন) তৈরী করেছেন। সেই কাগজের জোরেই তাঁরা গাছগুলো কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আমরা স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে আমাদেরকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গোপনে গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলালউদ্দিন বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে চিঠি লেখার পরও তাঁরা গাছ কাটার অনুমোদন দেননি। তাই সমিতির কার্য্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা গাছ কাটছি। তাজা গাছ মরা হিসেবে কাটছেন কেন জানতে চাইলে বলেন, সমিতিই মরে গেছে। গাছ আর তাজা থাকে কি করে ! উপজেলা প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ এ সমিতির কার্য্যক্রম বন্ধ। গাছ কাটার জন্য কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। সমিতির নাম ব্যবহার করে মূলত একটি চক্র গাছগুলো লুট করছেন। যারা এর সঙ্গে জড়িত আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।