জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তরের কৃষি শ্রমিক যাচ্ছে দক্ষিনে

PIC-02বদরুদ্দোজা বুলু, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
প্রতি বছরে মুসলমানদের জন্য সর্ব বৃহৎ দু’টি ধর্মীয় উৎসব হয়। একটি ঈদুল ফিতর অপরটি ইদুল আযহা। তবে এটি কোন ঈদে ঘরে ফেরার দৃশ্য নয়। কিংবা বিশ্ব ইস্তেমা থেকে ফেরার দৃশ্য নয়। সংসারের অভাব অনটনের কারনে চিলাহাটি-খুলনাগামী রকেট মেইল ট্রেনে কৃষি শ্রমিকরা ছুটছে ওরা দল বেঁেধ। বাড়ীতে মা-বাবা, স্ত্রী পুত্রকে রেখে মাসখানেকের জন্য। ট্রেন ভেতরে পা রাখার মত কোন জায়গা নেই। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়ে যাচ্ছে রোজাগারের আসায়।

জানা গেছে, বৃহত্তর রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলার মানুষ ঠিক এসময় প্রতি বছরের ন্যায় এবছরেও কাজের সন্ধানে ছুটে যান দক্ষিনে। কোথাও কোথাও বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে আবার কোথাও কোথাও এক সপ্তাহের মধ্যে কাট মাড়াই শুরু হতে পারে। জলঢাকার বাজারের মঈনুল হক বলেন, গত বছর আক্কেপুরের যে বাড়ীতে কাজ করেছিল সেই বাড়ীর মালিকের মোবাইল ফোন নম্বর নিয়ে এসেছেন। ফোন করিছিতো তাই যেতে বলেছে। মঈনুলের দলের লোক সংখ্যা ৮জন। প্রতিদিন গড়ে তারা খরচ বাদে ৬ থেকে ৭ শত টাকা আয় করতে পারবে।  আর এতে তাদের সংসারের অভাব কিছুটা হলে পুরণ হয়।

আজ বুধবার সকাল সোয়া ১০টায় পার্বতীপুর রেল ষ্টেশনের ২ নম্বর পাটফরমে কথা হয় নীলফামারী জেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের ছাদেকুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে অর্থের আশায় শীরর খেটে রোজগার করতে যাচ্ছি। আমার সন্তানকে লেখাপড়া শেখামু ভাই। এভাবেই অনেকেই বলেছেন তাদের দুঃখ দূর্দশার কথা। তা ছাড়া এলাকায় কাজ না থাকায় তাই এ সময় তারা দলবেধেঁ উত্তরের কৃষি মজুররা ছুটে যাচ্ছে দক্ষিনে। দক্ষিন বলতে আক্কেলপুর, তিলকপুর, সান্তাহার, আদমদীঘি, আত্রাই, নওগাঁ, নাটোর প্রভৃতি এলাকায়।

অনুসন্ধান করে জানা যায়, নীলফামারী অঞ্চলের কৃষি শ্রমিকদের জন্য সহজ মাধ্যম হচ্ছে রেল পথ। এ সকল শ্রমিকেরা ২৪ ডাউন খুলনাগামী মেইল ট্রেন, ৩২ ডাউন উত্তরা এক্সপ্রেস, আন্তঃনগর সীমান্ত,বরেন্দ্র ও রুপসা ট্র্র্র্রেনে ভ্রমন করে থাকে। কৃষি শ্রমিকেরা জানান, দক্ষিনে কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে তাদের নিজ এলাকায়ও ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়ে যাবে। শাহীন হোসেন জানান, এখন আর কোন মানুষই বেকার বসে থাকেনা। ধান কাটা মাড়াই শেষ হলে রিক্সা ভ্যান চালিয়ে অথবা হাট বাজারে দোকান কিংবা ফেরি করেও জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।