নাটোরের শিকড় সন্ধানী কথা সাহিত্যিক শফীউদ্দিন সরদারের আশিতে পদার্পণ

NATORE-30.04.14-1শেখ তোফাজ্জ্বল হোসাইন, নাটোর প্রতিনিধি :
১ মে বৃহস্পাতিবার বরণ্য কথা সাহিত্যিক শফীউদ্দিন সরদার আশিতে পদার্পণ করলেন। ১৯৩৫ সালের এই দিনে তিনি নাটোর সদর উপজেলার হাটবিলা গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ১৯৫০ সালে মেট্রিকুলেশন পাশ করার পর রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে আইএ, বিএ অনার্স এবং এমএ ডিগ্রী লাভ করেন। পরে তিনি লন্ডন থেকে ডিপোমা-ইন-এডুকেশন ডিগ্রী লাভ করেন। নিজ গ্রামের স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে তিনি একে একে রাজশাহী সরকারী কলেজ ও সরদহ ক্যাডেট কলেজে অধ্যাপনা এবং বানেশ্বর কলেজ ও নাটোর রাণী ভবাণী সরকারী মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে শিক্ষকতা করেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তিনি প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবেও সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তার রচিত প্রথম সামাজিক উপন্যাস চলন বিলের পদাবলি দেশের কোন প্রকাশনা সংস্থা প্রকাশ না করায় তিনি আজীবন ঐতিহাসিক ও সামাজিক উপন্যাস রচনার সিন্ধান্ত নেন। সেই থেকে তিনি একে একে রচনা করেন রুপনগরের বন্দী, বখতিয়ারের তালোয়ার, গৌড় থেকে সোনারগাঁ, যায় বেলা অবেলায়, বিদ্রোহী জাতক, বারো পাইকার দূর্গ, রাজ বিহঙ্গ, শেষ প্রহরী, বারো ভূঁইয়া উপাখ্যান, প্রেম ও পূর্ণিমা, বিপন্ন প্রহর, সূর্যাস্ত, পথহারা পাখি, বৈরী বসতী, অন্তরে প্রান্তরে, দাবানল, ঠিকানা, ঝড়মুখো ঘর, অবৈধ অরণ্য, দখল, রোহিণী নদীর তীরে ও ঈমানদার এর মতো জনপ্রিয় ঐতিহাসিক উপন্যাস। এ ছাড়াও অপূর্ব অপেরা, শীত বসন্তের গীত, পাষানী, দুপুড়ের পর, রাজ্য ও রাজকন্যারা, থার্ড পন্ডিত, মুসাফির ও গুনাগার নামে বেশ কয়েকটি সামাজিক উপন্যাস বরই উপভোগ্য। তার রচিত ভ্রমন কাহিনীর মধ্যে ‘সুদূর মক্কা মদীনার পথে’ উলেখযোগ্য। কল্পকাহিনী সুলতানার দেহরক্ষী, রম্য রচনা রাম ছাগলের আব্বাজান, চার চাঁন্দের কেচ্ছা ও অমরত্বের সন্ধানে উলেখযোগ্য। শিশু সাহিত্য উলেখ করার মতো ভূতের মেয়ে লীলাবতী, পরীরাজ্যের রাজকন্যা ও রাজার মেয়ে কবিরাজ। গত দুই বছরে তিনি বখতিয়ারের তিন ইয়ার, রাজ নন্দিনী, লা-ওয়ারিশ, রূপনগরের বন্দী ও দ্বিপান্তরের বৃত্তান্ত নামে পাঁচটি বই লেখায় তার মোট লেখা বইয়ের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪২টিতে। আর কিছুদিন বেঁচে থেকে তিনি আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেখা লেখে যেতে চান। শফীউদ্দিন সরদার নিজে তার জন্মদিন পালন করতেই চান না তবে তার ভক্তরা ফুলের শুভেচ্ছা জানাতে বাড়িতে গেলে তিনি আবেগে আপুত হয়ে যান। কবি আল্ মাহ্মুদের ভাষায় ‘শফীউদ্দিন সরদার বাংলাদেশের সমকালীন সাহিত্যে এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। যিনি ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী মুসলিম বীরত্বগাঁথার মহান উপস্থাপক। তিনি আমাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত কথা শিল্পী। আমি উপন্যাসিক শিল্পীর একজন ভক্ত’। কবি আল্ মাহ্মুদের পছন্দের কথাশিল্পী আজও রাষ্ট্রীয়ভাবে তার কর্মের কোন স্বীকৃতি পান নাই যদিও তিনি সেই স্বীকৃতির জন্য লালায়িতও নন।