মনপুরায় মিঠা পানির খোজে লোকালয়ে ছুটে আসছে হরিন

Monpura horin pic -1মোঃ ছালাহউদ্দিন, মনপুরা(ভোলা)সংবাদদাতা : মনপুরার মেঘনায় লোনা পানির প্রভাব আর প্রচন্ড তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে বনের ঝাঁকে ঝাঁকে মায়াবি হরিন মিঠা পানির খোজে লোকালয়ে ছুটে আসতে শুরু করেছে। দ্বিকবিদিক হয়ে পথ হারিয়ে হরিনগুলো লোকালয়ে চলে এসে বেশীরভাগ হরিন-ই বেহাত হয়ে যাচ্ছে। বনবিভাগ লোকালয়ে আসা হরিনগুলোকে উদ্ধার করে বিভিন্ন বনে অবমুক্তি করেছেন বলে জানান। বিগত বছরগুলোতে এই সময়ে বনবিভাগ লোকালয়ে হরিন আসার ব্যাপারে ব্যাপক প্রচার প্রচারনা করে জনসাধারনকে সচেতনতা সৃষ্টি করলেও এ বছর তেমন কোন প্রচারনা দেখা যায়নি। ফলে মিঠা পানির খোজে আসা হরিনগুলো লোকালয়ের কোন বাড়িতে আশ্রয় নিলে বা মারা গেলে আইনি জটিলতার বা বিপদগ্রস্থ হওয়ার আশংকায় কেউ বন বিভাগের লোকজনকে খবর দিচ্ছেনা। দুর্বল এসব হরিন চিকিৎসা ও মিঠা পানির অভাবে অনেক সময় মারা যাচ্ছে।

মুল ভুখন্ড থেকে চ্ছিন্ন প্রায় ১০/১৫ টি চর নিয়ে মনপুরা উপজেলাটির অবস্থান। মূল ভুকন্ডের আলম নগর ছাড়াও প্রত্যেকটি চরে রয়েছে হরিনের বিচরন। বনবিভাগের আওতাধীন এসব চরে প্রায় ১০ সহ¯্রাধিক হরিন রয়েছে বলে স্থানীয়রা ধারনা করছেন। হরিনের বিচরনক্ষেত্র চরগুলো হলো কলাতলীর চর, ডালচর, জাগলার চর, বদনার চর, সোনার চর, চর শামসুদ্দিন, চর জামশেদ, চর মজুমদার(জংলার খাল), চর পিয়াল, চর পাতালিয়া এবং চরনিজাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া মূল ভূখন্ডের আলম নগরেই রয়েছে প্রায় ৫শতাধিক হরিন। উল্লেখিত চরগুলো থেকে প্রচন্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে আর মিঠা পানির খোজে প্রতিদিন হরিন লোকালয়ে আসছে। এছাড়া হাতিয়া উপজেলার নিঝুম দ্বীপ থেকেও বিশাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে মিঠা পানির খোজে আসছে বহু হরিন। এরই মধ্যে উপজেলার রামনেওয়াজ, কাউয়ারটেক, ফৈজুদ্দিনের ফকিরের হাট, ভূইয়ার হাট, হাজীর হাট, সোনার চর, চর যতিন, সাকুচিয়ার রহমানপুর, জনতা বাজারসহ বেশ কিছু যায়গা থেকে হরিন উদ্ধার করে প্রায় ১০/১৫ টি হরিন স্থানীয় চর মজুমদার(লালচর),পাতালিয়া,মাঝের ঘাট অবমূক্ত করেছে বলে দাবী করছে বনবিভাগ। এবছর বনবিভাগ কর্তৃক কোন ধরনের প্রচারনা না থাকায় লোকালয়ে ছুটে আসা হরিনগুলোকে স্থানীয় ছোট ছেলেমেয়েরা ধরার জন্য পিছনে পিছনে দৌড়ায়। এতে করে হরিনগুলো প্রচন্ড রোদ্রের তাপে ও পানির পিপাশায় দুর্বল হয়ে পড়ছে। এ পর্যন্ত বহু হরিন লোকালয়ে আসার খবর পাওয়া গেলেও ঠিক কয়টি হরিন এ পর্যন্ত অবমূক্ত করা হয়েছে তা স্থানীয়দের কাছে অজানাই রয়ে গেছে। স্থানীয়দের সাথে আলাপ করলে তারা বলেন, প্রতিবছর গ্রীস্মের এই সময়ে বনে পানির অভাব হয়। নদীর পানিও প্রচন্ড লবনাক্ত। ফলে হরিনগুলো বাঁচার তাগিদে মিঠা পানির খোজে লোকালয়ে ছুটে আসছে।

এব্যাপারে মনপুরা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম বলেন, মিঠা পানির খোজে লোকালয়ে আসা ১০টি হরিন  উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে (বনে) অবমুক্ত করেছি।আমরা হরিন বিচরনের বনবিভাগের বনগুলোর মধ্যে মিঠা পানি সংরক্ষনের জন্য গভীর পুকুর নির্মানের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।