নাটোরে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে গম সংগ্রহের কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন

NATORE- 29-4-14-1শেখ তোফাজ্জ্বল হোসাইন, নাটোর প্রতিনিধি   :
নাটোরে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে গম সংগ্রহের কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। জেলার বাগাতিপাড়া ও বড়াইগ্রাম ক্রয় কেন্দ্র থেকে এমন চিত্রই পাওযা গেছে। নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরকারীভাবে প্রতি কেজি ২৭ টাকা দরে মোট ১৩ শত ৫০ মেট্রিক টন গম কেনার লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। কৃষি কার্ডধারী কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি গম কেনার কথা থাকলেও বাস্তবে তার মিল নেই। খাদ্য গুদামে গম দেওয়ার জন্য যারা ভিড় জমাচ্ছেন তাদের বেশীর ভাগই সরকারী দলের লোক এবং ব্যবসায়ী। সরকার দলীয় নেতাদের ভাগ করে দেয়া স্লিপের মাধ্যমেই এসব গম দেয়া হচ্ছে। খাদ্র গুদামে গম দিতে এসে ফিরে যাওয়া কৃষকদের মধ্যে কয়েকজন জানান, সরকারীভাবে গম কেনার বিষয়ে তেমন কোন প্রচার নেই। উপজেলার বেশীর ভাগ কৃষক এ বিষয়ে অবগত নন। আর জানতে পেরেও লাভ নেই কারন যাদের দলীয় স্লিপ আছে তাদেরই সেখানে প্রধান্য বেশী। এ দিকে অফিস টাইমে গুদামে গম সংগ্রহের কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ সন্ধ্যার পরেও গুদামের গেট খুলে গম নেয়া হয়। এ ব্যপারে উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দূরুল হুদা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়মতান্ত্রীকভাবে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকেই গম সংগ্রহ করা হচ্ছে। গুদামের চাবি আমার কাছে থাকে। যেই তারিখে সন্ধ্যার পরেও গুদামের গেট খুলে গম নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে সেই দিন আমি চাবি সহ রাজশাহীতে ছিলাম। এদিকে বড়াইগ্রাম উপজেলায় ঘটছে ভিন্ন ধরনের ঘটনা। সেখানকার নটাবাড়ীয়া গ্রামের ইসমাইল ও শহিদুল  সহ অনেক কৃষক  গত কয়েকদিন  বনপাড়া খাদ্য গুদাম ও সোনালী ব্যংকে যাননি অথচ খাতা কলমে গমচাষী হিসেবে তাদের নাম রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই নাকি খাদ্য গুদামে গম বিক্রি করছেন। গত রোববার পর্যন্ত খাতা কলমে ৩৮৩ জন কৃষক বা সরবরাহকারী হিসেবে যাদের নাম এসেছে তাদের বেশীর গম বিক্রেতাকেই গত কয়েকদিনে বনপাড়া গোডাউনের আশেপাশে দেখা যায়নি। বনপাড়া খাদ্র গুদামে চলছে গম সরবরাহকারী সিন্ডিকেট দিয়ে। প্রায় তিন থেকে চারটি গ্রুপের সিন্ডিকেট গম সরবরাহ করছে বনপাড়া খাদ্য গুদামে। এদের অধিকাংশই চাউল ব্যবসায়ী, চাউল কল মালিক এবং সরকারদলীয় লোক। কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের লক্ষ্যে চাষী পর্যায়ে গম সংগ্রহের নির্দেশ থাকলেও বড়াইগ্রাম উপজেলায় ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গম কিনছে খাদ্য বিভাগ। সরকারি নিয়মে একজন কৃষক তার কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড জমা দিয়ে সর্বোচ্চ তিন টন গম ২৭ টাকা কেজি মূল্যে সরবরাহ করতে পারার কথা। বাজারে গম বিক্রি হচ্ছে ২২-২৪ টাকা কেজি দরে। ফড়িয়া এবং সিন্ডিকেট সদস্য ও মধ্যস্বত্বভোগীরা কম দামে বাজার থেকে গম কিনে সরকারের কাছে সরবরাহ করছে সরকার নির্ধারিত ২৭ টাকা কেজি দরে। বনপাড়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, গম কেনা হচ্ছে চাষীদের কাছ থেকে। ফড়িয়া কিংবা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গম কেনার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বনপাড়া খাদ্য কর্মকর্তা জানান, বনপাড়া পৌরসভা সহ সাতটি ইউনিয়ন থেকে মোট ২ হাজার ২৩০ মেট্রিক টন গম ২৭ টাকা কেজি দরে সংগ্রহ চলছে।  উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম বিশ্বাস  এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে এখনো কোন অভিযোগ আসেনি। কোন অভিযোগ এলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।