‘চোখের জল না ফেলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে’ : খালেদা জিয়া

21823_khবিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : অব্যাহত গুম-খুনের সঙ্গে সরকারের লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী জোট নেতা ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, সারা দেশে আজ মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। নারাায়ণগঞ্জ, নীলফামারী, সাতক্ষীরা, বগুড়াসহ এমন কোন জেলা নেই যেখানে খুনের ঘটনা ঘটেনি। এসব গুম-খুনের সঙ্গে সরকারের লোকজন জড়িত। তাই তাদের বিচার হচ্ছে না।  আজ বিকালে  জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত  গণঅনশনে  প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। বক্তব্য শেষে বিএনপি নেতাদের জুস খাইয়ে অনশন ভাঙান খালেদা জিয়া। বিকাল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅনশনে সংহতি প্রকাশ করেন তিনি। খালেদা জিয়া বলেন, চারিদিকে এখন রক্ত আর রক্ত। দেশের মানুষের চোখে শুধু পানি আর পানি। আমরা আর চোখের পানি দেখতে চাই না। চোখের পানি মুছার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে। একটি বিশেষ জেলার পুলিশ বেপরোয়া হয়ে গেছে অভিযোগ করে বিরোধী জোট নেতা বলেন, সরকার র‌্যাব-পুলিশকে দলীয় কাজে ব্যবহার করে ইমেজ নষ্ট করে ফেলেছে। আর একটি বিশেষ জেলার পুলিশ বেপরোয়া হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকার চিরদিন ক্ষমতায়  থাকবে না। তখন কোথায় যাবেন। সব কিছুর জবাবদিহি করতে হবে।  এরশাদকে জিয়ার খুনি আখ্যায়িত করে খালেদা জিয়া বলেন, জিয়া ও মঞ্জুরের খুনি এরশাদ। তার বিচার হবে। খালেদা জিয়া বলেন, বাইরে থেকে একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করা হয়েছে। সেই বাহিনী এখন দেশব্যাপী গুম-খুন করছে। এই বাহিনী র‌্যাব-পুলিশের চেয়েও শক্তিশালী। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সরকারের নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলেছেন, আমরা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) যদি ঘটনাস্থলে আগে যাই তাহলে আমরাও গুম হয়ে যেতে পারি। এই হলো বর্তমান দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। খালেদা জিয়া বলেন, সরকারের এসব অন্যায়-অত্যাচার থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে হবে। এজন্য সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামতে হবে। সরকারকে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে হবে। এর আগে সকাল ৯টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে অনশন শুরু করেন বিএনপি নেতারা। ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত এ গণঅনশনে দিনভর বিভিন্ন সংগঠন ও ১৯ দলের শরিক নেতারা সংহতি প্রকাশ করেন। ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে অনশনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, এম কে আনোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, শমসের মবিন চৌধুরী, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, শামসুজ্জামান দুদু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন,  সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিমুদ্দিন আলম, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার বিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, মহিলা দলের সভাপতি নূরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরীন সুলতানা প্রমুখ।