বাংলাদেশি বিতাড়ন মন্তব্যে মোদীকে গ্রেপ্তারের দাবি মমতার

21972_momotaবিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : বারে বারে বাংলাদেশি বিতাড়নের কথা বলে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদী যেভাবে বাংলার মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছেন সেজন্য মোদীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রশ্নে তৃণমূল কংগ্রেসের মতই কড়া অবস্থান নিয়ে মোদীর বক্তব্য খতিয়ে দেখার জন্য নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে আবেদন জানিয়েছেন সিপিআইএম নেতা বিমান বসুও। গত রবিবার বাঁকুড়ার তামলিবাঁধ স্টেডিয়ামের জনসভায় মোদী ফের আরেক বার হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে আগত উদ্বাস্তুরা এ দেশে স্বাগত। কিন্তু অবৈধ অভিবাসীদের ফিরে যেতেই হবে। একই সঙ্গে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলে মোদী তৃণমূল নেত্রীকে এক হাত নিয়েছেন। গত সপ্তাহে শ্রীরামপুরের সভায় মোদী বলে গিয়েছিলেন, ১৯৪৭ সালের পরে যাঁরা ভারতে এসেছেন, তাঁরা বাক্স-প্যাঁটরা বেঁধে রাখুন। ১৬ মে-র পরে তাঁদের বাংলাদেশে ফিরে যেতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখনই মোদীর বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ তুলছিলেন। তবে রবিবার বাঁকুড়ায় জনসভায় মোদীর ফের আরেকবার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর এদিন সন্ধ্যায় কৃষ্ণনগরে এক জনসভায় মমতা ক্রুদ্ধভঙ্গীতে বলেন, বাংলার একটা মানুষের গায়ে হাত তুলতে দেব না! নির্বাচন কমিশনকে বলব, তাঁকে গ্রেপ্তার করুক। কোমরে দড়ি দিয়ে নিয়ে যাক! এই ব্যক্তি রাজনীতিতে শোভা পায় না! তৃণমূল নেত্রী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, আমি এখনও বলছি, একটা লোকের গায়ে হাত দিয়ে দেখুক। কে উদ্বাস্তু, কে অনুপ্রবেশকারী, তা তুমি বলার কে? এরা সবাই নাগরিক। বাংলাদেশের যুদ্ধের আগে এসেছে। বাংলার বাইরে থেকে এসে এ কথা কেউ বলতে পারেন না। মমতা জানান, তিনি কমিশনকে জানাবেন মোদীকে গ্রেপ্তার করার জন্য। তার কথায়, যে ঘৃণা ছড়াচ্ছে, হিংসায় উস্কানি দিচ্ছে, তাকে ইমিডিয়েট কোমরে দড়ি দিয়ে জেলে পাঠানো উচিত। আসামের বড়ো অঞ্চলে মুসলিমদের গণহত্যার ঘটনার জন্যও মমতা মোদীকেই দায়ী করেছেন। এদিকে সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক বিমান বসুও মোদীর কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে এসে মোদী যে ভাষায় কথা বলছেন, তা ভয়ঙ্কর! ওঁর বক্তব্য নির্বাচন কমিশনের খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তার অভিযোগ, কিছু ভোটের জন্য মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করছেন মোদী।