তাড়াশে এক বছরে শতকোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি বেহাত

sirajganjসোহেল রানা,সলঙ্গা (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা সদরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে গত এক বছরে প্রায় একশতকোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি বেহাত হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র অবাধে সরকারি সম্পত্তি দখলে নিচেছ প্রকাশ্যে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ঘটনা ঘটছে। কিন্তু দেখার যেন কেউ নেই।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, কতিপয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে তাড়াশ উপজেলা সদরের হাসপাতাল গেট,গোডাউন মোড়,থানা গেট,সদর বাজার,উত্তর ওয়াপদা ও পশ্চিম ওয়াপদা বাধ এলাকার প্রায় একশতকোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলে নিয়েছে। এ নিয়ে প্রশাসনের কোন মাথা ব্যথা নেই। দখল করা সরকারি ওই জায়গাতে তারা ঘরবাড়ী,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও এনজিও অফিস নির্মানও করেছে অবাধে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ঘটনা ঘটলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরকারি জায়গার দখল নিয়ে ভূমিদস্যুদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষও হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভূমিদস্যুদের দখল করা জায়গাগুলো হাতবদলও হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে। কিন্তু এগুলো দেখার কেউ নেই। ফলে ভূমিদস্যুরা বেপরোয়াভাবে একের পর এক সরকারি সম্পত্তি দখল করে নিচ্ছে। এ ঘটনাগুলোর কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তার ওপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। যা নিয়ে ইতিপূর্বে পত্রিকায় সংবাদও ছাপা হয়ে ছিলো। পশ্চিম ওযাপদা বাধ এলকার ভূমিদস্যু সেলিম গং গত কয়েক দিন ধরে সরকারি সম্পত্তি দখলে নিতে সাধারণ মানুষকে নানা ভাবে হয়রানি করছে বলে এলাকাবাসি অভিযোগ দিয়েছে তাড়াশ উপজেলা ভূমি অফিসে প্রতিকার চেয়ে। তারা (সেলিম গং) গত এক বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি অবৈধ ভাবে দখলে নিয়েছে প্রশাসনের সহযোগিতায় মর্মে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এ অভিযোগ মানতে নারাজ সেলিম গং। এমনকি  তাড়াশ উপজেলা সদরের সরকারি অফিসও বেদখল হয়ে যাচ্ছে ভূমিদস্যু চক্র কর্তৃক। ঘটনাগুলো সঠিক ভাবে তদন্ত করলে প্রমান পাওয়া যাবে বলে সচেতন মহলের অভিমত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দখলদার জানান,আমরা যা করছি তা অবৈধ কিন্তু ভূমি ও অন্যান্য অফিসকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করেই তো করছি। উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ন সরকারি জায়গাগুলো দখল হওয়ায় জনস্বার্থও ব্যাঘাত ঘটছে চরম ভাবে। এলাকাবাসী জনস্বার্থে এ ঘটনাগুলো প্রশাসনকে জানালেও কোন প্রতিকার হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল। এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মুঠো ফোন না ধরায় এ বিষয়ে মতামত  নেয়া সম্ভব হয়নি। #