শ্রীবরদীতে স্বেচ্ছাশ্রমে “পল্লী সমাজের প্রি-প্রাইমারী বিদ্যালয়

Priprimari Schoolশাকিল মুরাদ, শেরপুর প্রতিনিধি : অবহেলিত গ্রাম গোবিন্দ্রপুর। এটি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার একেবারেই প্রত্যন্ত এলাকা। এখানে নেই কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যোগাযোগ ব্যবস্থাও নাজুক। শিক্ষার হারও একেবারেই কম। তাদের মধ্যে পিছিয়ে পড়া নারীরা এখন বুঝতে পেরেছে “শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই”। তাই ওরা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি শিশু শিক্ষার বিদ্যালয়। এটির নাম দিয়েছেন “পল্লী সমাজের প্রিপ্রাইমারী বিদ্যালয়”। এখানে ২৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীদের বয়স চার হতে ছয় বছর। প্রায় দু’মাস ধরে একজন শিক্ষিকা দিয়ে চলছে বিদ্যালয়টি। এ শিক্ষিকাও দিচ্ছেন স্বেচ্ছাশ্রম। পল্লী সমাজের এসব হতদরিদ্র নারীদের প্রত্যাশা তাদের কোনো শিশু যেন প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বাদ না যায়। এখন ওরাও স্বপ্ন দেখছেন আকাশ ছোঁয়া।
ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও গোবিন্দ্রপুর গ্রামের পল্লী সমাজের সভানেত্রী রোকশানা জানান, এ গ্রাম থেকে দুই তিন কিলোমিটার দূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়। যাতায়াতের কোনো রাস্তা নেই। গ্রামটিতে প্রায় তিনশ পরিবার। তার মধ্যে বেশিরভাগই হতদরিদ্র। তাই এ গ্রামে দরিদ্র লোকদের ছেলে মেয়েরা পড়া লেখর সুযোগ পায়না। এ জন্য প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় তাদের শিশুরা। তিনি আরো জানান, সম্প্রতি উপজেলার ভায়াডাঙ্গা ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচীর প্রতিনিধি আমিনুল ইসলামের পরামর্শে তারা এ উদ্যোগ নিয়েছে।
বিদ্যালয়টি যাতে বন্ধ না হয় এ প্রত্যয় ব্যক্ত করে পল্লী সমাজের সদস্যা স্বপ্না বেগম, মনোয়ারা পারভিনসহ অনেকে জানান, শিশুদের বই খাতা কলম ক্রয় করার জন্য তারা মাসে ২০/৩০ টাকা করে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এছাড়াও সরকারি, বেসরকারি ও এনজিওসহ বিত্ত্ববানদের প্রতিও সহযোগিতা কামনা করেন তারা। শিক্ষার্থীদের অনেক অভিভাবক জানান, এ বিদ্যালয়টি হওয়ায় তাদের ছেলে মেয়েরা পড়া লেখার সুযোগ পেয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান আবু রায়হান বলেন, স্বেচ্ছাশ্রমে বিদ্যালয়টি গড়ে ওঠেছে। এটি যাতে আরো ভাল ভাবে চলে এ জন্য আমরাও সহযোগিতা করবো। শিক্ষার আলোতে আলোকিত হোক গোবিন্দ্রপুর গ্রাম। এমন স্বপ্ন পল্লী সমাজের নারীরাসহ গ্রামবাসীদেরও।