স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়তো জানেন না

22070_b2বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল পরিচ্ছন্ন ইমেজের অধিকারী। সদা হাস্যোজ্জ্বল এ ব্যক্তিটি কথা বলেন মন খুলে। দলের নেতা-কর্মীদের প্রতিও সব সময় নিবেদিতপ্রাণ।  অথচ এ ব্যক্তির অগোচরেই প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে নানা অপরিচ্ছন্ন কাজ কারবার ঘটে চলেছে। হয়তো তিনি এসব জানেনই না। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, অস্ত্রের লাইসেন্স, মাদক লাইসেন্স, প্রবেশ পাস ও বিভিন্ন দপ্তরে বদলি নিয়ে এখন দেদার বাণিজ্য শুরু হয়েছে। তদবিরকারীরা ক্লায়েন্ট সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বিশ্বাসের নাম ব্যবহার করে চলেছেন। কখনও কখনও অন্য কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করতেও ছাড়ছেন না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অস্ত্রের লাইসেন্সের ক্ষেত্রে বাণিজ্য হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে লাইসেন্স দেয়ার বিষয়ে পজিটিভ রিপোর্ট আসার পর পরই তদবিরের ডাক ওঠে। লাইসেন্সকারী ব্যক্তির হয়ে বিভিন্ন জন প্রতিমন্ত্রী, তার একান্ত সচিব (পিএস)সহ ব্যক্তিগত স্টাফদের রুমে ধরনা দেন। তদবিরকারীর তালিকায় রয়েছেন সংসদ সদস্য (এমপি), রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক পরিচয়দানকারীসহ অনেকেই। সংশ্লিষ্ট শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে রিপোর্ট আসার পর পরই প্রতিমন্ত্রীর পিএসের কাছ থেকে স্লিপ আসে। ফাইল ওঠানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। ফাইল ওঠানোর পর ফাইল ছাড় করতে প্রতিমন্ত্রীর পিএসের লেখা সিল ও স্বাক্ষরকৃত স্লিপ নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ঘোরেন তদবিরকারীরা। ওদিকে অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বসে দেদার বাণিজ্য করে চলেছে একটি চক্র। প্রতিমন্ত্রী বা সচিবের দপ্তরের কারও কথা ছাড়া ফাইল না ওঠানোর সুযোগ নিচ্ছে চক্রটি। নিয়ম অনুযায়ী ডিসি’র কাছ থেকে অনেক প্রতিবেদন এলেও বছরের পর বছর ধরে তা শাখায় পড়ে আছে। অথচ রিপোর্ট আসার পর দিনই কোন কোন আবেদন পেশ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কাজ দিচ্ছে প্রতিমন্ত্রীর পিএসের চিরকুট। এ রকম কয়েকটি চিরকুটে দেখা যায় মো. মনসুর আলম, মিয়া মো. খালেদ রাজু, মনিরুজ্জামান টুটুল, আসাদুজ্জামান, মাসুদ রানা, আশরাফুর রহমান ও মাকসুদুল ইসলামসহ কয়েক জনের ফাইল ওঠাতে প্রতিমন্ত্রীর পিএসের নির্দেশনা। এছাড়া সচিবালয়ে প্রবেশের পাস বাণিজ্যও মন্ত্রণালয়টিতে এখন জমজমাট। বিভিন্ন সাইনবোর্ডসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে আবেদন নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে হাজির হচ্ছেন। পাস দেয়ার জন্য চাপাচাপি করছেন। প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপিএস মো. সোহেল মিয়ার কোন কাজ নেই। সব ধরনের কাজ করছেন পিএস। এপিএসকে প্রতিমন্ত্রীর কাছাকাছি ঘেঁষতেও অনেকটা বাধা দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রেও কাজ করছে একটি চক্র।