“উগ্রবাদ-বর্ণবাদের স্থান নেই বৃটেনে”

altab aliমতিয়ার চৌধুরী ,লন্ডন প্রতিনিধিঃ উগ্রবাদ-বর্ণবাদের স্থান নেই বৃটেনে, ‘‘উই-আর ইউনাইটেড এ্যাগেইনষ্ট রেসিজম এন্ড ফ্যাসিজম।’’  ৩৬তম আলতাব আলী দিবসের আলোচনা সভায় বর্ণবাদ বিরুধী আন্দোলনের নেতারা জাতি-ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ ভাবে উগ্রবাদ-বর্ণবাদ মোকাবেলার আহবান জানিয়ে বলেন বৃটেনের বহুজাতিক সমাজে উগ্রবাদ-বর্ণবাদের স্থান নেই। গতকাল ৪টা মে বিকেলে পূর্বলন্ডনের মন্টিফিউরী সেন্টারে আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের চেয়ার ও বর্ণবাদ বিরুধী আন্দোলনের নেতা সাবেক ডেপুটি মেয়র আকিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও বর্ণবাদ বিরুধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা সাবেক কাউন্সিলার রাজন উদ্দিন জালালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলতাব আলী দিবসের আলোচনায় সভায় বক্তারা  ইষ্ট লন্ডনে বর্ণবাদ বিরুধী আন্দোলনের স্মৃতিচারন করে বলেন ১৯৭০-১৯৮০ সাল ছিল পূর্ব লন্ডন বর্ণবাদীদের দখলে। সে সময় বর্ণবাদীরা কালো এবং এশিয়ান দেখলেই আক্রমন করতো, ন্যাশনাল ফন্ট নামের বর্ণবাদী সংগঠনের সদস্যদের হামলার শিকার হয়েছেন শত শত এশিয়ান এবং কৃষœাঙ্গ। ১৯৭৮ সালের  ৪টা মে সাদা চামড়ার বর্ণবাদীদের হাতে নিহত হন বাঙ্গালী আলতাব আলী। পরবর্তিতে যে স্থানে আলতাব আলী নিহত হন এই স্থানটির নাম করন করা হয় শহীদ আলতাব আলী পার্ক। সুমামগঞ্জের ছাতকের অধিবাসী আলতাব আলী একটি লেদার ফেক্টরীতে কাজ করতেন, কাজ শেষে বাড়ী ফেরার পথে বর্ণবাদীরা তাঁকে নির্মমভাবে খুন করে। এছাড়া বৃটেনের বিভিন্ন শহরে বর্ণবাদীদের উত্থান ঘটলে এর প্রতিরুধে সমগ্র বৃটেনের গড়ে উঠে বর্ণবাদ বিরুধী আন্দোলন। পূর্ব লন্ডনে বর্ণবাদ মোকাবেলায় বাঙ্গালী তরুনদের নেতৃত্বে গড়ে উঠে  বাংলাদেশ ইয়োথ এসোসিয়েশন, ইয়োথ মুভমেন্ট, ইয়োথ লীগ সহ  একাধিক সংগঠন। বাঙ্গালীদের পাশে দাড়ান মানবতাবাদী ব্রিটিশ সমাজের অনেকে।  তীব্র আন্দোলনের মুখে বর্ণবাদীরা ইষ্ট লন্ডন ছাড়তে বাধ্য হয়। সে সময়কার আন্দোলনে যারা সক্রিয় অংশ নেন তাদের মধ্য থেকে স্মৃতিচারন মূলক বক্তব্য রাখেন আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারী ইয়োথ মুভমেন্ট এক্টিভিষ্ট ১৯৭০ রাজন উদ্দিন জালাল, আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের পেট্রন জিএলএ মেম্বার মোদার কোরেশী, এন্টিরেসিষ্ট এক্টিভিষ্ট ১৯৭০ জামাল হাসান, নিউহ্যাম কাউন্সিলের কাউন্সিলার উন্মেশ দেশাই, সাবেক কাউন্সিলার ও ভাইস চেয়ার আলতাব আলী ফাউন্ডেশন ও ১৯৭০ এক্টিভিষ্ট বাংলাদেশ ইয়োথলীগ নূর উদ্দিন আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলার সোনাহর আলী ইয়োথ ফন্ট এক্টিভিষ্ট ১৯৭০, ডেভিড রোসেনবার্গ জুইস সসিয়েলিষ্ট গ্রুপ, ক্যানন মিচিয়েল এন্সওয়ার্থ সেন্ট জর্জ চার্স, মানবাধিকার কর্মী আনসার আহমেদ উল্লা অর্গেনাইজিং সেক্রেটারী আলতাব আলী ফাউন্ডেশন, জুলি বেগম স্বাধীনতা ট্রাষ্ট। এছাড়া আলোচনায়  আরো অংশ নেন নারী নেত্রী হোসনেয়ারা মতিন, মুজিবুল হক মনি, রুবি হক, মায়া আলী, সাবেক মেয়র দরছ উল্লাহ, গয়াছুর রহমান গয়াছ প্রমুখ। ১৯৭৮-৮০ সালে যে কয়েকজন নিবেদিন প্রাণ ইংরেজ বাঙ্গালীদের পাশে দাড়িয়েছিলেন তাদের সে সময়কার ধারন করা কয়েকটি চিত্র নিয়ে আয়োজন করা হয় এক্সিভিশনের তারা হলেন এন্টি রেসিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নের নেতা ডেন জোন, পোল ট্রেভর ও ফিলিপ মেক্সোওয়েল। আলোচনা শেষে মন্টি ফিউরী সেন্টার থেকে একটি শান্তি র‌্যালী বের করা হয় র‌্যালীটি আলতাব আলী পার্কে গিয়ে শেষ হয়। বক্তরা বলেন ইষ্ট লন্ডন থেকে ইংলিশ ডিফেন্সলীগ এবং ন্যাশনাল ফন্টের মতো বর্ণবাদীরা বিতাড়িত হলেও ইদানিং ধর্মীয় উগ্রবাদীদের আবির্ভাব উদবেগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। এই বহুজাতিক সমাজে কোন ধরনের উগ্রবাদ বর্ণবাদের স্থান নেই, সাম্প্রদায়িক সম্পৃতি অটুট রাখতে হলে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে উগ্রবাদ বর্ণবাদের মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে হবে।