চরফ্যাশনে সাগরে ডুবে ৫০টি মহিষের মৃত্যুর আশংকা

Volaফরহাদ হোসেন, লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি :
ভোলার চরফ্যাশনের বঙ্গোপসাগর মহনায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচরের ম্যানগ্রোভ বাগান থেকে কোন প্রকার নোটিশ ছাড়ায় ২৫০টি মহিষকে সাগরে ভাসিয়ে বাসিয়ে দিয়েছে বনকর্মকর্তা। এতে সাগরে ডুবে প্রায় ৫০টি মহিষের মৃত্যুর হয়েছে বলে আশংকা করা এলাকাবাসি। এই ঘটনায় ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, বঙ্গোপসাগর মহনায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচরের ম্যানগ্রোভ বাগানে প্রায় ২৫০টি মহিষ প্রতিজোড়া বার্ষিক ৫০০ টাকা চুক্তিতে লালন পালনের জন্য বনে দেয়া হয়েছে। বন বিভাগ কোন নোটিশ ছাড়াই মঙ্গলবার দুপুরে বহিরাগত চর নিজামের শ্রমিকদের সহায়তায় চর আলম বাগান থেকে ২৫০টি মহিষ তাড়িয়ে সাগরে ভাসিয়ে দেয়। এসময় সাগরে ভাটার সাথে মহিষ গুলো বিভিন্ন দিকে চলে যায়। মহিষের মালিকরা মহিষ খোজ করে ২শ টি মহিষ জীবত উদ্ধার করলে ও এখনো ৫০টি মহিষের কোন সন্ধান পাইনি। তরে সাগরে ডুবে এসকল মহিষের মৃত্যুর হতে পারে বলে ধারণা করছেন মালিক পক্ষরা।

ঢালচরের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন আলল জানান, প্রতিজোড়া মহিষ বার্ষিক ৫০০ টাকা চুক্তিতে বনে দেয়া হয়েছে। বন বিভাগ কোন নোটিশ ছাড়াই মঙ্গলবার দুপুরে বহিরাগত চর নিজামের শ্রমিকদের সহায়তায় চর আলম বাগান থেকে মহিষ তাড়িয়ে সাগরে ভাসিয়ে দেয়। এসময় সাগরে ভাটা ছিল। ভাটার টানে উত্তাল ঢেউয়ের তোপে মহিষ গুলো হারিয়ে গেছে। কিছু মহিষ পাওয়া গেলেও গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫০টির মত মহিষের কোন হদিস এখনো পাওয়া যায়নি।

ঢালচরের ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম পাটওয়ারী জানান, গতকাল দুপুর পর্যন্ত সাগরের কুলে ৭টি মৃত মহিষের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সাগরে ভাসিয়ে দেয়ার পর এখনো ৫০টি মহিষের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে না পাওয়া মহিষ গুলো সাগরে ডুবে মারা গেছে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, বন বিভাগের হটকারীতায় বিপুল সংখ্যক মহিষের মৃত্যুর ঘটনায় মহিষ মালিকা ফুঁেস উঠার আশংকা করা হচ্ছে। যেকোন সময় মহিষ মালিকারা বন বিভাগের উপর চাড়াও হতে পারেন। এ সহিংসতার আশংকা বাড়ছে। সাগরে মহিষ ভাসিয়ে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে  ঢালচরের রেঞ্চ কর্মকর্তা হিরণ কান্তি শিং জানান, বারবার তাগিদ দেয়া সত্ব্যেও মহিষ মালিকারা বাগান থেকে মহিষ সরিয়ে নিচ্ছে না। নিরুপায় হয়ে বন বিভাগ মঙ্গলবার বাগান থেকে বেড় করে বিপুল সংখ্যক মহিষ বাগানের দক্ষিণ মাথায় সাগর কূলে রেখে এসেছে। মৃত মহিষ কুড়িয়ে পাওয়া প্রসঙ্গে রেঞ্জার বলেন, নানান কারণে মহিষের মৃত্যু হতে পারে।